বাতিলের সাথে আপোস না করার শর্তে হাদীসের সনদ দিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

মার্চ ২০ ২০১৯, ০৪:৫৬

হাবীব আনওয়ার

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগি মহাপরিচালক ও হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বোখারী শরীফের আখেরী দরসে দু’শর্তে ছাত্রদের হাদিসের সনদ প্রদান করেন।

গতকাল (মঙ্গলবার) ১৯শে মার্চ রাতে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস মিলনায়তনে হাজারও ছাত্রদের উপস্থিতিতে আখেরী দরস অনুষ্ঠিত হয়। বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়ে দরস চলে রাত ১২টা ৪০মিনিট পর্যন্ত।

আল্লামা বাবুনগীর দু’টি শর্তে হাদিসের সর্বোচ্চ কিতাব বোখারী শরীফসহ অন্যান্য কিতাবের সনদ প্রদান করেন। এক. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপর অটল থাকতে হবে।
দুই.বাতিলের সাথে আপোস করা যাবে না।

হাদীসে ওয়াফদ্ আব্দিল কাইসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সরকার একদিকে মাদক বিক্রির লাইসেন্স দেয়। আবার অন্যদিকে মাদকমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে- যেটা আদৌ অসম্ভব।মাদকমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে হলে প্রথমে মাদক বিক্রির লাইসেন্স উঠিয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান ভাল তবে কথায় কাজে মিল থাকতে হবে।মাদক বিক্রির লাইসেন্স দিয়ে আবার মাদকবিরোধী অভিযান চালালে কথায়-কাজে মিল থাকলো কই?!

ফারেগীন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ইসলামের জন্য তোমাদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের আকারীর-আসলাফদের জীবনী থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। যুগকে ইসলামের চাহিদা মোতাবেক পরিচালিত করতে হবে।

অন্য এক প্রসঙ্গে আল্লামা বাবুনগরী ভারতবর্ষ বিজয়ের ইতিহাস টেনে বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দের শতবার্ষিকীতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বলেছিলেন, উলাময়ে দেওবন্দ না থাকলে ভারতবর্ষ ইংরেজ বেনিয়াজদের কাছ থেকে স্বাধীন হতো না। ভারতবর্ষ ইতিহাসে ওলামায়ে দেওবন্দের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

উল্লেখ্য, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় বোখারী শরীফ ৩ভাগে ভাগ করে পড়ানো হয়।১ম থেকে ১০পারা পর্যন্ত পড়ান জামেয়ার মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি। ১১ থেকে ২০পারা পর্যন্ত পড়ান আল্লামা শেখ আহমাদ এবং ২১ থেকে ৩০পারা পর্যন্ত পড়ান জামেয়ার সহযোগি মহাপরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ আল্লামা বাবুনগরীর অংশ শেষ হলেও শেষের একটি হাদীস রেখে দেন আগামী ২৯শে মার্চ (শুক্রবার) হেফাজত আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দরসে বোখারী খতম শেষ করার জন্য।