উলূমুল হাদীসের পাঠ ১-৭
একুশে জার্নাল
জুলাই ০২ ২০১৯, ১৮:২৪
মুফতী হারুন ইজহার
হাদীসের নতুন শিক্ষাবর্ষে আপনাকে স্বাগতম! অনেক দীর্ঘ তবে সহজবোধ্য লেখাটি শিক্ষার্থী ভাইয়েরা ১/২দিন সময় নিয়ে পড়ে নিতে পারেন। পরবর্তী লেখাগুলো ধারাবাহিক আসবে ইনশাআল্লাহ্।
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -১
হাদীসের পরিভাষাগুলো
কিভাবে আত্মস্থ করবেন?
মুখস্থবিদ্যা এক মারত্মক ক্ষতিকর অনুষঙ্গ। আপনি কখনও না বুঝে হাদীসের বিভিন্ন প্রকার, তার নাম ও সংজ্ঞাসমূহ মুখস্থ করতে যাবেন না।
কোন একটা শাস্ত্রের বিষয়সমূহকে আত্মস্থ করা এবং মনে রাখার কৌশল হলো শাস্ত্রের মূল সূত্রকে বুঝা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ঐ সূত্রের সাথে আবদ্ধ করা।
হাদীসের ভাগ ও প্রকারসমূহ প্রধানতঃ সনদের সংখ্যাগত দিক থেকে। অর্থাৎ প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা একটা বড় ফ্যাক্ট।
কেন সনদের সংখ্যার গুরুত্বটা সর্বাগ্রে?
এর কারণ হলো, যেহেতু কুরআনের মত হাদীস পুরোটই قطعي বা অকাট্য নয় তাই হাদীসের গ্রহণযোগ্যতায় একটা ক্যাটাগরি স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়ে যায়। মানে হাদীসের একটা অংশ ‘কত্ঈ’ আরেকটা ‘যন্নী’ অর্থাৎ যার প্রামাণিকতা অকাট্য নয়।
প্রশ্ন হলো এই কতই’য়্যতের মাপকাঠি কি?
হ্যাঁ, তার মাপকাঠি হলো বর্ণনাকারীর সংখ্যাগত বাহুল্য, মিথ্যার উপর যাদের ঐক্যমত্য নানা কারণে অসম্ভব। কুরআন এজন্যই কত্ঈ’ বা অকাট্য যেহেতু তা বিপুল সংখ্যক বর্ণনার সূত্রে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে।
★হাদীসের যে অংশটি বেশি সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত তাকে متواتر বলা হয়।
এমনটা না হলে তা آحاد বলে পরিচিত।
আগেই বলেছি প্রথমটার প্রামাণিকতা অকাট্য বা قطعي আর দ্বিতীয়টার প্রামাণিকতা অনাকাট্য বা ظني।
★আপনারা জানেন آحاد যদি ৩ বা ততোধিক জনের (মুতাওয়াতিরের সংখ্যার চেয়ে কম)দ্বারা বর্ণনায়িত হয় তাহলে তাকে مشهور, যদি
২ জনের দ্বারা হয় তাহলে عزيز, আর রাবী বা বর্ণনাকারী শুধু ১জন হলে তাকে বলা হবে غريب।
সংখ্যার মাপকাঠিতে ভাগ ও ক্যাটাগরিকৃত হাদীসের উক্ত পরিভাষা ও তার হুকম মুহাদ্দিসীন এবং ফুকাহার উভয় মানহাজে (মৌলিকভাবে) একই, কিছু সমান্য মতের ভিন্নতা ছাড়া।
হাদীসের সনদের সংখ্যাগত উক্ত পরিভাষাগুলো অল্প এবং তা সহজেই মনে রাখার মত এবং এটাতে মানহাজগত মতানৈক্যর প্রবলতাও নেই।
★এখন আমাদের পরবর্তী আলোচনা হবে
ঐ যে آحاد, তার নানা প্রকারের ভাগ এবং তার নানা পরিভাষার আলোচনা।
মনে রাখতে হবে উলূমুল হাদীস বা উসূলু হাদীসের আলোচনায় متواتر নিয়ে বিশদ আলোচনা নেই, এটা নিয়ে মানাহজগত বেশি বিতর্কও নেই। সুস্পষ্ট অকাট্যতার কারণে তার বেশি ক্যাটাগরি ও পরিভাষাও নেই।
★হাদীসের বেশির ভাগ পরিভাষাসমূহ آحاد এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
[মুতাওয়াতিরের হুকম অর্থাৎ তা কিভাবে কাতই’য়্যাতের দ্বারা يقين এর ফায়দা দেয় এ সংক্রান্ত বাকি আলাপ আমরা পরে করব খবরে ওয়াহিদের হুকমের আলোচনার সাথে। ]
পরবর্তী এ শিরোনামে আমরা আপনার কাছে ফিরে আসবো –
“খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহ ”
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -২
খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহ :
এখানেই মানসিক চাপটা চলে আসে। এতগুলো পরিভাষার নাম আর সংজ্ঞাসহ কেমনে মুখস্ত রাখি!
