রক্ত থেকে উঠবে জেগে ইসলামি নিউজিল্যান্ড

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মার্চ ১৫ ২০১৯, ১৫:৩৫

ফায়যুর রাহমান: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদটি মুসল্লিদের রক্তে ভেসে গেলো। শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজে সেজদারত মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এই নৃশংস হামলার ঘটনার পরে বিশ্বের বড় বড় কুতুবরা নির্বিকার থাকলেও শহীদানের রক্তের কণাগুলো কিন্তু লিখে দিয়ে গেছে নতুন ইতিহাস। বলে গেছে, শহীদের রক্তে ভিজে যাওয়া মাটিকে আরশে আযিমের মালিক মহিমান্বিত করে ফেলেন বিশেষ মর্যাদায়। কবুল করে ফেলেন ইসলামের উত্থানের জন্য। আজকের ঘটনার পরে নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের প্রতি শান্তিপ্রিয় ও সহমর্মী মানুষের যে লম্বা সারি তৈরি হবে, সেই লম্বা সারিটি ওই দেশে লাখো মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করবে।শহীদানের রক্তের সিলসিলা কথা বলবে। সন্দেহ নেই।

নিজের জাতভাইদের বদনাম হোক, মার্ক জাকারবার্গ সেটা চান না। তাই তিনি ফেসবুক থেকে হামলার তামাম ভিডিও সরিয়ে ফেলেছেন। অবশ্য এরই মধ্যে কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে এই নৃশংস হামলার ভিডিওটি শেয়ার করে ফেলেছিলো। জাকারবার্গ সবগুলো ডিলিট করে সাফ করে দিয়েছেন। সিএনএন জানিয়েছে ভিডিওটি আর শেয়ার করতে দেবেনা ফেসবুক।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী লোকটি গাড়িতে গান বাজাতে বাজাতে মসজিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।তার গাড়িতে দুই তিনটি স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক রাইফেল ছিলো। সে মসজিদে গিয়ে অতি ঠান্ডা মাথায় সেজদারত মুসল্লিদের ওপর শুট করতে থাকে। গুলি শেষ হয়ে গেলে আবার ম্যাগাজিন রিলোড করে, আবার রিলোড করে এবং গুলি চালাতে থাকে। অন্য একটি ভিডিওতে দেথা গেছে মসজিদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুসল্লিদের লাশ। রক্তে লাল হয়ে আছে মসজিদের ফ্লোর। আহত ও স্বজনদের কান্নার রোলে ভারী হয়ে যাচ্ছে বাতাস।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, হামলাকারী নিজেই হামলার পুরো দৃশ্য ক্যামেরায় ধারন করে ভিডিও আপ্লোড করেছে। কতটা ঘৃণা লালন করলে একটা মানুষ ঠান্ডা মাথায় এমন নৃশংস হত্যাকান্ড চালাতে পারে, চিন্তা করুন।

আচ্ছা, মুসলিমদের প্রতি পশ্চিমে এত ঘৃণা কেন? পশ্চিমে এত বর্ণবাদ ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা তৈরি করে দেয় কারা? উত্তরটা পেতে হলে পশ্চিমের মুসলিমবিরোধী প্রোপাগান্ডা ও ইসলামোফোবিয়ার দিকে তাকাতে হবে। বিশ্বজুড়ে পশ্চিমের মুসলিমবিরোধী ঘৃণা তৈরির তৎপরতা, অবিরত মুসলিমদের পশ্চাৎপদ হিসেবে প্রচার করা, তাদের পোশাক ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দুইদিন পরপর বিতর্ক সৃষ্টি, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার নানা কনসেপট প্রচার করা, তাদেরকে নির্যাতন ও হত্যাযোগ্য প্রাণী হিসেবে প্রমাণ করা এবং এর ন্যায্যতা ও বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা; দশকের পর দশক ধরে এই চর্চার ফল হচ্ছে আজকের জাতীয়তাবাদী-বর্ণবাদী নৃশংস হামলা। আজকের ঘটনায় নিহত ৪৯ জন যদি মুসলিম না হয়ে খ্রিস্টান বা ইহুদি হতো, তাহলে কল্পনা করুন কেমন হতো পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভাষা ও আহাজারি। কেমন হতো আপনার সামনে থাকা টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজ! আর দুনিয়ার বড় বড় কুতুবরা এখন কোন ভাষায় কথা বলতেন? কিন্তু এখন দেখবেন পশ্চিমা গণমাধ্যম এই হামলাকারীকে ‘মানসিক রোগী’ সাব্যস্ত করতে উঠেপড়ে লাগবে। কারণ সে খ্রিস্টান।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল নুর মসজিদের ফ্লোরে ভেসে যাওয়া রক্তের কণাগুলো আজ দুটি কথা লিখে গেছে। এক. মানবতা ও মানবাধিকার আসলে একটা ভুয়া কনসেপট। ফালতু ও একপেশে জিনিস। দুই. আল্লাহ তাআলা নিউজিল্যান্ডের মাটিকে অচিরেই ইসলামের জন্য কবুল করবেন। কারণ মজলুমের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। যাবেনা। ওই যে জুমার দিনে আল্লাহর কাছে হাজিরা দিতে আসা ৪৯ জন মুসল্লির রক্তে ভিজে গেলো নিউজিল্যান্ডের মসজিদ, ওই যে জিহবার শক্তি ফুরিয়ে যাওয়া লোকটি এ্যাম্বুলেন্সের বেডে শুয়ে আরশের দিকে আঙ্গুল তুলে সাক্ষ্য দিলো একত্মবাদের, ওই যে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হিজাবপরা মেয়েটির নিথর দেহ পড়ে রইলো ফুটপাতে, তার নিস্পাপ আত্মা দৃপ্ত শপথে ঘোষণা দিয়ে গেলো, রক্ত থেকে উঠবে জেগে ইসলামি নিউজিল্যান্ড।

লেখক : প্লানিং এডিটর, একুশে জার্নাল।