সন্তু লারমার সন্ত্রাসীরা বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়েছে: দীপংকর মহাথের

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মে ১৮ ২০২০, ২০:০০

ইমাম হোসাইন কুতুবী, রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ধুপশীল ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র তথা বৌদ্ধ বিহারটি পিসিজেএসএস এর নেতা সন্তু লারমার সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিহারটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. এফ দীপংকর মহাথের (ধুতাঙ্গ ভান্তে)।

সোমবার (১৮মে) দুপুরে রাঙামাটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান তিনি।

দীপংকর মহাথের বলেন, গত ১৫ই মে শুক্রবার দিনগত রাতে সন্তু লারমার সন্ত্রাসীরা ধুপশীল ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র তথা বৌদ্ধ বিহারটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অতীতে ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে জুরাছড়ি উপজেলার নির্বাণগুহা থেকে রাতের অন্ধকারে আমাকে স্থান ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হয়। জেএসএস এর কেন্দ্রীয় নেতা ভিক্টর চাকমা প্রধান সেবক শুক্রসেন তঞ্চঙ্গ্যাকে আমার সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করে।

২০১৬ সালের ১৮ই মার্চ বিলাইছড়িতে বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণে বাধা প্রদান করে। ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারী বিলাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেএসএস নেতা শুভ মঙ্গল চাকমা আমাদের ধর্মীয় সভা বাতিল করতে বাধ্য করে।
২০১৭ সালের ২ডিসেম্বর বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বিহারে সশস্ত্র হামলা করে। এতে ১০-১২জন নিহত হন।

একই বছরের ১৭ই ডিসেম্বর বিহারের সেবক অপহরণ এবং দেড়মাস পর উদ্ধার। ২০১৮ সালের পহেলা মার্চ বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের বিহারে গুলিবর্ষণ। একই বছরের ২০ মার্চ বিহারে আবারো সশস্ত্র হামলা। হামলায় ৫-৬জন আহত হয়। ২১ মার্চ নদী পথে ফারুয়া যাওয়ার সময় উলুছড়িতে সেবক সংঘ এবং ভিক্ষু সংঘের উপর গুলিবর্ষণ। এতে শিশুসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

একই বছরের তুফান তঞ্চঙ্গ্যা নামের একজনকে অপহরণ করা হয়। কারণ তার বাবা আমার একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। ২০১৮ সালে বিমল তঞ্চঙ্গ্যা নামের এক ব্যক্তিকে ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ১ ও ১১ ফেব্রুয়ারী ভক্তকুলের পানের ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী ফারুয়া বৌদ্ধ বিহারে ভক্ত নবীন চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী জুরাছড়ি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু শ্রীমৎ ধর্মজিৎ ভিক্ষুকে অপহরণ করা হয় এবং ৪ দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী জুরাছড়ি আর্যচুগ বিহার থেকে বিক্ষু সংঘকে বিহার ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টম্বর বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে বিহার উঠিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করা হয়।

২০১৯ সালের ২৮ জুন বিলাইছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ফারুঢা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা এবং অন্যান্য জেএসএস নেতাকর্মীরা মিলে আমার বান্দরবানের ধুপশীল বিহারে ভক্তকুলদের সফর বাতিল করে এবং সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৫ মে রাতের অন্ধকারে ধুপশীল বিহারটিকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এইদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দীপংকর মহাথের একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
প্রশ্ন করা হয়েছিলো, আপনি বাঙ্গালী বলে আপনার সাথে এমন ঘটনা ঘটছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হয়তো সেটা ১০০ ভাগ সঠিক হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে মূল সমস্যা হলো- আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। সন্ত্রাসীরা কোন ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। আমি সত্য কথা বলার কারণে আমার সাথে সন্তু লারমার এত দ্বন্দ্ব।

তিনি আরও বলেন, দেখেন রাঙামাটির শ্রদ্ধেয় বন ভান্তের সাথে সন্তু লারমার দ্বন্দ্ব ছিলো। সেটা আদর্শিক। কারণ বনভান্তে সন্তু লারমাকে পছন্দ করতেন না তার কর্মকান্ডের জন্য।

পার্বত্য ভিক্ষুর সাথে আপনার কোন দ্বন্দ্ব আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমার সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমার দ্বন্দ্ব হলো- ভাল আর খারাপের সাথে। যারা খারাপ তাদের আমি পরিহার করি আর যারা ভাল তাদের গ্রহণ করি। তিনি জানান, আমি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ধর্মীয় কেন্দ্রগুলো বাঁচাতে চাই। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাহানাম ভিক্ষু, মেগিউ ভিক্ষু, প্রজ্ঞামিত্র ভিক্ষু এবং জ্যেতিক্ষ ভিক্ষুসহ ভান্তের অন্যান্য অনুসারীরা।