হাইয়াতুল উলয়ায় লালখান মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেন হারুন ইজহার

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মার্চ ১৭ ২০১৯, ১৬:৪৫

একুশে জার্নাল ডেস্ক: আল হাইয়াতুল উলয়ায় লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ‘র এক বৈঠকে চট্টগ্রামস্থ লালখান বাজার মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতী হারুন ইজহার ৷

জানা যায়, জমহুর উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে গিয়ে মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী দিল্লির বিতর্কিত মাওলানা সা’দকে সমর্থন করে চিঠি দেয়ার কারণে তার দায়িত্বে পরিচালিত মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত করা হয় ৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখা এক স্ট্যাটাসে তার পুত্র ও একই মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতী হারুন ইজহার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান ৷ তার প্রতিবাদী স্ট্যাটাসটি ছিল নিম্নরূপ-

“কওমী সংস্থাগুলো কি কারো পকেট কমিটি? আল্লাহতালা জালেমদের পাকড়াও করুন আমীন!
আমরা জানি কোথায় থেকে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে।

জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া লালখান বাজারের কোন ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ী মাওলানা সা’দ সাহেবের কখনো অনুসারী ছিল না। আমরা মূলধারার ওলামাদের সঙ্গে আছি আদর্শিক ও ঐতিহ্যিক কারণে।

আমার আব্বার কিছু বক্তব্য একান্ত তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, এটার সাথে আমাদের কোন যোগসূত্র নেই এবং গত সপ্তাহে সা’দ সাহেবের অনুসারীরা আমাদের মাদরাসার মাহফিলকে প্রভাবিত করতে চাইলে আমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা স্থগিত করি।

আমাদের এরকম সুস্পষ্ট অবস্থান সত্ত্বেও এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এহেন ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্তের পিছনে বাতিল শক্তির চক্রান্ত রয়েছে সন্দেহাতীতভাবে।

আমাদের সাথে কোনরকম যোগাযোগ ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক ধারার আওতায় কি পড়ে?
কওমী মাদরাসা ও সংস্থাগুলো আর কত বছর এভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠিবিশেষের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে?
অসংখ্য অযোগ্যদেরকে বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত করে কেন কওমী প্রজন্মকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে?
আল্লামা আহমদ শফির সাথে শীর্ষ আলেমদের (যারা হাটহাজারী মাদরার ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট ফুজালা) দূরত্ব তৈরী করে আনাড়ি অপরিণামদর্শী চক্র কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে?

আমি প্রতি মাসে প্রায় একডজন হেফাজতের মামলায় হাজিরা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। কোন একদিন তারা আমাদের, আহতদের, শহীদ পরিবারগুলোর খবর নিয়েছে? ওরা নাকি কওমীর অভিভাবক? ওরা নাকি দেওবন্দের পতাকাবাহী?

অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হবে, নিরীহ তালিবুল ইলমরা পরীক্ষা দেবে এবং লালখান বাজার মাদরাসায় পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে। অন্যথা ইনশাআল্লাহ আমারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করব।
সকলের সুমতি হোক। মুসলমানের ঐক্য অটুট থাকুক। আমীন।”