উৎসবের রকমফের

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

অক্টোবর ০৭ ২০১৯, ১৩:১৩

হুসাইন আহমদ মিসবাহ

উৎসব মানে আনন্দ প্রকাশ ও আনন্দ লাভের মাধ্যম, এক কথায় যাকে বলা যায় আনন্দানুষ্ঠান। ইংরেজিতে একে ‘এ জয়ফুল অব অনারিফিক সেলিব্রেশন’ বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

উৎসব বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে-
ক. আন্তর্জাতিক উৎসব। যেমন “আন্তর্জাতিক মা দিবস” “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” ইত্যাদি। এই বিশ্বজনীন উৎসবগুলো বিশ্বের সকল মানুষের জন্য স্ব স্ব অবস্থানে থেকে যথারীতি পালন করা উচিৎ।

খ. রাষ্ট্রীয় উৎসব। প্রত্যেক স্বাধীন দেশেরই কিছু নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় উৎসব থাকে। যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উৎসব “বিজয় দিবস” স্বাধীনতা দিবস” “জাতীয় শোক দিবস” ইত্যাদি। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য এই দিবসগুলো যথারীতি পালন করা উচিৎ। এই দিবসগুলো অন্য দেশের লোক পালন করে না।

গ. জাতীয় উৎসব। প্রত্যেক জাতীরই কিছু নিজস্ব জাতীয় উৎসব থাকে। যেমন বাঙ্গালীর জাতীয় উৎসবের মাঝে আছে “নবান্ন উৎসব” “বর্ষ বরণ”। বাঙ্গালীরা এসব উৎসব পালন করেন। যারা বাঙ্গালী নন, তারা এই উৎসবগুলো পালন করেন না।

ঘ. ধর্মীয় উৎসব। প্রত্যেক ধর্মের-ই নিজস্ব উৎসব রয়েছে। সকল ধর্মের ধার্মিকরা সেই উৎসবগুলো যথা নিয়মে পালন করেন। যেমন মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের মাঝে আছে, ” ঈদুল ফিতর” “ঈদুল আযহা” ইত্যাদি। যে উৎসবগুলো শুধু মুসলমানরাই পালন করেন এবং মুসলমানদের জন্য পালন করা অপরিহার্য। প্রক্ষান্তরে কোন অমুসলিস এই উৎসবগুলো পালন করেন না।
খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসবের মাঝে আছে “জন্মাষ্টমী” “বড়দিন” ইত্যাদি। যে উৎসবগুলো শুধু খ্রিষ্টানরাই পালন করেন। যারা খ্রিষ্টান নন, তারা এসব পালন করেন না। বিশেষত মুসলমানদের জন্য এসব পালন করা ইসলামি শরইয়া মতে উচিৎ নয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের মাঝে আছে, “দুর্গাপূজা” “কালীপূজা” “সরস্বতীপূজা” ইত্যাদি। যে উৎসবগুলো সনাতনধর্মীরা পালন করেন। অন্য ধর্মাবলম্বীরা সেগুলো পালন করেন না। বিশেষত মুসলমানদের জন্য এসব পালন করা ইসলামি শরইয়া মতে উচিৎ নয়।
তেমনিভাবে বৌদ্ধদের কিছু ধর্মীয় উৎসব আছে, যেগুলো কেবল বৌদ্ধরা পালন করেন। অন্য ধর্মাবলম্বীরা সেগুলো পালন করেন না। বিশেষত মুসলমানদের জন্য এসব পালন করা ইসলামি শরইয়া মতে উচিৎ নয়।
(তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল, দেশে বসবাসরত সকল ধর্মাবলম্বীদেরকে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ ও ব্যবস্থা করে দেওয়া।)

ঙ. দলীল উৎসব। রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক হোক বিভিন্ন দলেরও নিজস্ব উৎসব থাকে। যে উৎসবগুলো দলের সংশ্লিষ্টরা পালন করেন। যেমন “প্রীতি সমাবেশ” “সুধী সমাবেশ” “কর্মী সমাবেশ” ইত্যাদি।

চ. পারিবারিক উৎসব। কখনো কোন পরিবারের উদ্যোগেও উৎবের আয়োজন করা হয়। যেমন “জন্মদিন” “বিবাহ বার্ষিকী” ইত্যাদি। যে উৎসবগুলো পরিবারের লোকেরা আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে নিয়ে পালন করেন।

ছ. ব্যক্তিগত উৎসব। কখনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেও উৎসবের আয়োজন করা হয়। যেমন, “সংবর্ধনা” “একক…. প্রদর্শনী” ইত্যাদি। যে উৎসব ঐ ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট ও দাওয়াতিরা পালন করেন।

পরিশেষে বলা যায়, সকল উৎসব সকলের নয় বরং কিছু উৎসব সকলের। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দিন, আমীন।

লেখক: আলেম, শিক্ষক ও সংগঠক