বিএনপি সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

নভেম্বর ৩০ ২০১৯, ১৫:৪৬

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির শাসনামলে তারা সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। একদিকে হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম ছিল। সরকারের মধ্যে আরেক সরকার ছিল হওয়া ভবন। তাদের অত্যাচারের স্টিম রোলার সবার ওপর চলেছে, হওয়া ভবন খুলে লুটপাট করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন বিএনপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন বা নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে- তাদের আমি এটাই মনে করিয়ে দিতে চাই যে তাদের নেতা জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ/না ভোট এবং তার যে নির্বাচন অথবা ৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। কেমন নির্বাচন তারা করেছিল। সেখানে কোথায় ভোটার, কোথায় নির্বাচন। জনগণ তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। ঠিক তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল জেনারেল এরশাদ।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের উপকার হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের জন্য কাজ করে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে। আমাদের লক্ষ্যই হলো মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। আমরা দেশকে উন্নত করতে কাজ করছি।

সরকারপ্রধান বলেন, এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল মানুষের মুক্তির জন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের দিকে তাকান নাই, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে একটা আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতাকে সপরিবারের হত্যা করার পর হত্যাকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়েছিল। জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক পদক্ষেপ তখন জিয়া সরকার নিয়েছিল। তখন দেশ রক্ষার্থে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো ভূমিকা রেখেছে।

এ সময় তিনি তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরেন দেশের সরকারপ্রধান।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।

এ দিন বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নাম ঘোষণা করা হবে। মহানগরীর সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কাউন্সিলর এবং প্রায় তিন হাজার ডেলিগেট সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ।

প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নগরীর দুই শাখার নবনির্বাচিত নেতাদের নাম ঘোষণা করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।