সত্যের তুলাদণ্ডে কাতেবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রাযি.

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

আগস্ট ২৮ ২০২১, ১৫:১৩

মাওলানা মুফতি রাশেদুল ইসলাম:: পবিত্র মাহে মুহাররম আল্লাহ প্রদত্ত বারটি মাসের অন্যতম একটি মাস। যা হিজরী বর্ষের প্রথম মাস। এই মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় ইয়াওমে আশূরা। যেদিন সংঘটিত হয়েছিল বহু ঐতিহাসিক ঘটনা।

তন্মধ্যে মুসলিম উম্মার জন্য বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা হলো ৬১ হিজরীতে কারবালা প্রান্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনা। যে ঘটনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া, ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ, শিমার , সেনান ইবনে আনাস, হুর ইবনে ইয়াজিদ।

নবীদৌহিত্র জান্নাতি যুবকদের সরদার হযরত হুসাইন (রাযি.) সত্য প্রতিষ্ঠা ও হকের ঝান্ডা বুলন্দ করতে গিয়ে ইয়াজিদের তত্ত্বাবধানে, ইবনে জিয়াদের নির্দেশে হুর বিন ইয়াজিদের নেতৃত্বে পরিচালিত বর্বর হত্যাযজ্ঞে পাষন্ড ও পাশবিক শিমার বিন যিল জিসানের কালো হাতে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন।

সঙ্গে থাকা আহলে বাইতের অনেক নিষ্পাপ শিশু ও অবলা নারীদেরকেও শাহাদত বরণ করতে হয়।

ইয়াজিদ নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে হযরত হুসাইন (রাযি.)এর শাহাদাতের পর ক্ষ্যান্ত হয়ে যায়নি, বরং পবিত্র কুরআন ঘোষিত পবিত্র দুই নিরাপদ নগরী মক্কা ও মদিনায় ইয়াজিদের হাতে বাইয়াত গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন কারীদের দমন-পীড়নের হুকুম দিয়েছিল। ফলে ইয়াজিদের বাহিনী হুদুদে হারাম ও মসজিদে-নববীর কোন প্রকারের ইজ্জত সম্মানের তোয়াক্কা না করে বর্বর কায়দায় জুলুম-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল।

যা ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইয়াজিদ কর্তৃক এসব খেলাফে শরাঈ বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞের কারণে আহলে হক ওলামায়ে কেরামের মতে সে একজন ফাসেক।

আহলে হক ওলামায়ে কেরামের কেউ কেউ তার উপর লা’নত তথা অভিশম্পাত প্রদানকে জায়েয মনে করেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন না। এক্ষেত্রে ইমামে আযম আবু হানিফা রহ. এর আদর্শ ও মাসলাক হল “তাওয়াক্কুফ” তথা ইয়াজিদের উপর লা’নত প্রদানকে জায়েয কিংবা নাজায়েয বলা থেকে বিরত থাকা।

বড় আফসোস ও পরিতাপের বিষয়, শিয়া সম্প্রদায় এবং অনেকটা তাদের মতাদর্শী এদেশের কিছু জ্ঞানকাণ্ডহীন মৌলভীরা মাহে মুহররমে আশূরা উদযাপন ও আহলে বাইতের মান-মর্যাদা বয়ান করতে গিয়ে এবং ইয়াজিদের অপকর্ম ও জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে কাতেবে ওহী আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুয়াবিয়া (রাযি.)কেও গালমন্দ ও কটাক্ষ করে থাকে।

এমনকি হযরত মুয়াবিয়া (রাযি.)এর শানে “মুনাফিক”, “কাফের” ইত্যাদি মারাত্মক আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে থাকে।

যারা হযরত মুআবিয়া (রাযি.)কে সমালোচনা ও গালমন্দের পাত্র বানায়, তারা কখনো হযরত হুসাইন (রাযি.) ও আহলে বাইতের আশেক নয়; বরং তারা হযরত হুসাইন (রাযি.)এর প্রেমের অন্তরালে সাহাবা বিদ্বেষী।

ইয়াজিদের কারণে পিতা মুয়াবিয়া (রাযি.)কে দোষারোপ ও কটাক্ষ করা কখনো জায়েয হতে পারে না এবং এটা কোন মূমিনের আদর্শও হতে পারে না। কেননা, হযরত মুয়াবিয়া (রাযি.) জলিলুল ক্বদর একজন সাহাবীয়ে রাসূল। আর সাহাবাদের সমালোচনা ও গালমন্দ করা থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। যেমন বুখারী ও মুসলিমের হাদীস-

لا تسبوا اصحابي فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার সাহাবীদেরকে গালমন্দ করো না। কেননা, যদি তোমাদের কেউ উহুদের সমপরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় করে, তাহলে তা তাদের একজনের এক মুদ বা তার অর্ধেকও হবে না।

চলবে…

শিক্ষক- আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম-হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।