একবার মুখস্ত করি তো কয়েকদিন পর তা বিস্মৃত হই।
তো কি সহজ উপায় আছে যার অবলম্বনে পরিভাষাগুলো সব অথবা বেশিরভাগ আত্মস্থ রাখা যায়?
আমরা আপনার জন্য সে চেষ্টাই করছি।
ইসলামী শরীআহ’র মৌলিক ভিত্তি মুতাওয়াতির /متواتر ‘র উপর প্রতিষ্ঠিত। এককথায় এটা যেহেতু অকাট্য,সুতরাং এখানে নানা রকম শ্রেণি বিন্যাস ও নানা ক্যাটাগরি নির্ধারণের প্রয়োজন পড়েনা। তাই বেশির ভাগ হাদীসের মুসতালাহাত বা টার্ম বা পরিভাষাসমূহ آحاد সংশ্লিষ্ট।
আসুন সে আলাপে চলে যাই!
★এগুলো অর্থাৎ খবরুল ওয়াহিদ প্রথমত দুই প্রকার
১ মকবুল বা সহীহ (مقبول / صحيح)
২ মরদূদ বা জঈফ (مردود/ ضعيف)
★’সহীহ’ কাকে বলে এটা ভাল করে বুঝলে অন্য সব প্রকারভেদ এমনি বুঝে আসবে :
[হাদীস মতে আমলের দাবীদার কতক সরলমনা ব্যক্তি মনে করেন সহিহ মানে সঠিক ও শুদ্ধ হাদীস। আবার তার মাপকাঠি তারা ধরে নেন ঔ সহীহুল বুখারী ওয়া মুসলিম ইত্যাদীকে]
★সহীহ কাকে বলে?
এ সংজ্ঞাটি দেয়া হয় ;
الحديث المسند الذي يتصل سنده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط الى منتهاه ولا يكون شاذا ولا ومعللا( ابن الصلاح)
সংজ্ঞার ভাষা হুবহু মুখস্থ করা জরুরি না। আপনাকে তার মূল কথাটাই বুঝতে হবে এবং সেটা নিজের ভাষায় বললে কোন আপত্তি নেই। মুখস্ত তোতাপাখির পড়াশুনার চাইতে এ পদ্ধতিটাই আপনাকে প্রকৃত আলেম হতে সাহায্য করবে
আসুন!
আমরা উপরের বাক্য বা ইবারতটা মুখস্ত না করে সোজাসুজিভাবে বলি ;
সহিহ হলো যেখানে পাঁচটা শর্ত পাওয়া যাবে। যথা;
1-اتصال السند
ইত্তিসালে সনদ:
অর্থাৎ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যক বর্ণনাকারী সরাসরি তার উপরের বর্ণনাকারী থেকে হাদীসটা রেওয়ায়েত করবেন, সনদের পুরো সিরিয়ালে কোন রাওয়ী বাদ যাবেনা।
2- عدالة الراوي
আ’দালাত:
ঐ বর্ণনাকারীগণ কেউ فاسق/ফাসেক হবেননা, مروؤة/মানবীয় গুণাবলীহীন হবেননা।
3- ضبط الراوي
যাবত :
ঐ সকল রাওয়ীর “নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা’ পূর্ণরুপে বিদ্যমান বলে প্রমাণিত।
4- عدم الشذوذ
শুযুয মুক্তি বা শায না হওয়া :
হাদীসটি অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণিত ।
5- عدم العلة
ই’ল্লাত মুক্তি :
হাদীসটির মধ্যে সূক্ষ্ম কোন সনদগত বা অর্থগত ত্রুটি নেই বলে প্রমাণিত।
★উক্ত পাঁচটি গুণ যথাযথভাবে পাওয়া গেলে তখন হাদীসটি صحيح বলে স্বীকৃত হবে।
যদি সবগুলো গুণ আর কন্ডিশন ঠিক থাকে তবে তৃতীয়টা অর্থাৎ যব্তের মধ্য অল্প সামান্য দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয় তবে সেটা حسن বলে পরিচিত। এটা বলতে গেলে সহীহরই একটা নিচু প্রকার। [ সহীহ আর হাসানের মধ্য লিআইনিহি লিগায়রিহি নামে যে সুক্ষ ক্যাটাগরি গুলো আছে সেটা আপাতত আপনার জন্য অপরিহার্য জানার বিষয় না,পরে আলোচনা হলে চলবে]
★ যদি উক্ত পাঁচটি শর্তের কোনটার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সমস্যা পরিলক্ষিত হয়
তাহলে হাদীস ضعيف বলে ধর্তব্য হবে।
এবার আসুন আপনাকে আমরা বলি ضعيف হাদীসের এতো তাকসীম আর ভাগ এবং এগুলোর গ্রহণযোগ্যতার নানা ক্যাটাগরি কীভাবে সামনে আসলো?
