নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা: দেখেও কেউ দেখছে না যেন

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুন ০৭ ২০২০, ০১:১৩

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু থেকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের এখন বেহাল দশা। ভাঙ্গাচোরা খানা-খন্দকে ভরা অপ্রশস্ত সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই হালকা ও ভারি যানবাহনগুলো বিকল হয়ে আটকে পড়ছে। এতে যানজটের কবলে পড়ে ঢাকাগামী হাজার হাজার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ,ব্যবসায়ীসহ নানা স্তরের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের অসংখ্য গর্তে পানি জমে থাকায় পথচারীদের অনেক কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে। এমতবস্থায় মুন্সিগঞ্জ থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরবর্তী রাজধানী ঢাকায় পৌঁছতে ১ ঘণ্টার স্থলে বর্তমানে ৩/৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। জানা গেছে, ২০০৮ সালে জুন মাসে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ২শ’ ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চালু করা হয়।

এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটি চালু হলে মুক্তারপুর-নারায়ণগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এছাড়া মুক্তারপুরে শিল্পাঞ্চল প্রিমিয়ার, শাহ, ক্রাউন, মেট্রোসেম সহ দেশের ৭টি বৃহৎ সিমেন্ট কারখানা, বিসিক শিল্প নগরীসহ আশপাশের এলাকায় ৩ শতাধিক ছোট-বড় কারখানা ও একাধিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে এ সড়কটি ব্যবহৃত হওয়ায় ২৪ ঘণ্টাই এটি যানবাহন ও লোক চলাচলে ব্যস্ত থাকে। নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীও এ সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত এবং অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড এ রোডের পাশেই অবস্থিত। ফলশ্রুতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

রাস্তার দূরবস্থার কারণে ইতোমধ্যে কিছু পরিবহন কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আরো অনেকের লোকসান গুণতে হচ্ছে। যেকোন সময় এগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামসহ জেলার প্রায় সকল সংগঠন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মরকলিপি পেশ, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পালন করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেয়া সত্যিই দুঃখজনক এবং নারায়ণগঞ্জের একাধিক বাসিন্দা তাদের ফেসবুক পোস্টে এ সড়কের বেহাল দশা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

অপর এক পথচারী বলেন, এ সড়কের ভোগান্তি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কয়েক বছর ধরে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর বছর খানেক আগে নামকাওয়াস্তে ইট বিছানো হয়েছিল। যা আবার যেই সেই অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন যদি মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি গোচর হয়। এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তবে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্দশা কমবে।

তাদের সকলের দাবি ও আশা যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।