রাঙ্গামাটিতে ‘সম্মিলিত পার্বত্য সামাজিক সংগঠন পরিষদ’ গঠন

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুলাই ১১ ২০১৯, ১১:৪০

ইমাম হোসাইন কুতুবী

Stand For Rangamati প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার ১০ টি সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে “স্টান্ড ফর রাঙ্গামাটি”। সামাজিক সংগঠন একই ধারায় ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে, উদ্দেশ্য দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সাধারন ও অসহায় জনগনের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একে অন্যের সাথে ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে সেবা পৌছে দেয়া ।

রাঙ্গামাটির যেকোন স্বার্থের প্রয়োজনে একসাথে ঐক্য বজায় রেখে কাজ করার জন্য ঐক্য গঠন করলেন রাঙ্গামাটি জেলা ১০সামাজিক সংগঠনে।

সংগঠনগলো হলো “জীবন”,”স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন”,” স্বপ্নবুনন”, “আলোর ফুল”, “ভোলান্টিয়ার অব বাংলাদেশ”, “রাঙ্গামাটি ব্লাড ফোর্স”, “প্রয়াস রাঙ্গামাটি”, “হৃদয়ে বাঘাইছড়ি”, “স্যালভেশন বাংলাদেশ”, “ঘাসফুল”।

ঐক্যের বিষয়ে সামাজিক সংগঠন “জীবন” এর সাধারণ সম্পাদক সাজিদ বিন জাহিদ বলেন পার্বত্যাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও যেকোন জরুরী ও আপদকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য সমমনা সংগঠনগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। আর Jibon“জীবন” বিশ্বাস করে, সম্মিলিত উদ্যোগ যেকোন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সক্ষম; তাই এই উদ্যোগে আমাদের সম্পৃক্ততা৷

স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি শাখার সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইশতিয়াক আজাদ বলেন আজাদ আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবীর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে বিগত ৬ মাসের কাজের ধারাবাহিকতায় আগ্রহী হলে স্বেচ্ছায় আসবে এবং একটি সমন্বয়ে কাজ করবে।

“স্বপ্নবুনন” এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নূর তালুকদার মুন্না বলেন সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে পার্বত্য এলাকায় সামাজিক সংগঠন সমূহের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান আমাদের মূল লক্ষ্য,এই আহবানে যারা সাড়া দিয়েছেন সকলের প্রতি ধন্যবাদ পোষন করছি এবং অন্যান্য সক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনসমূহের প্রতি আহবান জানাচ্ছি বৃহত্তর স্বার্থে এই ঐক্য সামিল হওয়ার জন্য।এ সম্মিলিত উদ্যোগে আমি ও আমার সংগঠন “স্বপ্নবুনন” এর পূর্ন সহযোগিতা থাকবে।

“আলোর ফুল”এর সমন্নয়ক শহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন পার্বত্যবাসীর সেবায় সামাজিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা সময়ের চাহিদা ছিলো। আর এই ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ায় পার্বত্য এলাকার সংগঠন গুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক ও ঐক্য যেমন সুদৃঢ় হবে তেমনি ঐক্যবদ্ধ স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এর সুফল পাবে পার্বত্য এলাকার জনগন।

“ভোলান্টিয়ার অব বাংলাদেশ”এর সভাপতি তন্ময় বলেন পার্বত্যবাসীর কল্যাণে আমরা “ভিবিডি” সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি টেকসই উন্নয়ন করার লক্ষ্যে। এই সম্মিলিত উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তা আমাদের জন্য আরো সহজ হলো, সম্মিলিত এই উদ্যোগ কে আমরা স্বাগত জানায়।

“রাঙ্গামাটি ব্লাড ফোর্স”এর এডমিন রমজান আলী বলেন আমি মনে করি ২০১৭ সালে মর্মান্তিক পাহাড় ধসে আমরা সামাজিক সংগঠন সমূহ যেমন একযোগে সকল ভেদাভেদ ভুলে কাধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি তেমনি এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরবর্তীতে পার্বত্যঞ্চলে যেকোন সংকট ও দূর্যোগ প্রশমনে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।

প্রয়াস রাঙ্গামাটি”এর সভাপতি সাজিয়া সানজি বলেন সম্মিলিত প্রয়াসে এই উদ্যোগ চমৎকার ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এটির প্রয়োজন পার্বত্যবাসী অনুভব করছিলো, আশা করি সকলের সম্মিলিত কার্যক্রমে উপকৃত হবে পার্বত্যবাসী। আমার সংগঠন “প্রয়াস” এর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

“হৃদয়ে বাঘাইছড়ি” এর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন একমাত্র ঐক্যই হতে পারে যেকোন ক্রান্তিক মুহুর্ত মোকাবেলার মাধ্যম।

আর তাই আমরা পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সংগঠন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, মাদক,ইভটিজিং সহ যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা কে সলীন ভাবে মোকাবেলা করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

“স্যালভেশন বাংলাদেশ” এর সভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন চাহিদার ভিত্তিতে গড়ে উঠা এই সম্মিলিত উদ্যোগে আমি এবং আমার সংগঠন “স্যালভেশন বাংলাদেশ” থাকতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সকলের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

“ঘাসফুল”এর সভাপতি এনাম আহমেদ খান বলেন দীর্ঘ দিনের একটা আশা ছিল রাঙ্গামাটির সেচ্ছাসেবীদের একটা ঐক্যের প্লটফরম হওয়ার, আমি বিশ্বাস করি সবাই এক সাথে মিলেমিশে কাজ করলে রাঙ্গামাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।