প্রবীণ ইসলামি রাজনীতিবিদ এড. আহমদ ছগীরের ইনতেকাল: খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার শোক

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুন ২৩ ২০২০, ১৬:২৪

দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও প্রবীণ ইসলামী রাজনীতিক, চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি এবং খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার সাবেক সংগ্রামী সভাপতি জনাব এড.আহমদ সগীর, অদ্য সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বার্দ্ধক্যজনিত রোগে ইনতেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তার আনুমানিক বয়স ৮৫। তিঁনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনী ও শিক্ষার্থীসহ দ্বিনি আন্দোলনের অসঙ্খ গুণাগ্রহী রেখে গেছেন।

প্রবীণ এই আইনজ্ঞের বিদায়ে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি পৃথক শোক বার্তা প্রদান করেছেন।

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হলে, আমীরে হেফাজত আল্লামা আহমদ শফীর সাথে সাক্ষাত করে হেফাজতের মামলার বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দিতে তার নেতৃত্বে একটি আইনজীবী ফোরাম গঠন করেন। তিনি এ ফোরামের আহবায়ক ছিলেন।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি এদেশের দ্বিনী আন্দোলনে তাঁর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও অবদান।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি সচেতন ছিলেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম যুবকদের স্বাধীন, সংস্কৃতি ও স্বাধিকারের একমাত্র সংগঠন ‘তমদ্দুন মজলিস’ এর সাথে যুক্ত হয়ে ৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনে ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব দেন।

৮০’র দশকে হাফেজ্জী হুজুর রহ.’র আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন খেলাফত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, হাফেজ্জী হুজুরের (রহ.) ওফাতের পর ১৯৮৯ সালে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠা হলে তিনি খেলাফত মজলিসে যোগদান করে সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী নগর শাখার সভাপতি হিসেবে (২০০১ সাল পর্যন্ত) দীর্ঘদিন দায়িত্বপালন করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত- তিনি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

তৎকালীন (১৯৯৬-২০০১) আওয়ামী দুঃশাসন/ইসলাম বিরুধী ইস্যূতে সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়তেন রাজপথে। মিছিল ও বিক্ষোভে থাকতেন সামনের কাতারে।

তৎকালীন ফতোয়া নিষিদ্ধকরণ বিরুধী আন্দোলন, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ, মুফতি আমিনী রহ.সহ শীর্ষ আলেমদের গ্রেপ্তার পরবর্তী আলেমদের মুক্তি আন্দোলন, মরহুম খতিব উবায়দুল হক রহ.কে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম থেকে (তৎকালীন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাও.নুরুল ইসলামের প্ররোচনায়) অপসারণের ষড়যন্ত্র বিরুধী আন্দোলনসহ আওয়ামীলীগের ইসলাম ও দেশবিরুধী যেকোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূতে তিনি (তাৎক্ষণিক) আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটের সিঁড়িতে দাড়িয়ে ঈমানী জযবায় হুঙ্কার দিতেন, তার বক্তব্য শুনে বীর চট্টলার তাওহীদিজনতা মূহুর্মুহু নারায়ে তাকবীর… শ্লোগানে প্রকম্পিত করতেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস রহ. ও তৎকালীন মহাসচিব মুফতি আমিনী রহ’র দেশব্যাপী ঘোষিত (বিভিন্ন সময়ে) সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি চট্টগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয়ভাবে ৪ দলীয় জোট গঠিত হলে; মীর মো.নাসির উদ্দিন (তৎকালীন বিএনপির চ.মহানগর সভাপতি) এর নেতৃত্বে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ইসলামী ঐক্যজোটের (খেলাফত মজলিস-প্রতিনিধি) চ.মহানগরীর সহ.সভাপতি হিসেবে ৪ দলীয় জোট চট্টগ্রাম নগর শাখার সকল কর্মসূচীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।

৮৫ বৎসর বয়সী এই কীংবদন্তী সবাইকে শোকাহত করে আপন মহামহিমের ডাকে শাড়া দিয়ে চলে গেলেন।

এড.আহমদ ছগীর এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন-
খেলাফত মজলিস, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলনা বুরহান উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার সভাপতি- অধ্যাপক মাও.এএসএম খুরশিদ আলম, সহসভাপতি যথাক্রমে মাওলনা মো.তাহের, মাও.আবদুর রহমান সালেহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা.এম এ সিদ্দিক।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি মুফতি শিহাব উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মাও.আমজাদ হোসাইন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি মাও.মাহবুবুর রহমান হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক মাও.আহমদুর রহমান।

মজলিস নেতৃবৃন্দের প্রদত্ত যৌথ শোক বাণীতে মরহুম ছগীর ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দু’আ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আল্লাহ তায়ালা, এড.আহমদ ছগীরকে মাগফিরাত এবং জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।
তাঁর ছোট ছেলে ইঞ্জি.মঈন উদ্দীন (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী) তার বাবার জন্য সংগঠনের ভাইদের নিকট তাঁর বাবার জন্য দোয়ার আবেন জানিয়েছন।

আদ্য বাদে জুহুর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বরে মরহুমের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

অদ্য বাদে আছর মরহুমের গ্রামের বাড়ী পটিয়ার নাহাইন গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।