আল্লামা শফীর উপর মামলা ইসলামি আন্দোলনের কোন সংশ্লিষ্টতা নয়, মামলাটি মাদরাসা সংশ্লিষ্ট

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জানুয়ারি ২৬ ২০১৯, ১৪:৪৬

আল্লামা আহমদ শফীর নামে কক্সবাজার লাইট হাউজ মাদরাসার মুহতামিম ও কক্সবাজার জেলা ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সভাপতি মাও. মোহাম্মদ আলী মামলা করেছেন বলে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ’ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের একাংশ একত্রিত হয়ে মাও. মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমনকি তারা মাও. মোহাম্মদ আলীকে কক্সবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করারও হুমকি দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন যে, মাওলানা মোহাম্মদ আলী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
বেফাকের এই নিউজটি একুশে জার্নালে প্রকাশিত হবার পর ইসলামি আন্দোলনের বিভিন্ন নেতা কর্মী এর প্রতিবাদ করেন।

এ বিষয়ে কথা হয়েছে কক্সবাজার জেলা ইসলামী যুব আন্দোলন চট্রগ্রাম উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক এম ওমর ফারুক আজাদ এর সাথে। তিনি একুশে জার্নালকে বলেন
‘কক্সবাজার লাইট হাউজ মাদরাসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একটি মহল মাদরাসা থেকে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে সরিয়ে দিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে” সর্বশেষ তারা এই ঘটনার সাথে সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুরুব্বী ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জড়িয়েছে! যা মোটেও কাম্য নয়।’

গত ৬ ডিসেম্বর মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আল্লামা আহমদ শফী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিয়ে মাদরাসা থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয় যেখানে বহিস্কারের কারণ হিসেবে তিনি ইসলামী আন্দোলনের সাথে রাজনীতি করেন এটাও দেখানো হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হয় কিন্তু সমাধানের দিকে না গিয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে এমনকি মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল, ক্লাস বর্জন ও আরো অনেক ধরনের তিক্ততার সৃষ্টি হয়।

এরপর মাও. মোহাম্মদ আলী বিষয়টি কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন। (আদালতে মামলা নং-১৯/২০১৯) তাতে আল্লামা আহমদ শফিসহ ৩ জনকে মূল বিবাদী করা হয়। বাকী দুইজন হলেন- মাওলানা হাচ্ছেন মোহাম্মদ দিদার ও মাওলানা ইয়াসিন হাবিব। মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে আরো ১৯ জনকে।

আদালত মাও. মোহাম্মদ আলীকে মাদরাসার মোহতামিম হিসেবে স্বপদে বহাল এর আদেশ দেন। গত সোমবার (২১ জানুয়ারী) কক্সবাজার যুগ্ম-জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক ছৈয়দ মোহাম্মদ ফখরুল আবেদীন এ আদেশ দেন। যেহেতু তাকে বহিষ্কারের চিঠি আল্লামা আহমদ শফী স্বাক্ষরিত ছিল তাই আদালত সেই চিঠিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় এবং সেই চিঠির ঠিকানায় “মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে তার পদ থেকে বহিষ্কার কেন অবৈধ হবে না” তা জানতে চাওয়া হয়। এটাই মুলত “মাওলানা মোহাম্মদ আলী আল্লামা আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন” বলে প্রচারিত হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে মামলাটি ইসলামি আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়,কেবল ব্যক্তি মুহাম্মদ আলী অথবা মাদরাসা সংশ্লিষ্ট বলা যায়।