রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ : রিক্সা ভাড়া নৈরাজ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

আগস্ট ০৩ ২০১৮, ০৮:৪৮

মাহমুদ আবদুল্লাহ: ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম নিহত হওয়ার ষষ্ঠ দিনে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, তারা গত পাঁচ দিন ধরে ঠিকমতো বাস চালাতে পারছেন না। তারা মারধরের শিকার হচ্ছেন। হামলায় যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। রাজধানীতে বাস চলাচল না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীগণ।

শুক্রবার সকাল দশটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তবে সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করছে রিক্সা, সিএনজি চালকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীগণ। সকাল দশটায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রিক্সাচালকরা ৫০টাকার কমে যাত্রীদের নিচ্ছে না। ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা, ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা করেও নিচ্ছে রিক্সাচালকরা। এতে যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় অসংখ্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আবার অনেককেই হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

গত ২৯ জুলাই বাস চাপায় রাজীব ও দিয়া নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন করছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র চেক করেছে। মন্ত্রী, সাংসদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গাড়িও এই তল্লাশি থেকে বাদ যায়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছিল সরকার, তা কাজে লাগেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গতকাল ঢাকার রাজপথে আগের চার দিনের চেয়ে পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশিই ছিল। কেবল রাজধানীতেই নয়, গতকাল সারা দেশেই রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। আজ এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তেমন উপস্থিতি না থাকলেও রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।