ভোলার রাজাপুরে হাত-পা বেঁধে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ 

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

সেপ্টেম্বর ৩০ ২০২০, ১৮:১৫

এবি হান্নানঃ ভোলা জেলা প্রতিনিধি: ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেদুয়া গ্রামে হাতপা বেঁধে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষণের পর ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে আইনের আশ্রয়ে গেলে হত্যা করবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ধর্ষিতার স্বামী।

বর্তমানে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জানান, ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে সে বাড়ির রান্না ঘরে রান্নাবান্না করছিল। তখন ঘরে কেউ ছিল না। তার স্বামী তখন তাবলীগ জামায়াতে ছিল। এবং শাশুড়ী রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদে বয়স্ক ভাতার আবেদনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিল। এ সুযোগে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা পাশ্ববর্তী ফকির বাড়ির ইসমাইল ফকিরের ছেলে আলম ফকির তার রান্না ঘরে ঢুকে তার বুকের উপরের স্তনে হাত দেয়। এসময় সে (গৃহবধূ) চিৎকার দিলে রান্না ঘরে থাকা পরিত্যক্ত একটি কাপড়ের আঁচল দিয়ে তার মুখ ও হাতপা বেঁধে ঘরের চৌকির উপর নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করা শেষে তার হাতে একশো টাকার একটি নোট দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলে। গৃহবধূ টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্যসময় আবার এসে ধর্ষণ করে পাঁচশো টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই একশো টাকাও নিয়ে যায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে শাশুড়ী বাড়িতে ফিরলে বিষয়টি গৃহবধূ শাশুড়ীকে জানায়। সোমবার স্বামী তাবলীগ জামায়াত থেকে বাড়ি ফিরলে ঘটনাটি স্বামী জানতে পেরে ধর্ষক আলম ফকিরের বাড়িতে গেলে আলম ফকিরের স্ত্রী জানায় আলম চট্টগ্রাম চলে গেছে। চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে ফিরলে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করে দিবে বলে স্ত্রী আশ্বস্ত করে তাকে (ধর্ষিতার স্বামীকে) বাড়িতে ফিরিয়ে যেতে বলেন।

পরে বিষয়টি লোকমুখে প্রচলিত হলে লোকলজ্জায় ধর্ষিতার স্বামী আবারও ধর্ষকের বাড়ি গেলে ধর্ষকের ভাই হারুন ফকির ও ধর্ষকের স্ত্রী গালমন্দ করে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তার তিনদিন পর ধর্ষক আলম ফকির বাড়ি ফিরে প্রকাশ্যে গ্রামবাসীর সামনে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়।

হুমকির প্রতিবাদের উত্তরে গৃহবধূর স্বামী থানার দারস্থ হবেন বললে, ধর্ষক আলম ফকির উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, ‘তুই সালা থানায় যা, আমার বিরুদ্ধে একশো ধর্ষণের মামলা দে, ‘দেখি পুলিশ আমায় কি করে’

এবিষয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক আলম ফকিরের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী জানায় সে কোথায় গেছে তা তাকে বলে যায়নি।

ধর্ষিতার স্বামী বলেন, আমার স্ত্রী কানে কম শোনে এবং সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তেমন একটা কথা বলতে পারেনা সে। ধর্ষকের হুমকিতে আমি আতঙ্কিত আছি। যেকোনো সময় ধর্ষক আমাকে অনেক বড় বিপদে ফেলতে পারে। তিনি আরও জানান এ ঘটনায় তিনি বাদী ভোলা সদর মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এনায়েত হোসেন জানান, বিষয়টিতে এখন পর্যন্ত তিনি অবগত নয়। তবে মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।