হুমায়ূন আহমেদের দ্বীপ কেনার খবরে বিস্মিত হয়েছিলেন সবাই

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুলাই ১৯ ২০২০, ১১:৫৯

শীতের শুরু মানেই সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভিড়। যারাই এক বা দু’রাতের জন্য দ্বীপটিতে বেড়াতে যান ‘সমুদ্র বিলাস’-এ ঢুঁ মেরে আসেন। থাকা হোক আর না হোক, দেখে আসতে তো অসুবিধা নেই। এক পর্যটক একবার গিয়ে হয়তো আবারো যাবেন। কিন্তু বাড়ির মালিক হুমায়ূন আহমেদ এখানে আর আসবেন না, পূর্ণিমার জোয়ারে ভেসে যাওয়া সৈকত দেখবেন না।

দ্বীপের অনেকেই মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদের কারণেই পর্যটকদের নজরে পড়েছে এই দ্বীপ। তার লেখা দারুচিনি দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি উপন্যাস পড়ে দলে দলে তরুণেরা ছুটে এসেছেন এই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই হুমায়ূনের বাড়ি সমুদ্র বিলাসের সামনে খানিকটা হলেও ভিড় দেখা যায়। হুমায়ূনের উপন্যাসের নামে তৈরি করা কটেজগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন পর্যটকরা। যেতেও সময় লাগে না; জেটিঘাট থেকে রিকশা-ভ্যানে মাত্র ১৫ মিনিটে যাওয়া যায় ‘সমুদ্র বিলাস’।

তবে এই বাড়ি কেনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক মিথও। এমনই একটি মিথ হল, লেখালিখি করে উপার্জিত টাকায় আস্ত একটি দ্বীপ কিনেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ! জল্পনারও কমতি ছিল না বিষয়টি নিয়ে। একজন লেখক কতটা বড়লোক হলে আস্ত একটা দ্বীপ কিনতে পারেন! দ্বীপ নিয়ে করবেনই বা কী তিনি! তবে জল্পনার খুব বেশি সুযোগও ছিল না। দূরের মানুষেরা দ্বীপ কেনার খবরে বিস্মিত হলেও, কাছের মানুষেরা ঠিকই জানতেন প্রকৃত তথ্য। কিন্তু কী সেটি?

আদতে তিনি কোনো দ্বীপ কেনেননি। তবে সেন্টমার্টিনে অনেক জমি কিনেছিলেন। সেখানেই থাকার জন্য বাড়ি বানিয়েছিলেন। জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জোলেখা খাতুনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২২ শতক জমি কেনেন হুমায়ূন আহমেদ। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। নাম দেন ‘সমুদ্র বিলাস’। ওই সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক ও মো. উসমানকে বাড়িটি দেখাশোনার জন্য মাসিক বেতনভুক্ত করে দায়িত্ব দেন।

কম-বেশি সবাই জানি এই লেখক নিজে যা করে আনন্দ পেয়েছেন নাটক, সিনেমা বা উপন্যাসে বিভিন্নভাবে তা দেখিয়েছেন ভক্তদের। সুন্দর এই কটেজেরও বর্ণনা দিয়েছেন বিভিন্নভাবে। সমুদ্র বিলাসের কটেজগুলোর নাম দেয়া হয়েছে তার বিভিন্ন উপন্যাসের নামে। যেমন- দারুচিনির দ্বীপ, শ্রাবণ মেঘের দিন, কোথাও কেউ নেই, মিমির আলী আপনি কোথায়, হিমুর মধ্য দুপুর ও আমার আছে জল। এছাড়া শঙ্খনীল কারাগার নামে একটি রেস্তোরাঁ তৈরি এবং ওই এলাকাকে নুহাশ পয়েন্ট নামকরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপের অবস্থান কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণে এ দ্বীপ টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। দ্বীপজুড়ে প্রচুর নারকেল গাছ আছে বলে স্থানীয়দের ভাষায় এ দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত।

দ্বীপের চারপাশেই সাগরের স্বচ্ছ নীল পানির ঢেউয়ের খেলা। প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, কেওড়াবনসহ নানা জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এ দ্বীপ। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি। এ দ্বীপের পাশে ছেঁড়াদ্বীপ নামে আরো একটি ছোট্ট বিচ্ছিন্ন দ্বীপ আছে। এটি বঙ্গপোসাগরের মাঝে জেগে থাকা বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দু। সেন্টমার্টিন থেকে স্পিডবোটে মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় ছেঁড়াদ্বীপে পৌঁছানো যায়।