★উক্ত পাঁচটা কন্ডিশনের প্রত্যেকটার বিপরীত বিভিন্ন অবস্থা থেকে হাদীসের বেশির ভাগ অন্যান্য পরিভাষা ও নামগুলোর জন্ম হয়েছে।
১. ইত্তিসালে সনদ
একটা হাদীস সহিহ হওয়ার প্রথম কন্ডিশন ছিল এটা।
বর্ণনাকারী কোন না কোন স্তরে বাদ পড়ে গেল তখন তার কয়েকটা অবস্থা হতে পারে যেমন ;
★مرسل
যদি বর্ণনীকারী তাবেঈ’ সনদের একদম শেষে যে সাহাবির নাম আছে তা বাদ দিয়ে সরাসরি রাসূল (সা.)’র দিকে হাদীসকে সম্বন্ধযুক্ত করেন।
★معلق
যদি বর্ণনাকারী একদম শুরুতে এক বা লাগাতার একাধিক রাওয়ীর/বর্ণনাকারীর নাম বাদ দেন।
★معضل
দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীর নাম সনদের কোন অংশে বাদ গেলে।
★منقطع
সনদের যেকোন অংশে যেকোন ভাবে বর্ণনাকারীর নাম বাদ গেলে।
“”””””””””””””””””””””””””””””
আমাদের পরবর্তী আলোচনা হবে
সহীহের দ্বিতীয় কন্ডিশন অর্থাৎ عدالة الراوي এর বিপরীত মেরু থেকে বের হওয়া পরিভাষা সমূহ।
আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, হাদীসের এসব ইসতিলিহাত আর টার্মগুলো মুখস্ত করার টেনশন না করে সিরিয়াসলি صحيح
‘র ঐ পাঁচটি কন্ডিশনের উপর নজর রাখুন এবং বারবার মনে করুন এগুলো সেই পাঁচটি গেইট যেগুলো দিয়ে বেশির ভাগ পরিভাষাগুলো শাস্ত্রের বাতায়নে প্রবেশ করেছে।
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৩
খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহ :
(যঈ’ফ হাদীসের বাকি অংশ)
আমরা আগেই বলেছি এবং আরেকবার আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, صحيح হাদীসের পাঁচটি শর্তের কোনটার ক্ষেত্রে যদি সুস্পষ্ট সমস্যা পরিলক্ষিত হয়
তাহলে হাদীস ضعيف বলে ধর্তব্য হবে।
উক্ত পাঁচটি কন্ডিশনের প্রত্যেকটার বিপরীত বিভিন্ন অবস্থা থেকে হাদীসের বেশির ভাগ অন্যান্য পরিভাষা ও নামগুলোর জন্ম হয়েছে।
তো আমরা সহীহর প্রথম শর্ত ‘ইত্তিসালে সনদ’র বিপরীতে নির্গত হওয়া নানা অবস্থার প্রেক্ষিতে নানা পরিভাষার কথা আলোচনা করেছি।
এখন আমরা সহীহর দ্বিতীয় শর্ত ‘আদালতে রাওয়ী’ সহ অপরাপর শর্তের বিপরীত অবস্থা থেকে নির্গত হওয়া পরিভাষাগুলো বয়ান করব।
২.
