ইসলামী দলগুলোর উচিত ঐক্যফ্রন্ট ত্যাগ করা -মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ১৭ ২০১৯, ০৪:৪৮

ডেস্ক রিপোর্ট: হেফাজতে ইসলামের আমীর, হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও বর্ষিয়ান আলেমে দ্বীন আল্লামা আহমাদ শফীর একটি বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কটাক্ষ্যমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরীর আরীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে মাওলানা হামিদী বলেন, আল্লামা আহমাদ শফী নিজেই তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে কথার মর্ম বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তিনি নারীদের উচ্চ শিক্ষার বিরুদ্ধে নয়; বরং সহ শিক্ষার বিরুদ্ধে এবং মুসলিম সাবালিকা নারীদের ফরজ পর্দা পালনের কথা বলেছেন। নারীদের যেন ইজ্জত-সম্ভ্রম সম্মান নিয়ে নিরাপত্তার সাথে শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত হয়। তিনি মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষালয়ের ব্যবস্থা করার জন্য গুরুত্ব দিয়েছেন।

আল্লামা আহমাদ শফীর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পর কোনো ঈমানদার মুসলমানের প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। তারপরও কিছু জ্ঞানপাপী বাম ও কথিত নারীবাদীদের সাথে তাল মিলিয়ে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে আল্লামা আহমাদ শফীর দা.বা. কে কটাক্ষ্য ধর্মপ্রাণ মুসলিম জাতি বিস্মিত ও ব্যথিত। আল্লামা আহমাদ শফীকে কটুক্তি ড. কামাল ও ফখরুলের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃ প্রকাশ। ড. কামাল আল্লামা শফীকে নারী বিদ্ধেষী, স্বাধীনতা চেতনা বিরোধী, সংবিধান বিরোধী ও ফতোয়াবাজ এর মত জঘন্য ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা একজন বিজ্ঞ আলেমকে অজ্ঞ বলে প্রমাণের অপচেষ্টা চালিয়েছে যা সহ্য করা যায় না। ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের বক্তব্য একই সূত্রে গাথা।

তাদের এ বক্তব্য প্রমাণ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইসলাম বিদ্বেষীদের নিয়ন্ত্রণে। ইসলাম বিদ্বেষীদের মনোরঞ্জন করে ৯৩ % মুসলমানের দেশে ক্ষশতায় যাওয়ার স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না।

বিবৃতিতে মাওলানা হামিদী ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলকে আল্লাম শফীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় মুসলিম উম্মাহ আপনাদের ক্ষাম করবে না। তিনি বলেন, ড. কামাল আজীবন ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান করে আসছে। আল্লাহ ও রাসূলের দুশমন কাদিয়ানী ও মুরতাদ তসলিমা নাসরিনের পক্ষে মামলার ওকালতি করেছে। ইসলামের দুশমন ইয়াহুদী এবং এনজিওদের পক্ষে দালালী করেছে। নির্বাচনের পূর্বে মির্জা ফখরুল বলেছেন, শরীয়া আইনেকে বিশ্বাস করে না। মূলত বিএনপির আমলেই সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়া হয়েছে।

মাওলানা হামিদী বলেন, ইসলামী দলগুলোর উচিত ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে ত্যাগ করা। ইসলাম বিদ্বেষী সেক্যুলারদের সাথে ঐক্যে থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। বিএনপি যতদিন ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিল তখন জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাত। যখন ইসলামী মুল্যবোধের পরিবর্তে মুনাফেকী সেক্যুলারিজম ও ইসলাম বিদ্বেষীদের সাথে ঐক্য স্থাপন করার কারণে এখন তাদের জামানতও থাকে না।