হেযবুত তওহীদের মুখোশ উন্মোচন (পর্ব ১)

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জুন ২৭ ২০১৯, ২১:৩৪

মুফতি মাহদি হাসান কাসেমি

প্রিয় পাঠক! হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে আলোচনা শুরুর পূর্বে তার প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান লিডার সম্পর্কে জেনে নেয়া আবশ্যক। কারণ যখনই আমরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা লাভ করবো, তখন প্রত্যেকেই তাদের স্ব স্ব স্থান থেকে তাদের অবস্থান ও ধর্মীয় জ্ঞান সম্পর্কে অবগত হতে পারবো এবং তাদের হাতে একটা ধর্মীয় ফিরকার আত্মপ্রকাশ ঘটলে কতটুকুন শুদ্ধ হতে পারে, সেটাও অনুধাবন করতে পারবো।

হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠার নাম বায়জীদ খান পন্নী। যিনি ১৯২৫ সালের ১১ই মার্চ টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয় রোকেয়া উচ্চ মাদরাসায়। সেখানে দু’ বছর পড়ার পর এইচ এম ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৪২ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর সাদাত খান কলেজে কিছুদিন পড়াশুনা করে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে প্রথম বর্ষের পড়া শেষ করে কলকতা ইসলামিয়া কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হন। আর সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক সমাপ্ত করেন।

তিনি ছিলেন একজন সেক্যুলার রাজনীতিবীদ। একজন বন্য পশু শিকারী ও হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। তার পোষা প্রাণীই ছিলো একটা চিতাবাঘ। ১৪/১৫ বছর বয়সে গোড়াই নদী থেকে একটি কুমিরও শিকার করেন তিনি।

১৯৯৫ সালে তিনি হেযবুত তওহীদ নামক একটি সংগঠন তৈরী করে সংগঠনের ইশতেহার প্রকাশ করেন। যেখানে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ ও প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদে শারীরিক শক্তিপ্রয়োগকে বাধ্যতামূলক করেন। এমনকি মানবসৃষ্ট আইনকে প্রত্যাখান ও নির্মুল করার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কট্টর জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দলরূপে আত্মপ্রকাশ করেন। ফলে বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে কালো তালিকাভূক্ত হয়। (দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫)

এমনকি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে তাদের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত দৈনিক দেশের পত্র ও বজ্রশক্তিকে জনগণকে না পড়ার জন্য নির্দেশ জারি করেন। (দৈনিক মানবজমিন- ২৯ ডিসম্বর ২০১৪)

তারা তাদের নিজস্ব মতধারার বাইরে সকলকেই অমুসলিম বলে গণ্য করে। তাদের আকীদা ও বিশ্বাস হলো, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের ষাট-সত্তর বছর পর ইসলাম ধর্ম বিকৃত হয়ে যায়। পরবর্তীতে বায়েজীদ খান পন্নীকে আল্লাহ তায়ালা মোজেযার মাধ্যমে ইমামত ও আসল ইসলামের সন্ধান দিয়েছে। (আগামি পর্বগুলোতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখবো ইন শা আল্লাহ)

বায়েজীদ খান পন্নী ৪৪ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে প্রথম বিবাহ করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম স্ত্রী ইন্তেকাল করলে ১৯৯৯ নিরানব্বই সালে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। যাদের থেকে মোট ২ ছেলে ও ২ মেয়ে জন্মগ্রহণ করে।

২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর তারই স্থলাভিষিক্ত হয় একসময়ের নোয়াখালির সোনামুড়ির স্থানীয় শিবির নেতা হুসাইন মুহাম্মাদ সেলিম।

হুসাইন মুহাম্মাদ সেলিম ১৯৭২ সালের ২৮ নভেম্বর সোনাইমুড়ি থানার পোরকরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। তার শিক্ষাজীবন স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৮৯ সালে পার্শ্ববর্তী বিপুলাসার আহম্মদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করে। লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এইচ.এস.সি এবং একই কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে। পড়ালেখা শেষে সে ব্যবসা আরম্ভ করে। ১৯৯৯ সালে বায়েজীদ খান পন্নীর সংস্পর্শে এসে তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্ম পোষণ করে হেযবুত তওহীদে যোগ দেয় এবং বায়েজীদ খান পন্নীর ইন্তেকালের পর সে দলের কথিত এমামের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

প্রিয় পাঠক, তাদের উভয়েরই সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পড়ে কি আপনার মনে হয় যে তারা ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান রাখে বা ইসলাম নিয়ে তাদের কোন একাডেমিক পড়াশুনা আছে? তো তাদের হাতে একটা ইসলামি ফিরকা কীভাবে গঠিত হয়! যদি হয়ই, সেটা কুফুরি ফিরকাই হতে পারে। সমস্ত নবী-রাসূলগণই তো ছাগল চড়িয়েছিলেন, আর বায়েজীদ খান পন্নীর শিকারই ছিলো সব হিংস্র প্রাণী। যার মাধ্যমে আল্লাহ ও তার রাসূলের ইসলাম দীর্ঘ বিকৃতির পর পুনর্জন্ম লাভ করবে, তার ভেতর তো প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে নবী-রাসূলদেরই আদর্শ হবে, নাকি হিংস্র প্রাণীর! কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তার ভাষ্যই হলো নবী-রাসূলগণ যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে সে সফল! (নাঊযু বিল্লাহ)

সম্পাদনা: ইলিয়াস সারোয়ার