শেরপুর নাকুগাঁও-ঢালু সীমান্ত থেকে চালু হলো ভারতের শিলিগুড়ির বাস

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

ফেব্রুয়ারি ০২ ২০১৯, ১৫:০৩

আবির আবরার: শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার নাকুগাঁও-ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রারাঙ্গাপাড়া থানাধীন ঢালু সীমান্তের ভারতীয় ইমিগ্রেশন পয়েন্টের পাশ থেকেই পশ্চিমবাংলার শিলিগুড়ি শহর পর্যন্ত যাত্রিবাহী বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার থেকে ভারতীয় সময় বেলা তিনটায় বাসটি ঢালু ছইপানি ইমিগ্রেশন অফিসের পাশ থেকে ছেড়ে যায়। একদিন পরপর বাসটি শিলিগুড়ি-ঢালু যাতায়াত করবে। এরআগে ঢালু থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে তুরা শহর থেকে শিলিগুড়ি’র বাস চলাচল করতো।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে এ সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে বলে ভারতের ইমিগ্রেশনের একটি সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর একই স্থান থেকে এক দিন অন্তর অন্তর বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটিতে ঢালু-গোয়াহাটি বাস সার্ভিস চালু হয়। সীমান্তের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

ঢালু-শিলিগুড়ি বাসটি তুরা হয়ে আসামের পাইকান, গোয়ালপাড়া ব্রহ্মপুত্র ব্রীজ, কুচবিহার হয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দুরত্বে যাবে ৷ এর জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। আবার শিলিগুড়ি থেকে বাসটি ছেড়ে আসবে বিকেল ৫ টায় এবং ঢালু সীমান্তে পৌঁছবে ভোর ৭ টায়। অপরদিকে ঢালু থেকে বিকেল ৩ টায় ছেড়ে গিয়ে পথে ২ টি যাত্রা বিরতি দিয়ে পরের দিন ভোরে শিলিগুড়ি শহরে পৌঁছবে বাসটি।

জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার বারাঙ্গাপাড়া থানাধীন ঢালু সীমান্ত দিয়ে দু’দেশের জনসাধাণের পারাপারের জন্য ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট চালু হলেও নানা কারণে তা কিছু দিন চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে আবারও চালু হয় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি। এছাড়া ২০০৪ সালে এখানে চালু হয় শুল্ক স্টেশন এবং পরবর্তীতে ওই শুল্ক স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরে রূপান্তরিত হয় ২০১৪ সালে। বর্তমানে স্থল বন্দরটি দু’দেশের ব্যবসা মন্দার কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু’দেশের লোক যাতায়াত ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে।

এ চেকপোস্ট দিয়ে চলাচলরত ভারত-বাংলাদেশের ভ্রমণকারী এবং ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের শিলং, আসামের গোহাটি, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিংসহ সিকিম, মিজোরাম ও অরুনাচল, নাগাল্যান্ড এবং ভূটান ও নেপালের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মানুষের জন্য সহজতর হয়ে উঠেছে। ফলে দিন দিন বাড়ছে এ চেকপোস্টের লোক যাতায়াত। মাত্র ৪/৫ বছর আগেও ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্তের দু’পাশেই সড়ক যোগাযোগ ছিল খুবই নাজুক। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরের নকলা হয়ে নালিতাবাড়ি উপজেলা সদর হয়ে নাকুগাঁও সীমান্ত পর্যন্ত প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এ সড়কে নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন পার হয়ে খুব সহজেই ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যাওয়ার সহজ রুট তৈরী হয়েছে।

ভারতের ঢালু-তুরা সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। এছাড়া তুরা থেকে আসাম ও পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের সড়ক ৪ ও ৬ লেইনে উন্নীত করায় ভ্রমনকারীরাও বেশ স্বাচ্ছন্দ ও আরামে ভ্রমণ করতে পারছেন। ফলে এ অঞ্চলের মানুষকে প্রায় ৩শ কিলোমিটার ঘুরে দেশের উত্তরাঞ্চলের বুড়িমাড়ি বা বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে দার্জিলিং, নেপাল, ভুটান যেতে হবে না। এছাড়া এ সীমান্ত দিয়ে ভ্রমণে মেঘালয় ও আসাম হয়ে ভূটান, নেপাল ও দার্জিলিং বেড়াতে ভ্রমণপথেই সেসব এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ পারবেন ভ্রমণকারীগণ।