স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে- বিলাল আহমদ চৌধুরী

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

ডিসেম্বর ১৮ ২০২০, ২২:১৯

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক বিলাল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলাম প্রিয় সচেতন ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, মাতৃভূমি স্বাধীন হওয়ার পঞ্চাশ বছর পার করছি আমরা। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ দেশের আপামর সকল মানুষের মনে দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌম সত্তার বিশ্বাস সুদৃঢ় হলেও প্রত্যাশিত শান্ত পরিবেশ বাংলায় আসেনি। রাষ্ট্রীয় আদর্শ নির্ণয়ে মত-পার্থক্য শিক্ষানীতির বারবার পরিবর্তন, ঘন ঘন রাজনৈতিক পট বদলানো দেশকে যুদ্ধোত্তর সুস্থ করে তোলায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেও বাস্তব ক্ষেত্রে আমরা তার অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছি বারবার। জাতি হিসেবে আমরা বহুলাংশে অসহনশীল, অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে শিখিনি, এর প্রমাণ দিয়েছি বারবার। মত-পার্থক্যের এই তীব্রতা থাকলেও আমরা মনে করি বর্তমানে বাংলাদেশের সকল নাগরিক ভালোবাসে দেশকে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিপন্ন হোক এটা কারারোই কাম্য নয়। তাই দেশপ্রেমিক সচেতন ছাত্র সমাজকে দেশবিরুধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরোও বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে এদেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজো এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মহানবী মোস্তফা (সা.) মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মৌলিক অধিকার লাভ নিশ্চিত করেন। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান জীবনের এই অপরিহার্য বিষয়গুলো সবার জন্য নির্ধারিত এ ঘোষণা ছিল। তিনি বলেছিলেন : ‘সমাজে যাদের কোনো অভিভাবক নেই, আমি তাদের অভিভাবক’। হজরত উমর (রা.) ছদ্মবেশে রাতের বেলায় সাধারণ মানুষের অভাবের খবর নিতেন এবং প্রয়োজন পূরণ করতেন। তাঁর বক্তব্য ছিল : ‘আমার শাসন আমলে সুদূর ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি খাদ্য অভাবে মারা যায়, তার জন্য শাসক হিসেবে আমাকে পরকালে কৈফিয়ত দিতে হবে।
তাই এদেশের মানুষকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি দিতে হলে ইসলামী সমাজ তথা খোলাফায়ে রাশেদীনের আলোকে একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মানের কোনও বিকল্প নেই।

১৮ ডিসেম্বর, শুক্রবার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উত্তরা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত পুস্পকানন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের বায়তুলমাল ও প্রচার সম্পাদক ও উত্তরা জোন পরিচালক মাহমুদুল হাসান রাসেল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাঈল খন্দকার,
সাবেক সভাপতি মাওলানা আজিজ উল্লাহ আহমদী,
শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জনাব আমীর আলী হাওলাদার, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহাব উদ্দিন আহমদ খন্দকার, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবু সালেহ।

দক্ষিণখান থানা সভাপতি আশরাফ মাহমুদ এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাবেক সেক্রেটারি কাজী জহিরুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি জনাব রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের অফিস ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ত্বহা, খেলাফত মজলিস উত্তরা পূর্ব থানা সভাপতি জনাব এনামুল হক হাসান, জনাব ইবরাহীম খন্দকার, খেলাফত মজলিস ভাটারা থানা সভাপতি মাওলানা আহলুল্লাহ, উত্তরখান থানা সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আকনজি প্রমুখ।