শ্রীমঙ্গলে যেখানে সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে জরুরি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

এপ্রিল ১০ ২০২০, ২২:৪১

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসন এর অনুমতি ছাড়াই স্বেচ্ছায় লকডাউন এর নামে ব্যারিকেড দিয়ে বাসিন্দাদের জরুরি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়-গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে, বিরাইমপুর, সুরভি পাড়া, মাস্টারপাড়া ও শ্যামলী আবাসিক এলাকার রাস্তার মুখে গেইট ও বাঁশ বেঁধে দিয়ে স্বেচ্ছায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হয়েছে। এর আগে শহরতলীর মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকায়ও এলাকাবাসিরা মিলে

স্বেচ্ছায় লক ডাউন ঘোষণা করে বাশ বেঁধে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে কয়েক ঘন্টা পর বাশ সরিয়ে রাস্তা স্বাভাবিক করে দেয়া হয়।

এসব এলাকায় অতি উৎসাহী কিছু যুবকরা মিলে বিভিন্ন এলাকা লক ডাউন করে মানুষের জরুরি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পাড়া-মহল্লায় প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষসহ মিডিয়াকর্মীদের কাজে বাঁশ বেঁধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অধিকার নিয়ে সাংবাদিকসহ সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম জানান-শ্রীমঙ্গল উপজেলা লকডাউনের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বা অভ্যন্তরীণভাবে চলাচলের কোন রাস্তাও বন্ধ করা হয়নি। এজন্য উপজেলার অভ্যন্তরে কোন রাস্তা বন্ধ করে স্বাভাবিক জনচলাচলে বিঘ্ন না ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো। তবে বাইরে থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ চেকপোস্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন- প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এভাবে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করে এসব ছেলেরা মানুষের জরুরি চিকিৎসাসহ জরুরি চলাচলে বাঁধা দিচ্ছে। কারণ কোন কারণে দূর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিদ্যুৎ, এম্বুলেন্স, পুলিশ, র‍্যাব কিংবা সেনাবাহিনীর গাড়িসহ ইত্যাদি চলাচল বিঘ্ন ঘটবে! মানুষ তাৎক্ষনিক সেবা পেতে বিলম্ব হবে; এর ফলে বড়ধরণের দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ব্যারিকেড দিয়ে বাসিন্দাদের চলাফেরায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দ্রুত ব্যারিকেড অপসারণের দাবি সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসির। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসব এলাকায় ব্যরিকেড রয়েছে।
এদিকে ব্যারিকেড অপসারণ করার কথা বললে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট সাংবাদিক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন। তিনি জানান-তিনি সংবাদ সংগ্রহের কাজে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে শহরের মাস্টারপাড়া আবাসিক এলাকায়, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের রাস্তা দিয়ে মটর সাইকেল নিয়ে যেতে চাইলে কয়েকজন যুবকরা মিলে উনাকে বাঁধা দেয় এবং অভদ্র আচরণ করে। তারা হুমকি ধমকিও দেয়। এসময় তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপনকে হুমকি প্রদান এর ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এম ইদ্রিস আলী।

সাংবাদিকদের চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং হুমকি প্রদান দুঃখজনক এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সাংবাদিক এম এ রাকিব।