ফরিদপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

আগস্ট ১৯ ২০২০, ১২:২৯

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় শহরের তিতুমীর বাজার (নিউ মার্কেট)-এর কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ গোলাম নবী (৪৯) কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। উক্ত ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পোনে ১টায় নিউ মার্কেটের মানিক ষ্টোর ও রিমন ষ্টোরে এক তরুনী ও তার অভিভাবক শপিং করতে গেলে তরুনীর সাথে অসৌজন্যমূলক (ইভটিজিং) ঘটানো হয়। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। পরে তারা মার্কেট কমিটির নেতা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক আলীপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ গোলাম নবী-কে বিষয়টি অবগত করে। তাৎক্ষণিক এই ব্যবসায়ীক নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। এ সময় তার উপর লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।

হাসপাতালে আহত ব্যবসায়ী গোলাম নবী বলেন, আমি সুষ্ঠুধারায় মানিক ষ্টোর ও রিমন ষ্টোরে গিয়ে ইভটিজিং বিষয়ে জানতে চাইলে, মানিক ষ্টোরের মালিক মীর আব্দুর রহিম বাদলের ভাই মানিক, দীপু, টিপু, বোন জামাই রিমন ও রিমন ষ্টোরের মালিক কর্মচারীসহ আমার উপর বর্বর হামলা করে। এক পর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে মার্কেট থেকে দৌড়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় গিয়ে পড়ে যাই। থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনার নেপথ্যে মীর আব্দুর রহিম বাদলের মদদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওরা ব্যবসার অন্তরালে মাদক, ইয়াবা ব্যবসা করে। সেসব বিষয়েও আমরা বার বার প্রতিবাদ করেছি। ওরা আমার পুত্র আব্দুল আলী ইমনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে তিতুমীর বাজার নিউ মার্কেট আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান বাবু হাসপাতালে জানান, ঘটনাটি জঘন্য এবং নিন্দনীয়। আমরা আমাদের ব্যবসায়ীক কমিটি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের শাস্তি দাবী করছি। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এই রকম আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়ে সালিস, বৈঠক অনেক হয়েছে। একবার পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে মীর আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের মুঠো ফোনে জানান, ঘটনার সময় আমি ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলাম না। ঘটনাটি অনাকাঙ্খীত, দুঃখজনক। এমন একটি হামলার ঘটনায় সত্যি লজ্জা পাচ্ছি। ব্যবসার অন্তরালে মাদক বিক্রির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, সত্য নয়। তবে এই ঘটনার সাথে আমার পরিবারের লোক জড়িত থাকলে অবশ্যই আমিও এর শাস্তি চাই, কামনা করি।

আহত হওয়া ব্যবসায়ীর পরিবার সাংবাদিকদের জানান, আমরা বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।