ঘূর্ণিঝড়ের সময় রাসূল (সা:) যা করতে বলেছেন

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

মে ২০ ২০২০, ১২:৩৮

রেজওয়ান উল্লাহ:

প্রাকৃতিক এ মহাবিপর্যয়ে ইতিমধ্যে দেশব্যাপী আতংক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক এমন দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আল্লাহ্ তা’য়ালার ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন,

আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে, তার নির্দেশে বায়ুর দিক পরিবর্তনে এবং তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে।  (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৪)

তবে মানুষের গুণাহ ও কৃতকর্মের কারণেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটে থাকে। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বেশি আশঙ্কা থাকে।

আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। (সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৪১)।

তাই বিভিন্ন হাদিসে রাসূল (সাঃ) প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। রাসূল (সাঃ) নিজেও উম্মতের ওপর এসব দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। এই উম্মতকে যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে একসঙ্গে ধ্বংস করা না হয় এ জন্য রাসূল (সাঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে রাসূল (সাঃ) বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহর শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করতেন এবং সাহাবাদের তা করার নির্দেশ দিতেন। ঝড়-তুফান শুরু হলে রাসূল (সাঃ) মসজিদে চলে যেতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

এ জন্য ঘূর্ণিঝড় আমফান আগমনে আমাদেরও এ আমলগুলোর প্রতি যত্মবান হতে হবে। বিশেষত অতীতের সব গুণাহ ও ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে রাসূল (সাঃ) কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন।

জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে যে দোয়া পড়তে হবে!

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। (আবূ দাউদ ৪/৩২৬, নং ৫০৯৯;  ইবন মাজাহ্ ২/১২২৮, নং ৩৭২৭)

মেঘের গর্জন হলে যে দোয়া পড়তে হবে!

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং পবিত্র কোরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন

ِসুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা`দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি

অর্থ: পাক-পবিত্র সেই মহান সত্তা- তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাঃ) মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গে এই দোয়া করতেন-

আল্লাহুম্মা লা- তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুহলিকনা- বিআ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাব্লা যা-লিকা।

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে তোমার ক্রোধের কারণে মেরে ফেলো না আর তোমার আযাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নাও। (তিরমিজি)

*ঝড় বা বাতাশ থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তে হবে!

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে। (বুখারী, ৪/৭৬, ৩২০৬ ও ৪৮২৯)

আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাদের সব গুণাহ ক্ষমা করে ঘূর্ণিঝড় আমফানসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।