মগবাজারে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, আহত অর্ধশত

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জুন ২৭ ২০২১, ২৩:৪৫

রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস গেট এলাকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কীসের বিস্ফোরণ হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঢাকার মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই পর্যন্ত তথ্য পেয়েছি যে এই ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন।’ তবে এই ঘটনার সঙ্গে কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, ‘বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমাদের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। তারা এখনো কাজ করছে।’

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে ভবনটির নিচ তলা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিকট কয়েকটি শব্দে মৌচাক এলাকার অনেক ভবনের গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়া তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসে থাকা প্রায় সব যাত্রী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মগবাজার ওয়ারলেসের উল্টো দিকে একটি তিন তলা ভবনের নিচ তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভবনটির নিচে এসি, গ্যাসের সিলিন্ডার ও ট্রান্সফরমার ছিল।

ভবনে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শাহাদত আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি মনে করেছি আমাদের এখানে এসি বিস্ফোরণ অথবা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই বিস্ফোরণ তা জানা যাচ্ছে না।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল হোসেন বলেন, ‘এমন ভয়াবহ শব্দ জীবনেও শুনিনি, মনে হয়েছে ভবনটা কেঁপে উঠল। বিস্ফোরণের শব্দে ভবনের কাচ ভেঙে পড়তে শুরু করে।’

শফিক নামে একজন পথচারী বলেন, ‘ হঠাৎ করে বিকট শব্দে আঁতকে উঠি। চোখের সামনে তাকিয়ে দেখি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কখনো এই ধরনের বিস্ফোরণ দেখিনি। জীবনে এমন ভয়ংকর কিছু এভাবে কাছ থেকে দেখিনি। অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে।’