আ’দালত/عدالة الراوي
এ শর্তটি নানা ভাবে উপেক্ষিত হতে পারে।
★موضوع
মিথ্যুক রাওয়ীর বর্ণনা, যে মনগড়া হাদীস রাসূল (সা.)’র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে।
এটা মূলতঃ হাদীসের কোন প্রকারের মধ্যেই পড়েনা।
★متروك
কোন বর্ণনাকারী রাওয়ী যদি মিথ্যার গুণে অভিযুক্ত হয়। [ হাদীসটির বর্ণনাকারী একমাত্র ঐ রাওয়ী,অন্য কেউ নন এবং তা শরীয়াহ্-মূলনীতির বিরোধীও বটে। হাদীসে তার মিথ্যাচার প্রকাশিত না হলেও সাধারণ কথাবার্তায় সে মিথ্যুক হিসেবে পরিচিত]
★منكر
সনদের কোন রাওয়ী এমন হওয়া যার বর্ণনায় ত্রুটি প্রকট হয়, অথবা যার অমনোযোগিতা অধিক হয়, অথবা যার ফিসক প্রকাশ্য হয়।
★رواية المبتدع
রাওয়ী যদি বিদআ’হ্পন্থী হয় তবে এরকম হাদীসের জন্য আলাদা কোন পরিভাষা নেই। তবে এটি মারত্মক মরদূদ বা যঈ’ফ বলে প্রত্যাখ্যাত হবে যদি ঐ রাওয়ী বিদ্আহ্’র প্রচারক হয়।
★رواية المجهول
রাওয়ীর স্বত্ত্বা যদি অজানা হয় ( مجهول العين)অথবা তার অবস্থা যদি অজানা হয়(مستورالحال) তাহলে এমতাবস্থায়ও হাদীস দুর্বল হবে যতক্ষণ না তা নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে স্বীকৃত না হয়।
এরকম হাদীসের কোন পরিভাষাগত নাম নেই। তবে মাজহুলেরই একটি অংশ নিম্নের এ নামে পরিচিত –
★المبهم
অর্থাৎ রাওয়ী নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত না হওয়া। সংগত কারণে এটিও যঈ’ফ বলে গণ্য হবে।
৩.
যবত/ضبط الراوي
[এ শর্তটিতে খুবই অল্প সমস্যা হলে অর্থাৎ নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা ও স্মরণশক্তি পূর্ণরুপে বিদ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে খুব সামান্যতম বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তা যে حسن হিসেবে পরিচিত এ কথা আগেই উল্লেখ হয়েছে]
এ শর্তে বিচ্যুতি যদি প্রকট হয় তাহলে তা যঈ’ফের অন্তর্ভুক্ত হবে। তার পরিভাষাগুলো হলো;
★منكر
এটি যদিও আগে একবার উল্লেখ হয়েছে তথাপি এখানে আবার উল্লেখিত হচ্ছে কেননা মুনকার হওয়ার কারণ যেমন আ’দালত পরিপন্থী ‘ফিসক’ তদ্রূপ তার কারণ হলো যবত পরিপন্থী ‘গলতে ফাহেশ’ ও ‘গফলত’।
উল্লেখ্য যে ‘আদালত’ এবং ‘যবত’ এ দুটো শর্তের লংঘন অনেক সময় এক সাথে হয়, কেননা দুটোর ক্ষেত্রই হলো রাওয়ী। তাই দুটোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে সব সময় আলাদ করা যায়না।
★معلل/ معلول
মুআ’ল্লাল বা মা’লুল পরিভাষাটা ৫ম শর্তের বৈপরীত্য থেকে নির্গত। কিন্তু এটা আবার ৩য় শর্ত অর্থাৎ যবতের সাথেও সংশ্লিষ্ট। তার আলোচনা সামনে আসবে ৫ম শর্তের অধীনে।
★مضطرب
যবতের শর্ত বিনষ্টকারী একটি কারণ হলো مخالفة الثقات অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য রাওয়ীদের বিরোধিতা হয়ে গেলে তার অনেকগুলো নাম আছে যেমন মুদরাজ, মাকলুব ইত্যাদী।
এখানে শুধু আপনাকে প্রসিদ্ধ একটি পরিভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো।
মুদ্তারিব হলো ; যা পরস্পর বিপরীত বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয় এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমতা বিধান করা সম্ভব হয়না। সবদিক দিয়ে সমপর্যায়ের হওয়ার দরুন কোন এক বর্ণনার উপর আরেকটাকে প্রাধান্য দেওয়াও অসম্ভব।
৪.
সুজুয-মুক্ত হওয়া/عدم الشذوذ
★شاذ
উক্ত শর্তের বিপরীত হলে তাকে شاذ বলা হবে।
তার সংজ্ঞায় বলা হয় ;مخالفة الراوي لمن هو اوثق منه অর্থাৎ মকবুল রাওয়ীর বর্ণনা তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাওয়ীর বর্ণনার বিপরীত হওয়া।
৫.
