আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে মাওলানা মুহাম্মদ আলীর মিথ্যা মামলায় বেফাকের নিন্দা

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ২৫ ২০১৯, ১৮:২৮

কক্সবাজার লাইট হাউজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ আলী কর্তৃক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ক্বওমিয়া বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা। একই সাথে মিথ্যা মামলাকারী মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে কক্সবাজার জেলার প্রতিটি ক্বওমী মাদ্রাসায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মাওলানা মুহাম্মদ আলী ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) রামু জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ক্বওমিয়া কক্সবাজার শাখার এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উক্ত সভায় বলা হয়, দুর্নীতির দায়ে বহিস্কৃত কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী নিজের দুর্নীতি, অপকর্ম ঢাকার জন্য একজন বিশ্ববরেণ্য আলেমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এতে ওই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সারাদেশে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে বয়কটের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ক্বওমিয়া কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাফেজ আবদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকে’র মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদ। প্রধান অতিথি মাওলানা যোবায়ের আহমদ বলেন, ক্বওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আন্তরিকতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। ক্বওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্বওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতিটি সরকার যদিও শুধুমাত্র বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ক্বওমিয়াকে দেয়ার কথা হলেও আল্লামা শাহ আহমদ শফী নিজেই দেশের সব মাদরাসা বোর্ডের অধীনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতির আওতায় এনেছেন। যা শাহ আহমদ শফীর উদারতার পরিচয় বহন করে। ‘বর্তমান সময়ের জন্য আল্লামা আহমদ শফী সাহেব একজন মোজাদ্দেদে জমান’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আল্লামা আহমদ শফী না হলে এই স্বীকৃতির জন্য আমাদের অনেক বছর অপেক্ষা করতে হতো।

কক্সবাজার জেলায় মাওলানা পরিচয়ে একজন ব্যক্তি আল্লামা আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মামলা করায় তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন, দূর্ণীতিবাজ ওই মোহাম্মদ আলীর সবধরণের দুর্নীতি সরকারি ভাবে তদন্ত করতে হবে। তিনি মোহাম্মদ আলীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সভায় কক্সবাজার জেলায় বেফাকভূক্ত সব মাদ্রাসার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেফাক জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবরাং মাদরাসার পরিচালক মাওলানা নূর আহমদ, মাওলানা মুনির আহমদ, বেফাক বোর্ডের পরিদর্শক মাওলানা আবদুল ওয়াহাব, বেফাকের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান, হাটহাজারী দারুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম, জোয়ারিয়ানালা মাদরাসার সহকারি পরিচালক মাওলানা আবু বকর, জোয়ারিয়ানালা মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল্লাহ, বাংলাবাজার যায়েদ বিন সাবেত মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুবিনুল হক, বেফাক জেলা হিসাব রক্ষক মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, রামু দাড়িয়ারদীঘি উম্মে আয়মান মহিলা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ক্বেফায়েত উল্লাহ, জোয়ারিয়ানালা দারুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ কামাল আহমদ, পালংখালী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা এমদাদ উল্লাহ, আল ফারুক ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, জোয়ারিয়ানালা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আতিকুর রহমান, কাউয়ারখোপ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আমিনুল হক প্রমুখ।