নবীগঞ্জে বিয়ের নামে প্রতারণা: প্রতারক সুরমার পলায়ন

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

সেপ্টেম্বর ০৯ ২০২০, ১৫:৪১

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: জগন্নাথপুর উপজেলার ০৬ নং রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের, মৃত হাজী মোঃ আব্দুল নোয়াব মিয়ার ছেলে মোঃ সোহাগ মিয়া (২৩) নবীগঞ্জ উপজেলার ০২ নং পূর্ব বড় ভাকৈর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত মোঃ মতিন মিয়ার মেয়ে মোছাঃ সুরমা বেগম দুজনের প্রায় ০৬ মাস যাবৎ তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ০২ মাস আগে তারা দুজন পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় জগন্নাথপুর উপজেলার ০৬ নং রানীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে সোহাগের খালাতো ভাই মোঃ তোয়েল মিয়ার বাড়িতে। পরে তোয়েলের পরিবার একজন মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ০৫ টাকা স্ট্যাম্পের মধ্যে ৫০,০০০ টাকা ধার্য্য করিয়া তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। যা প্রমাণ হিসাবে সোহাগের কাছে পাওয়া যায়৷ উল্লেখিত সোহাগের স্ত্রী সুরমা বেগমকে নিয়ে সোহাগের খালার পরিবারের সাথেই দুই মাস যাবৎ সংসার করে আসছেন৷

চলতি মাসের সেপ্টেম্বরের ০১ তারিখ গভীর রাতে যখন সবাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে উল্লেখিত তোয়েল মিয়ার ঘরের সকেছ এর তালা ভেঙে ৪৫,৫০০ টাকা নিয়ে সূরমা বেগম পালিয়ে যায়। সকাল ০৬ টার সময় তোয়েল মিয়ার ছোট বোন মোছাঃ মারুফা আক্তার (১৫) সকেছ এর তালা ভাঙা অবস্থায় দেখে শোরচিৎকার করলে বাড়ির লোকজন ঘটনা স্থলে আসেন। পরিবারের লোকজন সুরমাকে দেখতে না পেয়ে তাদের সন্দেহ আসে এবং সুরমার বাবার বাড়ি রামপুরে চলে যান সোহাগ ও তার খালার পরিবারের সবাই। সেখানে গিয়ে সুরমা ও তার মা মোছাঃ ফাতেমা বেগমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন রামপুর গ্রামেই সুরমার নানার বাড়িতে অবস্থান করেছেন৷ সাথে সাথে তারা সুরমার নানা বাড়িতে চলে যান, সেখানে গিয়া সুরমা ও তার মাকে দেখতে পেতে সোহাগ মিয়া তার স্ত্রী সুরমাকে ডাক দিলে কোন উত্তর না দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে মা ও মেয়ে পালিয়ে যায়৷ বিষয়টি সুরমার মামা আমির হোসেনকে জানালে তিনি বলেন যে বিষয়টা আমি খতিয়ে দেখছি। তারপর সোহাগ আবার তার শশুর বাড়িতে এসে সুরমার চাচা ফারুক মিয়াকে বিষয়টি জানালে সুরমার চাচা উত্তরে বলেন সুরমা ও তার মা আমাদের আওতার বাইরে,এই বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সুরমা ও তার মা দুজনে মিলে প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য বিয়ের নাম করে সহজ সরল মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এই পর্যন্ত সোহাগ মিয়া সহ মোট নয় জনকে বিয়ে করে প্রতারক সুরমা৷
কোনও উপায় না পেয়ে রামপুর গ্রামের ০১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মোঃ রজব আলী ও ০২ নং বড় ভাকৈর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আশিক মিয়াকে জানালে বিষয়টি এড়িয়ে যান ও অসম্মতি প্রকাশ করেন৷