ধর্ম যার যার উৎসবও তারই | -সালীম অাহমাদ

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

অক্টোবর ১৬ ২০১৮, ১২:৫৫

অামাদের সেক্যুলার বুদ্ধির খয়রাতীরা মুখরোচক মন্ত্র বাজারে ছেড়েছে;“ধর্ম যার যার,উৎসব সবার”…।
কিন্তু বাস্তবতা হলো ধর্ম যার,উৎসবও তারই।
উৎসব-অানন্দের সংজ্ঞাও সর্বধর্মের মধ্যে সর্বজনগ্রাহ্য নয় ।
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে যা অানন্দের,অন্য ধর্মের অনুসারীর কাছে তা অানন্দের না হয়ে বেদনারও হয়!
মুসলিমদের বৃহৎ ধর্মীয় বিধান কুরবানী।
এ দিন লাখ লাখ গরু জবাই হয় ।
এটা মুসলমানদের কাছে পরম অানন্দের।
অথচ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গরু জবাই করাটা অত্যন্ত বেদনা ও দুঃখের।
কারণ তারা গরুকে দেবতা মনে করে।এটা তাদের ধর্মের বিধান।
অামরা গো’মুত্র,গোবরকে নাপাক ও রুচিবিরুদ্ধ মনে করি।
অথচ হিন্দুদের কাছে এদুটো জিনিস অত্যন্ত পবিত্র এবং নিয়ামতজ্ঞানে ভক্ষণযোগ্য।
হিন্দু বা অন্যান্য বহুশ্বরবাদী ধর্মের বিধানাবলীর মধ্যে প্রধানতম হলো মূর্তি বা প্রতিমা পুজা।
তারা গায়রুল্লাহর সামনে মাথা ঠুকে।মনের ভক্তি,অারজি পেশ করে।
অপরদিকে মুসলিমদের জন্য এ কাজটা অত্যন্ত বেদনার,খুবই যন্ত্রনার,মারাত্মক কষ্টের।
মুসলিম বিধানমতে স্রষ্টা বা প্রভূ একক,তাঁর কোনো শরীক নাই,তিনি নিরাকার,অসীম।
কোনো অাকারে,কোনো সীমানায় তাঁকে অাবেষ্টিত করা যায় না।
স্রষ্টার কর্তৃত্ব,প্রভূত্ব,অারাধনায় কোনো কিছুকেই সামান্যতম অংশীদার সাব্যস্ত করার কোনো অবকাশ নাই।
এটি এমন এক অপরাধ,যা তিনি ক্ষমা করেন না।
একজন মুসলিম যখন দেখে মূর্তির পুজা হচ্ছে।
তখন তার হৃদয়টা বেদনায় চৌচির হয়ে যাবার কথা।
যাতনায় অস্থির হয়ে যাবার কথা।
অথচ পৌত্তলিকদের কাছে এই কাজগুলো{শিরক} কতোইনা অানন্দের!
২.
খৃস্টানরা অামাদের নবী সাঃ এর সাথে দুশমনি করে।
মুসলমানদেরকে পৃথিবীছাড়া করতে তারা বদ্ধপরিকর।
কোটি কোটি ডলার খরচ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে।
এটা করে তারা তাদের ধর্মের অংশ হিসেবে,অানন্দ-উৎসবের সাথে।
এখন তাদের এই অানন্দমুখর কাজে কি কোনো মুসলিম শামিল হতে পারে?
হিন্দুদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব;দূর্গাপুজা।
এ কাজে তারা যা কিছু করে,তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে,ধর্মের বিধানানুসারেই করে।
এটি করে তারা অাত্মিক,বাহ্যিক অানন্দ পায়,তৃপ্তি পায়।
তাদের সবগুলো কাজ ইসলাম ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক।
তাই ঐ কাজগুলোর কোনোটাই কোনো মুসলিমের জন্য সমর্থন,অংশগ্রহন করার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না;উৎসব তো হতেই পারে না।
সুতরাং,“ধর্ম যার যার,উৎসব সবার” এটা অবিবেচনাপ্রসূত,ধর্মহীনতাপূর্ণ ভ্রান্ত শ্লোগান।
এ শ্লোগান কোনো মুসলমান তো দিতে পারেই না,ভিন্নধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারী কেউই এ শ্লোগান দিবে না।
যে বা যারা এই জাতীয় চিন্তা পোষণ করে,তারা মূলত সর্বধর্মের সমন্বয় সাধন করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত।
যা কোনো ধর্মেই গ্রহনযোগ্য নয় ।
পাঠক এবার ভেবে দেখতে পারেন,কোনো মুসলিম হিন্দুদের পুজানুষ্ঠানে যেতে পারে কি না,যাওয়া চলে কি না।
৩.
মনে রাখা দরকার,
ধর্ম বলতে বুঝায় জীবনপদ্ধতি।
প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট।
পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুর রয়েছে নিজস্ব সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট।
কোনো কিছুই তার সেই বৈশিষ্টের বাইরে যেতে পারে না।
অাগুনের ধর্ম দাহ্য করে দেওয়া,বাতাসের ধর্ম উড়িয়ে দেওয়া।
সুর্যের ধর্ম তাপ দেওয়া।এভাবে প্রত্যেকটি জিনিসই তার জন্য নির্ধারিত রুলস অব গড এর সীমার মধ্যে অাবদ্ধ।
সেখানে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন জীব;মানুষের জন্য কেন থাকবে না রুলস অব গড {স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত বিধি বা ধর্ম}?
এই রুলস অব গড ই হলো ধর্ম।
এখন জাতিসমূহ বিভিন্ন ধর্মে বিভক্ত।
অতএব,জাতিসমূহের স্বাতন্ত্র্য,অাচরিত কর্মপন্থায় অবশ্যই ভিন্নতা থাকবেই।
মুসলিমদের জন্য যে বিধান প্রদত্ত হয়েছে,তা তাকে মানতেই হবে।
ইসলাম অাক্ষরিক অর্থেই জীবনব্যবস্থা।এর বাইরে কোনো মুসলিম যেতে পারে না।
বস্তুসমূহ যেমন পরষ্পর একে অন্যের গুণের মাঝে দ্রবীভূত হতে পারে না,তদ্রুপ কোনো মুসলিম অন্য কোনো ধর্মের অাচরিত কর্মে নিজেকে কিছুতেই জড়াতে পারে না।জড়ানোর অবকাশ নাই।
সুতরাং,
মুসলিম নামধারী বুদ্ধিজীবীরা যখন এহেন কর্মে উৎসাহ দেখায়,তখন তাদেরকে মুর্খ,বোধবিকারগ্রস্ত ছাড়া অার কি অভিধায় অভিষিক্ত করতে পারি?