শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আল্লামা আহমাদ শফীর

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ১৭ ২০১৯, ১১:৪৩

হাবীব আনওয়ার

কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও নূরানি তালিমুল কুরআন শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রাম -এর চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমাদ শফী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজমান অরাজকতা ও অনৈতিক কাজগুলো আমাকে ভীষণভাবে আহত করছে। আমি বারবার এসব দূরীকরণের লক্ষ্যে কথা বলে যাচ্ছি দেশ ও জাতির স্বার্থে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাক্রমে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। প্রকৃত আলেম দ্বারা দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পত্রিকার পাতায় যখন আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বীয় শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনের খবর পড়ি তখন আমি আহত বোধ করি।

আজ (১৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টায় বাংলাদেশের দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষার বৃহত্তম বোর্ড “নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম” -এর অধীনে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী এসব কথা বলেন। বোর্ডের মহাসচিব মুফতি জসিমুদ্দীনের সভাপতিত্বে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আনাস মাদানী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেখল মাদরাসার পরিচালক ও বোর্ডের সহসভাপতি আল্লামা নোমান ফয়জি, মাওলানা জমিরউদ্দীন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমী, মাওলানা মীর আনিস, মাওলানা আবুল হাশেম, মাওলানা এমদাদ, মাওলানা মঞ্জুর ও মাস্টার আনিস প্রমুখ।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরও বলেন, নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এ কথাটি এখন আর উচ্চারিত হয় না। শুধু শিক্ষিত হলে চলবে না, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষিত করতে হবে। তবেই তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা কখনো দুর্নীতিগ্রস্থ হবে না, অন্যের হক নষ্ট করবে না।

আমিরে হেফাজত আরও বলেন, আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছে যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে বসে প্রতিনিয়ত মানুষদের হয়রানি করছে, প্রতারিত করছে, নৈতিক ও আর্দশিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হওয়ার কারণে দূর্নীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করছে তারা। মনে রাখতে হবে দেশকে সুসন্তান, সুনাগরিক উপহার দিতে হলে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকগণ এক বুক প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাদের আশা, আমার সন্তান শিক্ষিত হবে, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। অথচ সেই শিশুই খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক দ্বারা অথবা সহপাঠি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। ফলে স্বপ্নগুলো চুরমার করে দিচ্ছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এসব থেকে আগামির ভবিষ্যতকে পরিত্রাণ দিতে হলে পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্নতা আনতে হবে।

বক্তব্য প্রদান শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আল্লামা শাহ আহমদ শফী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় ‘নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড, চট্টগ্রাম বাংলাদেশ’ -এর অধীনে সারা দেশের দুই লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। গত ২৪ডিসেম্বর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাশের হার ছিলো ৯০.২%।