ওলামাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে কেন ব্যবহার করা হয়?

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ০৩ ২০১৯, ২১:৫৩

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি

হুজি কী? হুজি’র অপরাধ কী? জঙ্গি কী জিনিস? জঙ্গি কারা? এগুলোর চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে হুজি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কেন নিউজ প্রচার করা হলো এবং আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার ছাত্রদের বিরুদ্ধে কেন হুজি সহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে প্রপাগান্ডা চালানো হয়?

আল্লামা মুফতী আমিনী রহ. বলতেন, যখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিশেষ মহল থেকে অতিমাত্রায় আওয়াজ তোলা হয় তখন বুঝে নিবে ইসলামের বিরুদ্ধে তারা বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। তারা জানে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে দেশের আলেম-ওলামা ছাত্র জনতা জেগে উঠবে। তাই আগে থেকেই আলেম-ওলামাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য এবং তাদের উপর খড়গ হস্ত সমপ্রসারণের পথ সুগম করার জন্যে জঙ্গি জঙ্গি খেলা শুরু করে।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে প্রচলিত সব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীন দলের অনেক সদস্যও অভিযুক্ত হয়েছেন এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার কারণে। তারপরেও আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে কেন ব্যবহার করা হয়?

একজন আলেমের বিরুদ্ধে যদি জায়গা দখলের অভিযোগ আনা হয় মানুষ বিশ্বাস করবে না। একজন আলেমের বিরুদ্ধে যদি ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার খবর প্রচার করা হয় মানুষ বিশ্বাস করবে না। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে কোন আলেমকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করলেও মানুষ মেনে নেবে না। সুদ ঘুষ খুন খারাবি, ধর্ষণ ইভটিজিং এর সঙ্গেও আলেমদের সম্পৃক্ত করা যায় না। তাই যেহেতু জঙ্গিরা সাধারণত ইসলামের কথা বলে আর আলেমরাও ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে সেহেতু কায়েমি স্বার্থবাদীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আলেম-ওলামাদের কে জঙ্গিবাদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে।

দেশের কতিপয় মিডিয়াকে শুধুমাত্র মিডিয়া বললে ভুল হবে। এগুলো মাফিয়া চক্রের হাতিয়ার। কালো টাকার মালিকেরা নিজেদের অবৈধ ধান্দা আড়াল করার জন্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে। ভূমিদস্যুরা দস্যুতা চালিয়ে যাবার জন্য মিডিয়ার আশ্রয় নিয়েছে, দেশের রাজনীতির উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য সাম্রাজ্যবাদীদের দোসর হিসেবে কাজ করছে। আর তারা মনে করছে তাদের হলুদ মিডিয়ায় একটা কিছু প্রচার হলেই মানুষ বিশ্বাস করে নেবে।

সর্বশেষ কথা হল, এতে ভীত হবার কোন কারণ নেই। বাতিল যত শক্তিশালী হোক না কেন হকের আঘাতে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ!