#305F00 Ekushe Journal | গণতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা

গণতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

জুন ১৯ ২০১৯, ১৯:৪৪

আবুল কালেম আদিল
গণতন্ত্র একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। আল্লামা ইকবাল যথার্থ বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে মানুষকে গণনা করা হয়, ওজন করা হয় না।’ গণতন্ত্রে সংখ্যাই বিচার্য। দেশের সবচে অচেতন ও সবচে সচেতন— ভোটদানে দুজনের অধিকার সমান। কোথাও নির্বাচন হলে পরদিন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন হয়, ‘একশ বছরের বৃদ্ধার ভোটদান’। বিবরণ পড়ে জানা যায়, দৃষ্টিশক্তিহীন ও প্রায় চেতনালুপ্ত বৃদ্ধা নিকটাত্মীয়ের সহযোগিতায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সুষ্ঠু ভোটের নিদর্শন হিসেবে এসব ঘটনার উদাহরণ টানা হয়। ভোটদান এ ধরনের মানুষের অধিকার হয় কীভাবে, বোঝা মুশকিল। রাষ্ট্রের পরিচালক নির্বাচনের জন্য সচেতন ও বাহ্যজ্ঞান সম্পন্ন লোকের মতামতই অগ্রগণ্য হওয়া উচিত।

যে দেশের মানুষ যত সচেতন, গণতান্ত্রিকভাবে সে দেশে ভালো শাসক নির্বাচনের সুযোগ তত বেশি। তবে জানা কথা-ই, গড় মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি উন্নত মানের হয় না। আমেরিকাকে মনে করা হয় সচেতন মানুষের দেশ। সে দেশটিই কয়েক বছর ধরে শাসন করছে একজন পাগলা বুড়ো। আসলে গণতন্ত্র এমনই ন্যায্যতার চেয়ে সংখ্যার গুরুত্ব বেশি।

গণতন্ত্র পশ্চিমা প্রজেক্ট। এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাটা নিয়ে তাদের গর্বের শেষ নেই। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে যদি তাদের অপছন্দের দল ও ব্যক্তি ক্ষমতায় চলে আসে, তখন তাদের মধ্যে গণতন্ত্রপ্রেম দেখতে পাবেন না। পশ্চিম গণতন্ত্র চায়, তা যদি পছন্দের ব্যক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পশ্চিমের আস্থাভাজন হওয়ার জন্য গণতন্ত্র করলে কাজ হবে না। পশ্চিমের আস্থাভাজন হতে হলে আগে আস্থা অর্জন করতে হবে, পরে গণতন্ত্র করলেও হবে না করলেও হবে। পশ্চিম লিবিয়ায় গণতন্ত্র চেয়েছে, অথচ মিশর থেকে গণতন্ত্র উচ্ছেদ করতে সাহায্য করেছে।

যেসব দেশে পশ্চিমা প্রভাব বিদ্যমান, সেসব দেশের ইসলামপন্থীদের জন্য এর মধ্যে ভাবনার খোরাক আছে। যদি গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় যেতে চান, আগে পশ্চিমাদের আস্থা অর্জন করুন। তবে সত্য হলো, পশ্চিমাদের আস্থা অর্জন করতে হলে আপনি আর ইসলামপন্থী থাকতে পারবেন না। আর যদি মনে করেন ইসলামপন্থা ছাড়তে পারবেন না, তাহলে গণতন্ত্র করেন আর না করেন সমান কথা।

বিষয়টা এত সহজ নয় আসলে। গণতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ হলেও অনিবার্য বাস্তবতা। ধর্মীয় শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা পৃথিককরণ একটি সেক্যুলার ধারণা। শিক্ষার বিভাজনের মাধ্যমে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম পৃথক করা হয়েছে। সেক্যুলার ধারণা বলে আপনি মাদরাসা-শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন না? হচ্ছেন। বাস্তবতা আপনাকে বাধ্য করেছে। এখন তো পৃথকভাবে সামান্য পরিসরে এবং সীমিত ক্ষেত্রে হলেও ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারছেন। অভিমান করে দূরে সরে গেলে তাও পারবেন না। গণতন্ত্রও এমন একটা ব্যাপার।

গণতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। কিন্তু এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাটাই ‘বর্তমান প্রচলিত’ অন্য তন্ত্রমন্ত্রের চেয়ে তুলনামূলক ভালো, কোনোরূপ নির্বাচন ছাড়া জনগণের ঘাড়ে চেপে বসার তুলনায়। গণতান্ত্রিকভাবে শাসক-নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ বিবেচনার সুযোগ পায় — সুবিবেচনা হোক বা কুবিবেচনা — কিন্তু একজন সেনাপ্রধান ঘাড়ে চেপে বসলে জনগণ কোনোরূপ বিবেচনার সুযোগই পায় না।