সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

অক্টোবর ২৯ ২০১৮, ০৩:১০

আল্লাহর রাসূল ছা. মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে আমিন বললেন।২য় সিঁড়িতে পা রেখে আমিন বললেন।আমিন বললেন ৩য় সিঁড়িতে উঠেও।তারপর খুৎবা শেষে নেমে এলেন। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ, এর আগে তো এমনটা কখনো বলেননি! যা আজ বললেন। আল্লাহর রাসূল ছা. বললেন, জিব্রাঈল এসে ছিল। মিম্বারে প্রথম সিঁড়িতে পা রাখতেই বললো ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি রমজান পেয়েও গুনাহ মাপ করাতে পারলো না।আমি বললাম আমিন।দ্বীতিয় সিঁড়িতে বললো ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, আপনার নাম শুনেও দরুদ পড়লো না।আমি আমিন বললাম।তীতৃয় সিঁড়িতে যখন উঠলাম, জিব্রাঈল বললো, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্ত তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)

আমরা আলোচনা করবো, দরূদ শরীফ নিয়ে।হাদীসে অনেক ধরণের দরুদপাঠের কথা বলা হয়েছে। যদি কেউ “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “বলে তাহলেও দরুদপাঠের ফজিলত পাবে। ছোট একটি বাক্য অথচ তার ফজিলত অনে–ক বেশি। কত বেশি? হ্যা আল্লাহর রাসূল তার পাক জাবানে বলেছেন,হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আম্‌র আ’স রা.থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার দরুন তার উপর দশটি রহমত (করুণা) অবতীর্ণ করবেন।”
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৪০৫

অন্যত্রে ইরশাদ হয়েছে,হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরূদ পাঠ করেছে।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৪৮৪

দরুদপাঠ খুব সহজ ইবাদত কিন্তু ফজিলত অনেক বেশি।কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই এই আমল করা যায়।বাড়িতে গাড়িতে, হাট-বাজার, ঘরে-বাইরে মোট কথা নাপাক জায়গা ব্যতীত সব খানে দাঁড়িয়ে বসে এই আমল করা যায়।আপনি জমিনে চাষ করছেন, তখনো দরুদপাঠ করা যাবে।গাড়ি চালাচ্ছেন, সমস্যা নেই, দরুদপাঠ করুন।বেশি বেশি দরুদপাঠের কারণে আন্তরে আল্লাহর রাসূলের মুহাব্বত বৃদ্ধি পায়।পেরেশানি দূর হয়।আন্তরে প্রশান্তি আসে।
হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমি হুজুর ছা.কে বললাম, আমি আপনার উপর দরুদপাঠ করি।আপনি যদি বলে দিতেন যে, কী পরিমাণ দরুদপাঠকে ওযিফা বানাবো।হুজুর ছা, বললেন,তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা, পড়তে পারো।আমি অল্প অল্প করে বাড়াতে লাগলাম।এক পর্যায়ে বললাম,সব ওযিফা ছেড়ে কি শুধু দরুদপাঠ করবো? হুজুর ছা. বললেন,তাহলে দরুদপাঠ তোমার সকল দুশ্চিন্তা দূর করার মাধ্যম হবে।এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
ইমাম শামী রহ. বলেন,রাসূলের শানে জীবনে একবার দরুদপাঠ করা ফরজ।এবং নাবীজির নাম শুনে প্রতিবার দরুদপাঠ করা ওয়াজিব।তবে মজলিস একটি হলে প্রতিবার দরুদপাঠ মুস্তাহাব।

হাদীসে দরুদপাঠের প্রতি উৎসাহ

হযরত আবূ হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে ক্ববরস্থানে পরিণত করো না এবং আমার ক্ববরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌছানো হবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪২

দরুদ না পড়ার ধুমকি

হযরত আবূ হুরাইরাহ্‌ রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তার নাক ভূলুন্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্ত সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভুলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ্‌ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্ত তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে কিংবা ‘‘যে কোন একজন’’ কথাটুকুও আছে।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৪৫

অন্য হাদীসে দরুদপাঠ না করাকে কৃপণা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে!

হযরত আলী ইবনু আবী ত্বালিব রা.
বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, প্রকৃত কৃপণ হল সে ব্যক্তি যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হবার পর আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯৩৩

দরূদপাঠ না করলে দুআ কবুল না হওয়া

হযরত উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রা. থেকে বর্ণিত,হুজুর ছা. বলেন, দুআ আসমান ও জমিনের মধ্যে লটকিয়ে থাকে। এর থেকে কিছুই উপরে উঠে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের নাবীর উপর দরূদ না পাঠাও।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯৩৭

অন্য হাদীসে আছে হযরত ফুযালাহ বিন ‘উবাইদ রা. বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির সলাত আদায় করার সময় শুনলেন যে, সে দু’আ করল বটে কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা করল না ও নাবীর প্রতি সলাত (দরুদ) পাঠ করল না। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লোকটি তাড়াতাড়ি করেছে। তারপর তিনি তাকে ডেকে বললেন-যখন তোমাদের কেউ সলাত আদায় করবে তখন সে প্রথমে আল্লাহর হামদ ও গুণগান পাঠ করবে, তারপর নাবীর উপর সলাত (দরূদ) পাঠ করবে, তারপর স্বীয় পছন্দমত দু’আ (নির্বাচন করে) পাঠ করবে।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৩১৬

জুমাবারে দরুদপাঠ
হুজুর (ছা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমা’র দিন আসর নামাযের পরে, কারো সাথে বাক্যালাপের আগে এই দরুদ ৮০ বার পাঠ করবে আল্লাহ তার ৮০ বছরের গুনাহ মাপ করে দিবেন।এবং ৮০ বছরের ইবাদতের ছাওয়াব তার আমল নামায় লিপিবদ্ধ করবেন।
اللهم صل علي محمدن النبي الامي وعلي اله وسلم تسليما
আল্লাহ তাআলা আমদেরকে বেশি বেশি দরুদপাঠ করা তৌফিক দান করুন।আমিন!

লেখক, শিক্ষার্থী, মেখল মাদরাসা,হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।