সৌদির সঙ্গে মতবিরোধের কথা প্রত্যাখ্যান করলেন ইমরান খান

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

আগস্ট ২০ ২০২০, ১২:৩৮

দীর্ঘদিনের মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার কথা এবার অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মিডিয়ায় এ ধরনের খবর প্রচারকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক খুবই ভালো রয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাক সম্প্রচার মাধ্যম দুনিয়া নিউজ চ্যানেলকে বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রিয়াদ সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ বৈঠক আহ্বান করতে রিয়াদের ওপর চাপ প্রয়োগের পর পাকিস্তানে একটি ঋণ এবং তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি যুবরাজের পাকিস্তান সফরের সময়ে ৬২০ কোটি ডলারের ঋণ ও তেল সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

যদিও ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক ডাকতে ইসলামাবাদ রিয়াদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে ওই চুক্তি বাতিলের কথা জানায় সৌদি আরব। এই ঘটনাকে দুই পুরনো মিত্রের সম্পর্কের অবনতির নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন অনেকেই।

চলমান বিরোধের মধ্যে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) একদিনের সফরে রিয়াদে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিবৃতির মাধ্যমে এই সফরকে সামরিক বিষয় সংক্রান্ত বলে দাবি করে। যদিও সেনাবাহিনী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে জানিয়েছেন, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে মতবিরোধ নিরসন করা।

পাক সেনাপ্রধানের রিয়াদ সফরের পরদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার যে গুজব শোনা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমরা সবসময়ই যোগাযোগ রাখছি।

ইমরান খান আরও বলেন, আমরা মনে করি কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসি’র আরও ভূমিকা রাখা উচিত। সৌদি আরবের নিজস্ব বৈদেশিক নীতি রয়েছে। ফলে আমরা বললেই সৌদি আরব কিছু একটা করে ফেলবে সেটা ঠিক নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর উপত্যকা ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে ভারতের সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে না সৌদি আরব। তাই এমনটা ঘটছে।