ইল্লাত-মুক্ত হওয়া/عدم العلة
★ معلل
এ শর্তের বিপরীত হলে তাকে معلول/ معلل বলা হবে।
হাদীসর মধ্যে ইল্লত/علة হলো ;
هي عبارة عن اسباب خفية غامضة قادحة فيها (ابن الصلاح)
এমন সূক্ষ্ম ও অদৃশ্যমান কারণসমূহ যা হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত করে।
কোন হাদীস মুআল্লাল হওয়ার এক অন্যতম কারণ হলো وهم অর্থাৎ ভুলবশত কোন সনদ বা মতন বয়ান করা
উল্লেখ্য যে রাওয়ীর যদি وهم এর ত্রুটি থাকে এবং তা আ’লামত দ্বারা প্রমাণিত হয় যেমন মুরসাল বা মুনকাতে’কে তিনি যদি মুত্তাসিল বানিয়ে ফেলেন তাহলে এটা সুস্পষ্ট তৃতীয় শর্ত বা ‘যবত’র লংঘন। তো এক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে কিছু معلل এ দুটো শর্ত মিলে একটা হয়ে গেলো, ঐ যে منكر এর মতো।
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৪
পূর্বেকার আলোচনার
উপসংহার -১
খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহের
★প্রথম ভাগ:
বর্ণনাকারীর সংখ্যা হিসেবে।
এগুলো ছিলো
مشهور
عزيز
غريب
★দ্বিতীয় ভাগ:
বর্ণনাকারীর অবস্থা হিসেবে।
এগুলো ছিলো;
صحيح
ضعيف
যঈ’ফের নানা প্রকার:
ক.
‘সহীহ’র এক নাম্বার শর্ত – اتصال السند এর সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন:
مرسل
منقطع
معضل
معلق
——-
مدلس
معنعن
খ.
দুই নাম্বার শর্ত – عدالة الراوي’র সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন:
موضوع
متروك
منكر
গ.
তিন নাম্বার শর্ত – ضبط الراوي’র সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন:
منكر
معلل
مضطرب
ঘ.
চার নাম্বার শর্ত – عدم الشذوذ’র সাথে সংশ্লিষ্ট,যেমন:
شاذ
চ.
পাঁচ নাম্বার শর্ত – عدم العلة’র সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন:
معلل/معلول
★তৃতীয় ভাগ:
ইসনাদের ‘শেষ’ হিসেবে।এগুলো হলো ;
مرفوع( রাসূল সা.পর্যন্ত)
موقوف(সাহাবী পর্যন্ত)
مقطوع( তাবেঈ’ পর্যন্ত)
বি.দ্র.
আমরা কিছু ইসতিলাহাতের নাম উল্লেখ করিনি ইচ্ছাকৃতভাবে , কেননা মৌলিক পরিভাষার ছকটা আয়ত্ত হলে পরবর্তী কাজ এমনিতেই সহজ।
উপসংহার-২
এই যে যঈ’ফ হাদীসের পরিভাষাগুলো আয়ত্ত করার কৌশল হিসেবে আমরা যে সূত্র কায়েম করেছি তা ছিলো, আগে সহীহ হাদীসের ৫ টি শর্ত মনে রাখা। অতঃপর এগুলোর বিপরীত অবস্থা থেকে কিভাবে পরিভাষাগত নামগুলো তৈরি হয়েছে তা সচেতনভাবে লক্ষ্য করা। আর এমনটা হলে সহজে কেল্লাফতে।
এখন কথা হলো এ সূত্রটি কিন্তু আমাদের মনগড়া না, উসূলে হাদীসের ইমামদের বক্তব্যের সারমর্মটাও কিন্তু আমাদের সূত্রকে সমর্থন করে।
দেখুন ফন্নে হাদীসের দুই প্রসিদ্ধ ব্যক্তি কি বলেন ;
★قال ابن الصلاح :
اماالحديث الصحيح فهو الحديث المسند الذي يتصل اسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط الي منتهاه ولا يكون شاذا ولا معللا
وفي هذه الأوصاف احتراز عن المرسل والمنقطع والمعضل والشاذ وما فيه علة قادحة وما في راويه نوع جرح
وقال ايضا تحت عنوان ” معرفة الضعيف من الحديث” : كل حديث لم تجتمع فيه صفات الحديث الصحيح ولا صفات الحديث الحسن المذكورات فيما تقدم فهو حديث ضعيف
★وقال ابن حجر:
ثم المردود اما ان يكون لسقط من اسناد اوطعن في راو….
