মাওলানার মোকাবেলায় ইমরান খানের ভরসা এখন সেনাবাহিনী!

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

নভেম্বর ০৫ ২০১৯, ১৪:০৯

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের পতনের দাবিতে রাজপথে নেমেছে লাখো জনতা। ‘আজাদ মার্চ’ নামে ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ইমরান খানের পদত্যাগ এবং পুনরায় নির্বাচন দাবিতে বেঁধে দেয়া দুদিনের (৪৮ ঘণ্টা) আলটিমেটাম শেষে রোববার নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।

গতকাল সোমবার দুপুরে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনায় বসে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো। এ নিয়ে ক্রমেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানজুড়ে।

এই গণআন্দোলন কার্যত অচল করে দিয়েছে দেশটির সরকার ব্যবস্থা। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ইমরান খানের চেয়ার।

এদিকে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনভাবে উপকৃত হয়েছেন মাওলানা ফজলুর রহমান।

(১) তিনি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক ভঙ্গুরতা দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

(২) নড়বড়ে বিরোধী দলের জায়গা থেকে তিনি নিজেকে বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতার জায়গায় আসীন করতে পেরেছেন।

(৩) সেনাবাহিনী কর্তৃক তাকে সাধারণ রাজনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করার যে প্রয়াস সেটার প্রতি যথোপযুক্ত জবাব দিতে পেরেছেন বলে মনে হচ্ছে।

মাওলানা ফজলুর রহমানের এই অর্জনগুলোর কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ইমরান খান সরকারের বৈধতা ও কার্যকারিতা। এ কারণে চড়া মূল্যও দিতে হতে পারে ইমরান খানকে।

যদিও এই আন্দোলনের কারণে এখনই ক্ষমতাচ্যুত হওযার পরিস্থিতে পড়েননি ইমরান খান। তবে তার সরকারে টিকে থাকার বিষয়টি এখন প্রায় পুরোটাই নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর ওপর।

এদিকে পার্লামেন্টের স্পিকার রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছেন। আর সরকার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ব্যতীত অন্য সব দাবি মেনে নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপে বসায় সম্মতি দিয়েছে। এদিকে দেশটির সেনাবাহিনী গতকাল আবারো সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা। আর দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা হচ্ছে আসলে সেনা প্রধান। এমন একটি কথা পাকিস্তানে প্রচলিত আছে।

এটাও বলা হয়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি আর প্রতিরক্ষা নীতি ঠিক হয় সেনা সদর দফতরে, সেখানে বেসামরিক প্রধানমন্ত্রীর কোন এখতিয়ারই নেই। পাকিস্তানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। যখনই পাকিস্তানে কোন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থেকেছে, সেটা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, তাদেরকে একটা আপোস বা সমঝোতা করতে হয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে। এই আপোস-রফা রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত ক্ষমতায় গিয়ে করেন।