টাঙ্গাইলে নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

আগস্ট ১০ ২০২০, ১৮:৪২

কাওসার আলী, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। তবে জেলায় এখনো ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১১টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে আছে।
বিশেষ করে নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ঘড়-বাড়ি, ফসলী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার পৌর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানি কমলেও কমেনি বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ৯৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার নিমাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হলো- টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর এবং ঘাটাইল। এ ১১ উপজেলার ৯৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৮৪৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে ৬টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ৬ লাখ ১৩ হাজার ২২৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২৪ হাজার ৫০০টি।
আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ৯৮ হাজার। অপরদিকে ৭৮০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ৩৫ হাজার ৯৮৯টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৩১৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনে ১ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ২৩০ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ১১ উপজেলার ৮০৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ১৩ কি.মি. সম্পূর্ণ কাচা রাস্তা এবং আংশিক ৭৯৫ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে সম্পূর্ণ ১ কি.মি. পাকা রাস্তা এবং ১৮৬ কি.মি. আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ২৬টি ব্রিজ এবং আংশিক ১৭৮টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্ণ ১.৮ কি.মি. এবং ১৩ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে টিউওবেল ৯৩৬৮টি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১১ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রের লোক সংখ্যা ৩৯৬জন। ৫টি গবাদি পশুও আশ্রয় নেয়। ১১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া জেলায় ১ হাজার ২শ’ মে.ট্রন জির চাল, নগদ ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্য ৮ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য ১৬ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ১৬ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম এবং দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ১৮ হাজার ১২৬ হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ১৯৮ হেক্টরের উপরে ফসলী জমি নিমজ্জিত নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, লেবু এবং আখ রয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদী ভাঙন তীব্র হবে।