আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

অক্টোবর ১৫ ২০১৯, ১৩:১০

রশীদ আহমদ নিউইয়র্ক থেকে: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিউইয়র্কস্থ প্রবাসী নাগরিক সমাজ।
গত শনিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এ সমাবেশ করে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বড় আঘাত। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ চূড়ান্তভাবে হুমকির সম্মুখীন। গণতন্ত্রের অনুপুস্থিতি বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবার বিনিময়ে পুরো দেশকে দখলে নিতে চায় প্রতিবেশী দেশ । এসময় বক্তারা ভারতের সাথে দেশ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিলের দাবী জানান। মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড.শওকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড.ওয়াজি উল্লাহ,কমিউনিটি এক্টিভিস্ট গিয়াস আহম্মেদ ,ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর রেস্টোরিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট জসীম উদ্দিন ভূইয়া, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট হুসনে আরা বেগম, মো: শাহাদাত হোসেন রাজু প্রমূখ। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা আমান হোসেন আমান,আবু সাঈদ আহমদ,মনিরুল ইসলাম মুনীর,মাসুম আহমদ,সোহেল আহমদ ও ফারজানা আক্তার মৌ।এছাড়াও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কলেজের বিপুল পরিমাণ ছাত্রছাত্রী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
ড.শওকত আলী বলেন,আমি আমেরিকার অর্থনীতিবিদের তত্ত্বকে ভূল প্রমাণ করেও এদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েছি। কিন্তু আমেরিকানরা আমাকে হত্যা করেনি বরং চাকুরি দিয়েছে।আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত পোষনের কারণে আবরার জীবন দিতে হয়েছে। যা জাতির জন্য চরম দুর্ভাগ্যা।
ড.ওয়াজি উল্লাহ বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক তারপরও আমি এ হত্যাকান্ডের নিন্দা জানাই ,অবিলম্বে খুনীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
গিয়াস আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানানোর অংশ হিসেবেই আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
মানবাধিকার কর্মী ইমরান আনসারী বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চলমান যড়যন্ত্রের একটি পরিকল্পতা ঘটনা। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগনের কণ্ঠকে চিরতরে স্তিমিত  করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন।এসময় তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
জসীম উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ফেনীর বাসিন্দা হিসেবে তিনি উদ্বিগ্ন ফেনী নদীর পানি উত্তোলন করা হলে ওই এলাকার কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মূখে পড়বে।  তিনি অবলম্বে দেশ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিলের দাবী জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খন্দকার বলেন,অনতিবিলম্বে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটের মেধাবী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে  জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি দিতে হবে।পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) এর মুক্তির দাবী করে বলেন,একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে দেশে ফেরার পর এয়ারপোর্ট থেকে আটক করা আসলেই চরম বর্বরতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণ।তিনি অবিলম্বে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)এর মুক্তি দিন নতুবা বর্তমান  অনির্বাচিত সরকার দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।
একুশে জার্নাল/ইএম/১৫-১৬