ইজ্জতের বদহজম

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

নভেম্বর ০৯ ২০১৯, ১৬:২৫

রশীদ জামীল

‘বেগুন স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। বেশি করে বেগুন খাওয়া দরকার’। রাজার কথা শেষ হতেই নাসির উদ্দিন হোজ্জা দাঁড়িয়ে বললেন, ‘অবশ্যই দরকার। বেগুনের গুন বলে শেষ করার উপায় নেই। বেগুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্কের উপকার করে, হজমে সাহায্য করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এত গুন থাকার পরও জিনিসটার নাম বেগুন কেন রাখা হলো- সেটাই হলো কথা’।

কিছুদিন পর রাজা বললেন, ‘বেগুন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বেগুন খাওয়া উচিত না’। নাসির উদ্দিন হোজ্জা বললেন, ‘মোটেও উচিত না। বেগুন খুবই খারাপ একটা সবজি। বেগুন খেলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা হয়। অ্যালার্জিজনিত সমস্যার জন্য বেগুন ভীষণ ক্ষতিকর। আর্থ্রাইটিস বা সন্ধিপ্রদাহ, গলদেশ ফোলা, বমি ভাব, চুলকানি এবং ত্বকের মারাত্নক ক্ষতি করে’।

রাজা বললেন, ‘কী ব্যাপার হোজ্জা! তুমি না সেদিন বেগুনের এত গুন বয়ান করলা’? হোজ্জা বললেন, ‘জাহাপনা! বেগুন আমার কাছে বিষয় না। বিষয় হলো আপনাকে খুশি করা। সেদিন বেগুন আপনার পছন্দ ছিল। আমি বেগুনের গুন গাইলাম। আজ বেগুন আপনার অপছন্দ। সুতরাং খারাপ দিকগুলো তুলে ধরলাম’।


মাইলের পর মাইল সফর করে ইমাম বোখারি এক জায়গায় গেলেন হাদিস সংগ্রহ করতে। ওখানে একজন মুহাদ্দিস আছেন। তাঁর কাছে একটি হাদিস আছে। গিয়ে দেখলেন, ঐ মুহাদ্দিস সাহেব বরশি দিয়া মাছ ধরছেন। হাদিস না নিয়েই ফিরে এলেন তিনি।

জিজ্ঞেস করা হলো, এত কষ্ট করে দিনের পর দিন সফর করে হাদিস আনতে গেলেন। তাঁর সাথে দেখাও হলো। হাদিস না নিয়ে ফিরে এলেন যে?

ইমাম বোখারি বললেন, তার চরিত্রে ধোঁকাবাজির একটা ব্যাপার আছে। সে বরশি দিয়ে মাছ ধরছে। বরশির মাথায় খাবার লাগিয়ে মাছের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। মাছগুলেকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ধোঁকা দিয়ে শিকার করা হচ্ছে। যে লোক মাছের সাথে এমন ধোঁকাবাজি করতে পারে, সে আল্লাহর নবির হাদিসের সাথে কোনো ধোঁকাবাজি করেনি- কীভাবে বুঝব?


বেগুনের গুন গেয়ে দরবারের বেগুন ভাজি খাওয়া হয়েছে। ভাজাপোড়া খেলে বুক তো একটু জ্বলাপোড়া করবেই। আগে ভাবার দরকার ছিল। এখন একটাই উপায়; তওবার অ্যান্টাসিড তালাশ করা।

বরশি-মুখে খাবার দেখেই গপ করে গিলে ফেলার আগে মনে রাখা দরকার ছিল শিকারি ছিপ ধরে যখন টান দেবে- তখন গোঙানির আওয়াজ বের করেও লাভ হবে না। অবশ্য, এমন সিচুয়েশনে গোঙানির শব্দ ঘেউ ঘেউ মতন শুনায় কীনা- আমার জানা নেই।