মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে “স্বাধীনতার ইতিহাস ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মার্চ ২৭ ২০১৯, ২২:৫৮

একুশে জার্নাল ডেস্ক;গত ২৬ মার্চ ২০১৯ ইস্ট লন্ডনস্থ আলহুদা সেন্টারে খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্যের মহান জাতীয় দিবসে স্বাধীনতার ইতিহাস ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রাহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মিজানুল হকের পরিচালনায় কোরআন তেলাওয়াত করেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা কামরুল হাসান খান।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচীব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ। তিনি বলেন, আমরা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা বা জাতীয় দিবসে শুনে থাকি নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন হয়েছে আমাদের স্বপ্নিল স্বাধীনতা। অথচ এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, অনেক ঘটনা ও চড়াই-উৎরাইয়ের করুণ কাহিনী। অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষা ও রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে আমরা ছিনিয়ে এনেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

আমাদের এই দেশ কখনও সেন রাজা, কখনও বা পাল রাজারা শাসন করেছে। আমরা দিল্লীর সুলতানদের অধীনেও থেকেছি বহুকাল। তারপর ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে আমাদের স্বাধীনতা লুন্ঠিত হয়। তখন বাংলার স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।

বিশ্বাসঘাতকের ছল-চাতুরি আমাদেরকে পরাধীনতার কবলে ফেলে দেয়। মীর জাফর আলীর চক্রান্তে ইংরেজরা আমাদেরকে ২০০ বছর শাসন ও শোষণ করে। তারা আমাদের স্বাধীনতাকেই শুধু ছিনিয়ে নেয়নি, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি সর্বত্র তাদের কালো থাবায় হারিয়ে যায়।

দেশের আলীম উলামা সহ মানুষ বৃটিশের সেই নিপীড়ন ও শোষণ থেকে বাঁচার জন্য দীর্ঘকাল সংগ্রাম চালিয়ে যান। ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট আমরা স্বাধীনতা অর্জন করে।
সৃষ্টি হয় পাকিস্তান নামের একটি নতুন রাষ্ট্রের। পাকিস্তান রাষ্ট্রের এক অংশ পূর্ব পাকিস্তানই ছিল আমাদের এই বাংলার সবুজ চত্বর। আমরা স্বাধীনতা পেলেও পাকিস্তান সরকারের অত্যাচার, শোষণ ও নিপীড়ন আমাদের ওপর নতুন করে চেপে বসে। নানা বৈষম্য ও ভ্রান্ত নীতির বেড়াজালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠে।

উর্দুকে বাংলাদেশের মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয় পাক সরকার এতে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ১৯৫২ সালে এ দেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু পাক সরকারের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের কে চরমভাবে বঞ্চিত করতে থাকে।

পাকিস্তান সরকারের প্রতি মানুষের মনে জমতে থাকে প্রচন্ড ক্ষোভ ও ঘৃণা। ধীরে ধীরে এই ঘৃণার উত্তাপ বৃদ্ধি পায়, শুরু হয় বিক্ষোভ। ১৯৬৯ সালে মানুষের বিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়।
এদিকে ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের কুচক্রি সরকার ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে বাংলাদেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা একযোগে গোটা দেশে চালায় নারকীয় হত্যাকান্ড। ফলে গোটা দেশ পরিণত হয় এক ভয়ানক গণহত্যা রাজ্য।
তাদের ঐ সব হত্যা, অবিচার, বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বাঙ্গালী জাতী ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যার যা ছিল তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়লেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। এ দেশীয় সেনা সদস্যরা পাক সেনাদের প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। শুরু হলো গেরিলা লড়াই। দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, চাকুরেসহ নানা পেশার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের প্রত্যাশিত স্বাধীনতা।

কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ আজ এক পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ।
দেশ নিজের ভাষার অধিকার পেয়েছে, কিন্তু ভাষাকে সর্বত্র চালু করতে পারেনি।দেশে এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ সহ চলছে স্বৈরচারী শাসন। দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়ে পেলেছে, নেই মানুষের কোন বাকস্বাধীনতা।
আমাদের কে নানাভাবে অনৈক্য ও বিভেদের বেড়াজালে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনার নামে শিরিকের দিকে দাবিত করা হচ্ছে ।

আমাদের নতুন প্রজন্ম কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্য, ইনসাফ ও মর্যাদার ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। তোমরাই পারবে দেশটার হাল ধরতে, দেশটাকে বিকাশের নবদিগন্তে নিয়ে যেতে। আজকের প্রজন্মের কাছে একটি সুখি, সমৃদ্ধ, ইনসাফ, সমঝোতা ও সহমর্মিতার অভয়ারণ্যের এক নতুন বাংলাদেশ আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।    
এতে আর বক্তব্য রাখেন, শাখার সর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ শওকত আলী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা তায়ীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ কামরুন হাসান খান ও লন্ডন মহানগরীর সাধারন সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রাহমান প্রমুখ।