‘নির্লজ্জ’ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জুলাই ০৩ ২০২১, ১৮:৫২

দেশের স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম ও করোনাকালে চিকিৎসায় ব্যাপক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে সংসদে। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্লজ্জ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

শনিবার (৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই দাবি উঠে।

আলোচনার সূত্রপাত ঘটান বিএনপি মনোনীত বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মুহাম্মদ সিরাজ। তিনি বলেন, বগুড়া এখন করোনার হটস্পট। গত তিন দিনে সেখানে ২৪ জন মারা গেছেন। সেখানে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সংকট। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই। জেলার তিনটি কোভিড হাসপাতালে করোনা রোগীতে ঠাসা।

পরে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজি বলে, সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম—স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন—এটি সত্য নয়। এজন্য আজকে আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে, দুদকে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার তদন্ত করা উচিত ছিল। তাই আমার দাবি—এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।

একই দলের কাজী ফিরোজ রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, জিজ্ঞেস করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন—সব দিচ্ছি। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যদেরকে দায়িত্ব দিলে, অর্থ দিলে আমরা সবকিছু ঠিক করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর দায়িত্ব নয়। দায়িত্বে যারা আছেন, তারা তো দু’দিন পরে চলে যায়। জবাবদিহিতা তো তাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে ৭ জন কোভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন। আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের বাড়ি সেখানে। সেখানকার হাসপাতালটি ফাইভ স্টার মানের হওয়া উচিত ছিল। মন্ত্রী যান, মন্ত্রী আসেন। কিন্তু নিজের এলাকাটাও ঠিক রাখতে পারেন না।

জাতীয় পার্টির এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, কোভিড চিকিৎসার সময় নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনন্দে আত্মহারা হয়ে একটি কিস (চুমু) করার কারণে তাকে রিজাইন (পদত্যাগ) দিতে হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কি মানুষ! বুঝলাম না। উনার লজ্জা-শরম কিছু নাই। চরিত্র নেই। উনার রিজাইন দেয়া উচিত।

 

বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, উনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) বলেছেন—আপনারা তো হাসপাতালের চেয়ার। মেশিন চলে না, লোক লাগবে এগুলো তো আপনাদেরকে দেখতে হবে। কিন্তু আপনারা তো দেখেন না। নার্স, ডাক্তার যন্ত্রপাতি লাগলে আপনাদেরকে বলতে হবে। অভিযোগ দিলে তো হবে না। এগুলোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আপনাদের বলতে হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তায়। উনার বক্তব্যে মনে হচ্ছে—কোনো এমপিই দাযিত্ব পালন করেন না। অথচ আমি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগের জন্য উনার দফতরে গিয়েছি। এই বক্তব্য আপত্তিজনক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোটা হাউসকে অপমান করেছেন। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া দরকার।