وقال ثم الطعن يكون بعشرة اشياء بعضها في القدح من بعض خمسة منها تتعلق بالعدالة وخمسة يتعلق بالضبط
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৫
পাঁচ শর্তের খাম্বার উপর যেভাবে
দাঁড়িয়ে আছে পুরো উলূমুল হাদীসের শাস্ত্র।
[# ইলমু মুস্তলাহিলহাদীস, # ইলমু জারহি ওয়াত্ তা’দীল, # ইলমু ইলালিল হাদীস, # ইলমু আসমাইর রিজাল]
আপনারা ৫ টি শর্তের প্রাথমিক পরিচয় পেয়েছেন। এখন আমরা উসূলে হাদিস শাস্ত্রের ঐ ৫ টি শর্তের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং তার মধ্য থেকে কিভাবে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতির বিষয়াদি বেরিয়ে আসছে তা তুলে ধরব।
আমরা বারংবার সেই প্রসিদ্ধ শর্তগুলোর উপর জোর দিচ্ছি, কেননা শুধু হাদিসের ‘ইসতিলাহাত’ বা টার্ম সমূহ নয়, পুরো উলূমুল হাদিসের শাস্ত্রীয় মূলনীতি সমূহ দাঁড়িয়ে আছে ঐ ৫ শর্তের উপর।(আসলে প্রথম তিনিটি যথা ইত্তিসাল,আদালত,যব্ত হলো প্রধাণ ও মৌলিক)
উলূমুল হাদীস কি কি?
সে গুলো মোটামুটি আপনি বলতে পারেন :
★ক.علم مصطلحات الحديث
পরিভাষা’র জ্ঞান, যার মধ্য দিয়ে হাদীসের সুদ্ধ-করণ আর দুর্বল-করণ প্রক্রিয়াটির ব্যাপারে একটা প্রাথমিক তথ্য অর্জন হয়। এটা একটু বিশ্লেষণধর্মী পাঠ হলে সেটা তখন বলা যেতে পারে أصول التصحيح والتضعيف
আমাদের পূর্বেকার আলোচনায় এ অধ্যায়ের উপর প্রাথমিক আলোকপাত হয়েছে।
★খ. الجرح والتعديل :
রাওয়ী বা বর্ণনাকারীদের ভালমন্দ গুণাবলীর উপর সর্বাত্মক পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা তৈরী করার এক বিশেষ গবেষণার নাম আল্ জারহু ওয়া আত্ তা’দীল।
এখানে সরাসরি বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে এমন ভাবে বিশ্লেষণ করা হয় যেখানে কোন সামান্য ত্রুটিও বাদ পড়েনা।
বলাবাহুল্য, এই যে হাদীসের নানা ক্যাটাগরি নির্ণয়ে যে এক বিশাল শাস্ত্র গড়ে উঠেছে তার মুখ্য চরিত্র হলো ব্যাক্তির আলাপ, অর্থাৎ বর্ণনাকারীর অবস্থার উপরই নির্ভর করে হাদীসের নানা গুনগত রূপান্তর। এজন্য এঅধ্যায়টি একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধর্তব্য।
★গ.علم علل الحديث
এটি হাদীসের সবচে’ সূক্ষ্মতম একটি শাস্ত্র। বিদগ্ধ মুহাদ্দিসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে ধরাপড়া হাদীসের এমন কোন অদৃশ্যমান জটিল কারণ যার দ্বার হাদীসটির উপর ‘দুর্বলতা’ আরোপ করা হয়। যদিও দৃশ্যত সহীহ’র কন্ডিশন গুলো ওখানে বিদ্যমান বলেই মনে হয়। এখানে বর্ণনাকারী রাওয়ীর ব্যাক্তি-আলাপটা আল জারহু ওয়াত তা’দীলের মত সুস্পষ্ট না বরং খুবই জটিল,অস্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ। তাই অন্যান্য অধ্যায়ের মত এটা সকল মুহাদ্দিসের কাজ ছিলনা কোন সময়।
