করোনা সংক্রামণ এড়াতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটন কেন্দ্রসমূহ বন্ধ ঘোষণা

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

মার্চ ২০ ২০২০, ২০:৩৯

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নিরুৎসাহিতকরনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী অফিসার মাসুদুল হক (ভা.) স্বাক্ষরিত জরুরী গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এখানকার সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও সকল পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার মাইকিংও করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাস্ক বিতরনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া। তিনদিক থেকে ঘিরে রাখা ভারতের ত্রিকোলে এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানান কিছু। চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর রয়েছে এখানে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া একটি ঐতিহ্যগত পর্যটনের গুরুত্ব থাকায় এ সময়টাতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে থাকে তেঁতুলিয়ায়। সারাবিশ্বে মহামারিভাবে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটায় সীমান্তপথসহ পর্যটকদের মাধ্যমে আসার আশঙ্কায় পর্যটনস্পটগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসন হতে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পর দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে শুরু হয়েছে আতঙ্ক। এর অন্যতম আতঙ্ক শুরু হয়েছে এখানকার পর্যটনকেন্দ্র ও বাণিজ্যকেন্দ্র বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে নিয়ে। বন্দরটিতে চারদেশের (ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ) সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইমিগ্রেশন সুবিধা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ করে দেয়ায় বন্দরটি দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যাত্রীপারাপার। কিন্তু ইমিগ্রেশন বন্ধ হলেও এখনো বন্ধ করা হয়নি আমদানি-রপ্তানীর কার্যক্রম। এ আমদানি-রপ্তানীর কার্যক্রমে স্থলবন্দরে প্রতিদিন আড়াইশো থেকে তিনশো পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসছে যানবাহনের চালক-হেল্পার। যদিও তাদের নর্মাল থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও উন্নত কোন যন্ত্র না থাকায় প্রকট আশঙ্কা তৈরি হয়ে বন্দরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের। স্থানীয় লোকজন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষনায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও একমাত্র স্থলবন্দরটির আমদানি-রপ্তানী বন্ধ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মাসুদুল হক জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে হলে জনসমাগম যাতে না হয় সে জন্যই এ ব্যবস্থা। তাই পরবর্তী নিদের্শনা না দেয়া পর্যন্ত পর্যটন স্পট হিসেবে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পিকনিক কর্ণার ও বেরং কমপ্লেক্সসহ উপজেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র সকলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।