হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা হাবের

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

January 23 2020, 19:13

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে ২০২০ সালের হজে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এ দাবি জানান। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ২০২০ সালে কোনোভাবেই বিমান ভাড়া বাড়ানো যুক্তিযুক্ত হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি বিষয় নিজে প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধান করেন৷ এ কারণেই বর্তমান সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনাকে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলার জালে জড়ানো সমীচীন হবে না৷

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনাসহ সংশ্লিষ্ট সবার গোচরে আনতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। গত বছরের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ বছর আর কোনো ব্যয় বাড়েনি। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সরকার কোনো ট্যাক্স বাড়ায়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যও বাড়েনি।

বরং গতবার জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৭১ সেন্ট। এ বছর তেলের দাম কমে ৫৯ সেন্ট হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে কমেছে ১৩ সেন্ট। তারপরও কেন বিমান ভাড়া বাড়ানো হবে?

হাব সভাপতি আরও বলেন, সরকার হজ প্যাকেজের বিমান ভাড়া নির্ধারণ করে ডেডিকেটেড ফ্লাইটের জন্য। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো একই ভাড়ায় রেগুলার ফ্লাইটেও হজযাত্রী নেয়। বছরের অন্য সময়ে সৌদি আরবের ভাড়া ৪৪ হাজার টাকা থেকে ৫৭ হাজার টাকার মধ্যে। আর আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ফলে হজের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি বিমান ভাড়া হতে পারে না।

জানা গেছে, এবার হজে যেতে যাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। গত ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে ভাড়ার হার বেশি হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রতিবাদে তারা ওই বৈঠক থেকে বেড়িয়ে যান। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরবে যাবেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে হজের কোনো ধরনের চার্জ বাড়েনি, জ্বালানির মূল্য উল্টো কমেছে। ফলে এ বছর বিমান ভাড়া বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা উচিত। পুরো বিষয়টি রিভিউ করে একাডেমিক পর্যালোচনার মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ‘ভালো প্রফিট’ রেখে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া পুনর্নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন হাব সভাপতি।

তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিমান পরিবহন। গত বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্যণীয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিভিন্ন অজুহাতে এ বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিক।

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া গতবারের চেয়েও কমানোর দাবি করে তসলিম বলেন, এ বছর কোনো ব্যয় বৃদ্ধি পায়নি। সৌদি সরকারের কোনো ট্যাক্স বৃদ্ধি পায়নি। বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) তথ্যানুযায়ী, জ্বালানির মূল্যও বৃদ্ধি পায়নি বরং লিটার প্রতি কমেছে ১৩ সেন্ট। বিমান ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি তো পায়ইনি বরং গতবারের চেয়ে অনেক কমেছে। গতবার প্রতি লিটার জেড ফুয়েলের মূল্য ছিল ৭১ সেন্ট, এ বছর তা কমে ৫৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া বিমান ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম আরেকটি কারণ হতে পারে ট্যাক্স বা চার্জ বৃদ্ধি পাওয়া। কিন্তু এ বছর বাংলাদেশ সরকার বা রাজকীয় সৌদি সরকার হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার ওপর কোনো নতুন ট্যাক্স বা চার্জ আরোপ করেনি।

ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে সব হজযাত্রীকে পরিবহন না করার দাবি করে সভাপতি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হজযাত্রী সাধারণ শিডিউল ফ্লাইটে পরিবহন করে থাকে। শিডিউল ফ্লাইটে কম ভাড়ায় সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে হজযাত্রীদের বেশি মূল্যে পরিবহন করছে। ডেডিকেটেড ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটের হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। বছরের অন্য সময়ে ওমরা হজযাত্রীসহ অন্য যাত্রীদের সৌদি আরবে একবার যাওয়া-আসা বিমান ভাড়া ৪৪ হাজার টাকা থেকে ৫৭ হাজার টাকা জানিয়ে তসলিম বলেন, তাই হজের ক্ষেত্রে দুইবার যাওয়া-আসার খরচ হতে পারে ৮৮ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া অন্য দেশ থেকে অনেক বেশি জানিয়ে হাব সভাপতি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে হজযাত্রী পরিবহনে আগ্রহী এয়ারলাইন্সগুলো থেকে দরপত্র আহ্বান করে সর্বনিম্ন বিমান ভাড়া নির্ধারণ এবং তাদের অধিকার ও সুবিধাদি নিশ্চিত করে থাকে। কোনো এয়ারলাইন্সকে দরপত্র ছাড়া হজযাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেয়া হয় না।

সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে আগ্রহী এয়ারলাইন্সগুলো থেকে দরপত্র আহ্বান করে যৌক্তিক পর্যায়ে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা যেমন সম্ভব, তেমনি হজযাত্রীদের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোর সেবা নিশ্চিত করাও সম্ভব। হজ প্যাকেজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ভাড়া কমবে। এরপর আমরা হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করব।

ভাড়া বৃদ্ধির জন্য বিমান কী যুক্তি দিয়েছে জানতে চাইলে শাহাদাত হোসাইন বলেন, বিমান জানিয়েছে ডলার প্রতি মূল্য বেড়েছে ৭৫ পয়সা, এ জন্য তারা ভাড়া বাড়িয়েছে। প্রতি ডলারের দাম ৭৫ পয়সা বাড়লেও একজন হজযাত্রীর ভাড়া সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা বাড়বে। সেখানে ১২ হাজার টাকা বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফারুক আহমেদ সরদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি মো. মাজহারুল হক ভূঁইয়াসহ হাবের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।