৫০ লাখ পরিবারের চাল কিনতে ৮৭৫ কোটি টাকা দিলো সরকার

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ২৩ ২০২০, ১৯:১১

নূরুজ্জামান সরকার নীহার বকুল;

৫০ লাখ পরিবারের চাল কিনতে ৮৭৫ কোটি টাকা দিলো সরকার ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল পাচ্ছেন সারাদেশে এমন সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫০ লাখ।

নতুন করে আরও ৫০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে মাঠ পর্যায়ে। নতুন করে যুক্ত করা এই ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ১০ টাকা কেজি দরের চাল সহায়তা দিতে ৮৭৫ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে সম্প্রতি এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,বৈশ্বিক এই মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন রেশন কার্ড পাওয়া পরিবারে সরবরাহের জন্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে দুই লাখ টন চাল সংগ্রহ করবে। এজন্যই মূলত এই ৮৭৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে বেকার হয়ে পড়া নিম্নবিত্ত, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দিতেই নতুন করে ৫০ লাখ পরিবারের জন্য রেশন কার্ড চালু করে তাদের ১০ টাকা কেজিতে ওএমএসের চাল দেবে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৪ অথবা ২৫ এপ্রিল থেকেই শুরু হচ্ছে রোজা। সরকার রোজা শুরুর আগেই এ কাজটি সম্পন্ন করতে চায়। আসন্ন রমজান শুরুতেই নতুন করে ৫০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। তাই এ কর্মসূচিতে নতুন করে আরও ৮৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কর্মসূচির আওতায় এর আগে ৫০ লাখ পরিবার সুবিধাভোগী হিসেবে রেশন সুবিধা তথা ১০ টাকা কেজিতে চাল পেয়ে আসছে সেটাও বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনার প্রভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এমন পরিবারের নামে, বিশেষ করে যাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কোনও কার্ড নেই এমন দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের তালিকা করে কার্ডের মাধ্যমে ওএমএসের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি কর্মসূচিটি চলাকালে চাল বিতরণে চুরি ও আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমানে কর্মসূচিটি স্থগিত করেছে সরকার।

তবে এক অনুসন্ধানে দেখা যায় যে,বর্তমানে যে সকল ডিলারের মাধ্যমে চাল বিতরন করা হচ্ছে তাদের কাছে রক্ষিত সে তালিকাটি যাচাই বাছাই করা দরকার,কারণ তালিকায় অনেক মৃত মানুষের নাম আছে,অনেক ধনাঢ্য ব্যাক্তিও তালিকায় আছে যাদের নীতিমালা অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা যায়না। এমনকি ভুয়া নামের ছড়াছড়ি, তাই খাদ্য সহয়তা দেবার সময় যদি ট্যাগ অফিসারের সাথে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পর্যবেক্ষক হিসেবে তাহলে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা বেচে যাবে যা দিয়ে আরও অনেক অসহায় পরিবারকে সহয়তা প্রদান করা যাবে। বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চমহল বিভেচনা করবেন বলে আশা করি।অন্যথায় এ সেক্টরে দুর্নীতি রয়েই যাবে।নতুন আরো ৫০ লাখ পরিবারকে সহয়তা করার সিদ্ধান্ত জনগণের মাঝে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরো বেগবান করেছে।তবে যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছত্ব আনতে হবে।