স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে প্রতি ঘন্টায় ঘুম কমে ১৫ মিনিট!

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ১২ ২০১৮, ১৩:৪৯

বর্তমান প্রজন্মের জীবন পাল্টে দিয়েছে স্মার্ট ডিভাইস। ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত স্মার্টফোন-ট্যাবলেট জাতীয় স্মার্ট ডিভাইসের সংস্পর্শে থাকে অধিকাংশ মানুষ। খাবার টেবিল, পরিবহন, টয়লেটেও এসব ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারেন না স্মার্ট ডিভাইসে আসক্ত ব্যক্তিরা। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন-মানের উন্নতি হচ্ছে- এমনটা সাধারণ দৃষ্টিতেই দেখা যায়। ঘরে বসে স্মার্ট ডিভাইসের সাহায্যে অনেক কাজ করা যায়। বর্তমানে এর সাহায্যে আয়-রোজগার করছে- এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে কম নয়। স্মার্ট ডিভাইস আমাদের জীবনে শুধু ইতিবাচক পরিবর্তন করে- তা নয়। জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার জন্যও দায়ী ডিভাইসগুলো। সম্প্রতি এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট নিয়ে বেশি সময় কাটায় এমন শিশুরা অন্য শিশুদের তুলনায় কম ঘুমায়। মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেটের টাচস্ক্রিন ব্যবহারে প্রতি ঘণ্টায় ঘুম কমে ১৫ মিনিট। গবেষকেরা বলছেন, এসব ডিভাইস থেকে নীল রঙের এক রকম আলো বিচ্ছুরিত হয়- যা মানুষের ঘুমানোর ক্ষমতা নষ্ট করে। মূলত এ কারণেই শিশুদের ঘুম কমে যায়। তবে এসব শিশুর শরীরের পেশী নাড়ানোর দক্ষতা বাড়ে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ৩ বছরের কম বয়সী ৭১৫ জন বাচ্চার মা-বাবার ওপর গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, স্মার্ট ডিভাইস আসক্তি শিশুদের রাতের ঘুম কমে যায়। তবে দিনের বেলায় তাদের ঘুম বাড়ে। গবেষক দলের সদস্য ডা. টিম স্মিথ বলেন, শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য প্রতি মিনিটের ঘুম ভীষণ জরুরি। ঘুম ঠিক রাখতে বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন কম দেওয়া উচিৎ। আর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শারীরিক কসরত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের ঘুম কমে যাচ্ছে- এমন প্রমাণ পাওয়া গেলেও বড়দের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেমন হয়- তা এখনও জানা যায়নি।