বাবুগঞ্জে খাদ্য সহায়তা দিয়ে ফটোসেশনে ব্যস্ত জনপ্রতিনিধিরা

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ০৮ ২০২০, ১৯:২২

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: জনপ্রতিনিধিদের কারো গায়ে তকমা লাগানো গরীবের বন্ধু, তরুণ সমাজসেবক। কেউ আবার বাবুগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার, আবার কাউকে বলা হয় জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি। কিন্তু গরীবের বন্ধু, সমাজসেবক, উন্নয়নের রূপকার এবং জনবান্ধব কাউকেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ঠিক মতো। পাশে নেই নির্বাচনকালীন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা প্রার্থীরাও। এই দু্ঃসময়ে বাবুগঞ্জের জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গেরা যেন কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। আবার কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে কোনমতে খাদ্য সহায়তা দিয়ে ফটোসেশন করে যেন আবার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছেন।

প্রানঘাতী করোনাভাইরাসে স্তব্ধ পুরো বিশ্ব। বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর মিছিলে বাংলাদেশ থেকেও যোগ হয়েছে ১৭টি প্রাণ। দেশে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৪ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। দেশের এমন পরিস্থিতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে চাকুরীজিবি এবং খেটে খাওয়া দিন মজুররা। করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বাসা থেকেই বের হচ্ছেন না অনেকেই। বিশেষ করে হতদরিদ্র দিন মজুরদের সকল ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মাসের শেষের দিকে হঠাৎ কর্মপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারিশ্রমিকও পায়নি চাকুরীজীবিরা। বিশেষ করে ভাটা পরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচা-কেনায়। কেবল ফার্মেসী ও নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি-বাজার ছাড়া বন্ধ হয়ে পড়ে সকল শ্রেণির দোকান-পাট। একই সাথে কর্মহীন হয়ে পড়েন অসংখ্য দিন মজুর। ভ্যানচালক, রিকশা, ইজিবাইক চলাচলও একেবারে সীমিত। বন্ধ হয়ে গেছে চাসহ অন্য দোকানপাট। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তারা কেউ করোনা সংকটের সময় মাঠে নেই। দেশব্যাপী ভাইরাস আতঙ্কের পর থেকে অনেকের হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নিয়ে সাধরণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার কিছুটা এগিয়ে আসলেও চরম সংকটে থাকা অসহায়দের পাশে তেমনভাবে দেখা যায়নি বাবুগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের। মুখে সচেতনতার বুলি ফুঁটিয়ে যেন মানবতা ও সাহায্যের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছেন তারা।

সূত্র জানায়, প্রথমে শুরুটা করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব। তিনি নিজ অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ভ্যানচালক‌ ও হত-দরিদ্রের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ব্লিচিং পাউডার, সাবান পৌঁছে দেন। এছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করে সাধারণ জনগণকে সচেতন করেন।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন প্রথম দফায় জনপ্রতি ১৩ কেজি করে সরকারি খাদ্যসামগ্রীর ৩০০ প্যাকেট । দ্বিতীয় দফায় প্রস্তুতকৃত মোট ৫০০ প্যাকেট উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ভাগ করে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সেগুলো বিতরণ করে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তারপর সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু’র নিজ তহবিল থেকে বাবুগঞ্জ ও মুলাদি দুই উপজেলায় করোনার প্রভাবে কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম খালেদ হোসেন স্বপন, বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ, ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সম্পাদক শাহিন হোসেনের নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও পানি সম্পদ ও পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ দেলওয়ার হোসেন ও তার সহধর্মিণী ফরিদা পারভিন’র উদ্যোগে নিজ ইউনিয়ন চাঁদপাশা’র ৩শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ ও বাবুগঞ্জ দর্পণ পত্রিকার সহায়তায় ঠিকাদার সফিউল করিম টিপু ও ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেনের সহযোগিতায় খানপুরা ও ক্ষুদ্রকাঠী এলাকায় খাদ্রসামগ্রি বিতরণ করা হয়।

পরবর্তীতে খাদ্য সামগ্রি বিতরণে এগিয়ে আসছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখা, যুব-মহিলালীগের সহ-সভাপতি সালমা আক্তারের আর্থিক সহযোগিতায় সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও রাশিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিঃ আবদুল্লাহ আল মামুন রাজিব এর সহযোগিতায় আজিজুল ইসলাম বাবুল কর্তৃক খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও ব্যক্তিগত অর্থায়নে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে, স্থানীয় যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী অনেক সাধারণ মানুষ। কিন্তু গরীবের বন্ধু, সমাজসেবক, উন্নয়নের রূপকার এবং জনবান্ধব কাউকেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ঠিক মতো। পাশে নেই নির্বাচনকালীন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা প্রার্থীরাও।