★ঘ.علم اسماء الرجال
হাদীসের রেজাল শাস্ত্র নামে পরিচিত এ বিষয়টিতে বর্ণনাকারীদের সার্বিক পরিচিতি বিশদভাবে আলোচিত হয়। এটা অনেক বড় পরিসরের একটা শাস্ত্র যার আয়ত্ত কঠিন এবং সাধারণত তা দরকারও নেই। তবে অবশ্যই তালেবুল ইলমকে নির্দিষ্ট ও সীমিত পরিসরে তার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কীভাবে? সেটা সময়মত আমরা আলোচনা করব।
উক্ত শাস্ত্রগত বিষয়গুলোর মধ্যে ‘মুসতলাহাত’ সম্পর্কে আপনি জেনেছেন মোটামোটি।
‘আল জারহু ওয়াত্ তা’দীল’ বলতে গেলে প্রথম বিষয়টির জন্য সম্পুরক বিষয়। তাই এটা দ্বিতীয় পর্বে আপনার জন্য জরুরী বিষয়।
‘আল ইলাল’ একটা জটিল ও সূক্ষ্ম শাস্ত্র, যার মধ্যে সাধারণ বোধগাম্য ও সুস্পষ্ট মূলনীতি কম, মুহাদ্দিসগনের ব্যক্তিগত নিপুন রুচী থেকেই মূলত এটা অনেকাংশে নিঃসৃত,এবং এতে দৃষ্টিভঙ্গির মতপার্থক্য স্বাভাবিক।
আর সর্বেশেষ ‘আসমাউর রিজাল’ হলো এক বিশালতম পরিসরের শাস্ত্র যেখানে ইতিহাসের বড় দখল রয়েছে।
সর্বিক বিবেচনায় আমরা আপনার জন্য মুসতলাহাতের আলোচনার পর প্রয়োজনীয়তা বিচারে “আল জারহু ওয়াতা’দীল”কে অগ্রাধিকাররে বিষয় বলে মনে করি। তা ছাড়া এটা বাকি তিনিটি আলোচ্য বিষয়ের তুলনায় ফন্নে হাদীসের জন্য সরাসরি দরকার এমন একটা অধ্যায়। আগেই বলেছি এটা পূর্বে আমাদের মুসতলাহাতে হাদীসের আলোচনার সম্পূরক পর্যালোচনা। এটার দ্বারা আপনার হাদীস সংক্রান্ত ধারণা আর বুঝাপড়া শাণিত হবে।
সাথে থাকুন!
আমাদের পরবর্তী আলাপ ইনশা আল্লাহ
الجرح والتعديل
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৬
বিষয়: আল্ জারহু ওয়াত্ তা’দীল (প্রসঙ্গ : রাওয়ীরضبط/সংরক্ষণ-ক্ষমতা)
আমরা এ শিরোনামটা এভাবেও দিতে পারি;
মকবুল ও গায়রে মাকবুল রাওয়ীর বিবরণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট জারহ-তা’দীলের আলোচনা’।
আমরা এভাবেও বলতে পারি ;
পাঁচ শর্তের ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বয়ান’।
“”””””””””””””””””””””””””””””
বর্ণনাকারীর গুণগত অবস্থার বিচারে হাদীসের শুদ্ধতা ও দুর্বলতার ক্যাটাগরি নিরূপিত হয়।
বর্ণনাকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি যা পূর্বোল্লিখিত পাঁচ শর্তে আমরা পেয়েছি তার অন্যতম ছিল عدالة এরপর ضبط।
আমরা ‘অন্যতম’বলছি, কেননা মূলত ফন্নে হাদীসের কেন্দ্রীয় আলোচনাটা এ দুটো শর্তকে ঘিরেই আবর্তিত। ইবুনস সলাহ বলেন রাওয়ীর এ দুটো গুণের ব্যাপারে জমহুরের ইজমা’ রয়েছে –
أجمع جماهير أئمة الحديث والفقه علي انه يشترط فيمن يحتج بروايته ان يكون عدلا ظابطا لما يرويه. (علوم الحديث. ص:١٠٤)
★প্রথমে ضبط সম্পর্কে বলে ফেলি, কেননা এটার আলোচনার পরিধি সীমিত।
যব্ত মানে কি?
