হত্যাকারীদের আড়াল করতেই সিসিটিভির ফুটেজ দেখাতে চায়নি বুয়েট প্রশাসন’; ভিপি নূর

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

অক্টোবর ০৮ ২০১৯, ১৯:৪২

মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আড়াল করতেই সিসিটিভির ফুটেজ বুয়েট প্রশাসন দেখাতে চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরার ফাহাদের গায়েবানা জানাজার পর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফাহাদ হত্যায় বুয়েট প্রশাসনের সমালোচনা করে নুর বলেন, ছাত্ররা হলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন তাদের দেখতে দেয়নি। আপনারা চিন্তা করেন, কেন তা দেখতে দেয়নি। হত্যাকারীদের আড়াল করতেই সিসিটিভির ফুটেজ দেখতে দেয়নি প্রশাসন।

‘যখন আপনারা রাজপথে নেমে এসেছেন, আমরা প্রতিবাদ করেছি, তখন প্রশাসন চাপে পড়ে। রাতেও ছাত্ররা এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেন। অবশেষে বাধ্য হয়ে প্রশাসন সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণ সমাজ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখে গেছে। তারা প্রতিবাদ করছেন।’

ভিপি নুর বলেন, ‘আপনারা জানেন, আবরারকে কী নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের গুন্ডারা বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘হলে হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, কলেজ কিংবা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতিত হওয়া এ আজ নতুন নয়। ছাত্রলীগের এই নির্যাতন দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।’

‘কিন্তু আমরা দেখি, যখন কোনো ঘটনায় ছাত্রসমাজ উত্তপ্ত হয়, ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে, তখন হয় তো সেই ঘটনার কিছুটা ন্যায়বিচার হয়, কিংবা সেই ঘটনার বিচারকে কালক্ষেপণ করা হয়। যখন ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ থেকে সরে যায় তখন সেই ঘটনাগুলো আড়ালেই রয়ে যায়।’

এ সময় ডাকসু ভিপি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা ও সাম্প্রতিক ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আন্দোলনকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘যখন দেশের ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে, তখন দেখা যায় তড়িঘড়ি করে একটা ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু তার পরেই ছলে-বলে-কৌশলে অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার একটা প্রবণতা থাকে।’

ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভিপি নুর আরও বলেন, গতকাল বুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলনের সময় ‍পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন ছাত্ররা, তখন সকারের পেটোয়ো বাহিনী পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, হামলা করেছে। এমনি আজকেও নোয়াখালীতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, পুলিশের এ হামলা নতুন নয়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের সন্ত্রাসীরা হেলমেট পরে হাতুড়ি দিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা করেছিল। এই পেটোয়া বাহিনী পুলিশ তখন বলেছিল, হেলমেট-হাতুড়ি বাহিনীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

‘কিন্তু যখন ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরে গেল তখন আদৌ কি বিচার হয়েছে? বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য ভাই-বোনকে মামলার শিকার হতে হয়েছে।’

 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো হুজুগে প্রতিবাদ নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা থেকে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিটি অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।