সাতক্ষীরায় ৪৮ মেট্রিক টন সরকারি গম বিক্রয়কালে ৩ জন আটক

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

মে ২৯ ২০২০, ১৩:৫৫

গাজী আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৪৮ মেট্রিক টন সরকারী গম বিক্রয় এর ঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার ০৫ নং কৈখালী ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার সহ ৩ জনকে আটক করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ।

আটকৃতরা হলেন, কালিগঞ্জের পূর্ব নলতা শানপুকুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (২৮), পিতা- আব্দুল গফফার, দেবহাটার আস্কারপুর গ্রামের মোজাহিদুল আলম মুকুল (২৪) পিতা- ইদ্রিস আলী এবং শ্যামনগরের কৈখালীর পরানপুর গ্রামের ইউপি সদস্য পবিত্র কুমার মন্ডল (৪৭), পিতা- উপেন্দ্র নাথ মন্ডল।

পুলিশ পক্ষ থেকে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকালে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামস্থ মেসার্স মনিমুক্তা রাইস মিল হতে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত আনুমানিক ৪৮ মে. টন অবৈধ গম (খাদ্যশস্য) উদ্ধার করা হয়। উক্ত গমের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫০ টাকা। উক্ত রাইস মিলের মালিক ১ নং আসামী মোঃ মনিরুজ্জামান মনির পিতা আব্দুল গফ্ফার (৫০)।

ঘটনা সূত্রে পুলিশ আরো জানায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার(কাবিখা)’র ২য় পর্যায়ের কর্মসূচীর আওতায় সাধারণ ৯নং প্রকল্পের গম (খাদ্যশস্য) অবৈধভাবে পাচার করে মেসার্স মনিমুক্তা রাইস মিলের মালিক ও তার অজ্ঞাত সহযোগিরা পরস্পর যোগসাজসে মিলের গুদামে গুদামজাত করে রাখে। উক্ত সরকারি প্রজেক্টের খাদ্য শস্য অবৈধভাবে পাচার ও গুদামজাতকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সর্বমোট আনুমানিক ৪৮ মে.টন গম (খাদ্য শস্য) উদ্ধারপূর্বক হেফাজতে গ্রহণ করে।

এ ঘটনায় পরষ্পর যোগসাজসে জালজালিয়াতি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি গম (খাদ্য শস্য) আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে উক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায় ঘটনাটি দূনীতি দমন কমিশনের তফশীলভুক্ত হওয়ায় আসামীদেরকে প্রাথমিকভাবে কালিগঞ্জ থানার সাধারণ ডায়েরী নং-৯২৫, তারিখ-২৮/০৫/২০২০খ্রিঃ ধারা-ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ৫৪ মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা আসামীদের বিরুদ্ধে দূনীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), খুলনা (সাতক্ষীরা) এর মামলা নং-১১, তারিখ-২৮/০৫/২০২০খ্রিঃ ধারা-দঃ বিঃ আইনের ৪০৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১/ ৪৭৭(ক)/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) রুজু করেন এবং মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। মামলাটি বর্তমানে দুদক, খুলনার নিকট তদন্তাধীন রয়েছে

এদিকে উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৈখালী ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, এলাকার অনেক মানুষ মনে করেন এত বড় একটা ঘটনা মেম্বারের পক্ষে একা করা সম্ভাব না। পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ব্যাক্তিরা এর সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। এ বিষয়ে জোর তদন্ত করা হোক। এ ব্যাপারে কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐ প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ওই মেম্বার, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। ঘটনা যা-ই হোক সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।