লম্বা লম্বা সংজ্ঞা না দিয়ে এক শব্দে বললে, غفلةবা অমনোযোগিতার বপরীত হওয়াটাই যব্ত।
যেমন খুব সংক্ষেপে عدالت মানে যা فسقএর বিপরীত।
[ আমার মতে কোন শব্দকে দীর্ঘ সংজ্ঞা কিংবা স্থূল শাব্দিক অর্থের চেয়ে তার বিপরীত শব্দের মাধ্যমে পরিচয় করিয় দেয়াটা সহজ, এটা সাহিত্যগত ভাবেও অধিক কার্যকর ]
যা হোক যব্ত এবং গফলত্ হলো পরস্পর বিরোধী শব্দ।
قال في التحرير وان لم يعرف رجحان ضبطه بذالك فغفلة (٢:٢٤٢)
وقال الترمذي في العلل ….او كان مغفلا….( مبادئ علم الحديث. شبيراحمد العثماني)
وقال نورالدين عتر وهذالشرط يستدعي عدم غفلته ( حاشية علي ابن الصلاح .ص:١٢)
এবার আসুন যব্তের মৌলিক অর্থ বুঝার পর তার আলামত সম্পর্লে জেনে নিই।
ইবনুস সলাহ বলেন ;
يعرف كون الراوي ضابطا بان نعتبر رواياته بروايات الثقاة المعروفين بالضبط والإتقان اه (ص:١٠٦)
একজন রাওয়ী ‘জব্ত’র অধিকারী বলে সে সময় জানা যাবে যখন আমরা তার বর্ণনাগুলোকে এমন রাওয়ীদের বর্ণনা সমূহের মাধ্যমে বিচার করব যারা জব্ত এবং ইতকানের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ।
তিনি আরো বলেন ; সুতরাং আমরা যদি উভয়ের মাঝে মিল পেয়ে থাকি চাই তা যদিও অর্থগত দিক থেকে হোক অথবা এমন (শব্দগত) বেশীর ভাগ মিল যেখানে বৈপরীত্যটা খুবই নগণ্য, তাহলে আমরা মনে করব যে রাওয়ী একজন নির্ভরযোগ্য জব্ত ওয়ালা। তবে আমরা যদি দুই বর্ণনার মাঝে বৈপরীত্য বেশী লকৃষ করি তাহলে আমরা তার জব্তের ত্রুটি আছে বলে মনে করব এবং তার হাদীস দ্বারা আমরা প্রমাণ দেবনা।( উলূমুল হাদীস- ইবনুস সলাহ পৃঃ১০৬)
যব্ত দুই প্রকার:
প্রথমত বুকে মুখস্থ ধারণ করা। মানে এমনভাবে মনে রাখা, যখন ইচ্ছা তখনই উপস্থাপন করা যায়।
দ্বিতীয়ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা। মানে হাদীসটি শুনার পর থেকে তা আাদা’ করা পর্যন্ত তা সংরক্ষিত রাখা। (নুখবাতুল ফিকার-ইবনু হাজর)
যব্তের সমস্যটা হতে পারে,স্বভাবগত দুর্বলতার কারণে কিংবা ইচ্ছাকৃত অবহেলার জন্য। (তাওজিহুন্ নজর-আলজাযায়েরী)
দাব্তের শর্তটিতে হাদীসের মা’না বা অর্থ সম্পর্কে রাওয়ীর কতটুকু জ্ঞান থাকা চাই?
এ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের কথ হলো, যদি হাদীসটির বর্ণনা হুবহু শব্দগত না হয়ে বিল মা’না হয় তাহলে রাওয়ীকে অবশ্যই মা’না সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
قال ابن الصلاح: وان كان يحدث بالمعني اشترط فيه مع ذالك أن يكون عالما بما يحيل المعاني( ص:١٠٥)
★সামনের ধাপে আমরা আলোচনা করব عدالة নিয়ে। এটাই আল জারহু ওয়াত্ তা’দীলের মূল আলোচ্য পয়েন্ট।
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ- ৭
বিষয়: আল্ জারহু ওয়াত্ তা’দীল
[প্রসঙ্গ: আল আদালাতু ]
আমরা আবার বলছি উলূমুল হাদীস শাস্ত্রের সকল ফন্নি শাখাগুলো মুলতঃ ঐ পাঁচ শর্ত থেকে নিঃসৃত।
পাঁচ শর্তের অন্যতম ছিল, আদালতুর রাওয়ী। আর এ শর্তটিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে উসূলল ‘জারহি ওয়াত্ তা’দীল’ নামক উলূমুল হাদীসের এই বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ শাখাটি।
আমরা এখানে জারহ-তা’দীলের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হাজির করবনা।
এতটুকু আলোচনা করব যার মাধ্যমে عدالة এর ব্যাপারে একটি মৌলিক ও সংক্ষিপ্ত তবে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়।
عدالة
মানে কি?
একদম সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায়;
বর্ণনাকারী পাপাচারী এবং অভদ্র না হওয়া।
আদালত’কে বুঝার জন্য তার বিপরীত শব্দ আনা হয়েছে ‘ফিসক’। সাথে আরেকটা শব্দ খাওয়ারিমে মুরুওয়ত্-এর কথাও আনা হয়েছে।
পূর্বোল্লিখিত ضبط শব্দের বিপরীত যেমন غفلة রয়েছে তেমনিভাবে عدالة শব্দটির বিপরীতে অন্যতম শব্দ হিসেবে فسق রয়েছে- একথা আমরা আগেই বলেছি।
আমরা এটাও বলেছি শব্দের পরিচয় ও বয়ানে বিপরীত শব্দের উপস্থাপন একটা সহজ ও কার্যকর।


