তওবা ও পূণ্যময় কর্মের মাধ্যমে শুরু হোক বাংলা নববর্ষ ১৪২৭

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

এপ্রিল ১৪ ২০২০, ০০:২০

•এহসান বিন মুজাহির•

বিদায় ১৪২৬। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৭। বাংলা সনের পহেলা মাস বৈশাখ। বৈশাখকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই গোটা দেশে উদযাপন হয় বিভিন্ন রকমের অনুষ্ঠান। শহরের আনাচে-কানাচে বসে অশ্লীল নাচ-গান ও জুয়ার আসর। আবার কোন কোন স্থানে বৈশাখ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখীমেলা। লটারির নামে চলে ধান্ধাবাজির ব্যবসা। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে থাকে পান্তা-ইলিশের জমজমাট আয়োজন। বিভিন্ন হোটেল ও মেলার রেস্টুরেন্টে থাকে তরুণ-তরুণীদের উপচেপড়া ভিড়। পহেলা বৈশাখের দিন সূর্যোদয়ের পর থেকেই মডার্ণ তরুণরা কথিত বৈশাখী পাঞ্জাবি-পায়জামা ও তরুণীরা লাল-সাদা বৈশাখী শাড়ি পরিধান করে সাজগোজ করে ভিড় জমায় গানের কনসার্ট ও বিনোদন পার্কগুলোতে। জোড়ায় জোড়ায় মিলিত হয়ে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’এইগানে কণ্ঠ মিলায়। অনেক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন হিসাব পহেলা বৈশাখের দিন শুরু করেন। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠনেন আয়োজন করা হয় ‘শুভ হালখাতা’ ও ‘মিলাদ মাহফিল’। মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় মেহমান ও ক্রেতাদের। বৈশাখ আসলে পান্তা-ইলিশ, শুভ হালখাতা, বৈশাখী গান ইত্যাদি অপসংস্কৃতি পালন করা আমারে মুসলিম সমাজেও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

তবে এবছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে র‌্যালিসহ কোন অনুষ্ঠানই পালন করা যাবে না। গণজমায়েত এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সচেতন থাকার জন্য সরকার সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিষেধ করেছে।

বাংলা বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেসব অনুষ্ঠানমালা পালিত হয় এসব কোন মুসলমান এবং বাঙালির সংস্কৃতি হতে পারে না। এসব সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতি নয়; বরং এগুলো পৌত্তলিক সংস্কৃতি। আর এ সংস্কৃতি পালন করে আমরা গর্বের সাথে বাঙালির পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করি না।

বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ বরণের নামে আমরা ভিনদেশী সংস্কৃতি পালনে নিমগ্ন। অথচ বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপন থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’। (সূরা আল ইমরান : ৮৫)।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে মহান আল্লাহপাক সুস্পষ্ট এরশাদ করেন-‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি’। (সূরা মায়িদাহ : ৪৮)। বৈশাখকেন্দ্রিক প্রচলিত সকল বেহায়াপনা ও অপব্যয়ের আয়োজন ইসলামে নিষিদ্ধ। এতে অংশগ্রহণ করাকেও অনৈসলামিক কাজে অংশগ্রহণ করার সমান বলেই বিবেচ্য হবে। বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুকরণ ইসলামে সমর্থিত নয়। এ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫১২)।

হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেন-‘যে ব্যক্তি অনারবীয় দেশে বসবাস করে সে যদি সে দেশের মেহেরজান (নববর্ষ) উদযাপন করে এবং বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমনকি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কেয়ামতের দিন তাকে তাদের (কাফিরদের) সাথে হাশর করা হবে’। (বায়হাকি : ২৭০)।

সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি উদযাপন, বেহায়াপনা এবং অপচয় ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ বলেন-আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ’। (সূরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)।

বাংলা সনের নতুন একটি বছর শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে গত বছরের পর্যালোচনা করে আগামীর সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণে সচেষ্ট হওয়া। নববর্ষকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে শুকরিয়া আদায় করা, নববর্ষের আনন্দ দুঃস্থ-দরিদ্রদের সঙ্গে ভাগ করা, নববর্ষে অভাবী মানুষের খোঁজ-খবর, খাদ্য এবং পোশাক দান করা। পাশাপাশি এই দিনে পেছনের ভুলগুলোর অনুশোচনা ও আত্মসমালোচনা করে আগামী বছরের কল্যাণ কামনা করে সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার।

তাওবাহ, ইস্তিগফার, দোয়া-দরূদ, নফল নামাজ ইত্যাদি ভালো কাজে পুরো দিনকে কাটানো। অথচ বর্ষবরণে আমরা এসব কল্যাণকর কাজের ধারে কাছে না গিয়ে নিত্য-নতুন অশ্লীলতা ও গোনাহের কাজে প্রতিনিয়ত লিপ্ত হচ্ছি! এসব থেকে বেঁেচ থাকতে হবে। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে ইসলামী ভাবধারার সকল সুস্থ সংস্কৃতি পালনের তাওফিক দান করুন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও শিক্ষক