স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

একুশে জার্নাল ডটকম

একুশে জার্নাল ডটকম

সেপ্টেম্বর ০২ ২০২১, ১৪:০৯

খুব তাড়াতাড়ি স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। কিন্তু কমলেও সবাইকে সাবধানে থাকা উচিত। হয়তো লকডাউন তুলে নিয়েছি। কিন্ত স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করব। খুব তাড়াতাড়ি স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি। সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের টিকা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনে প্রয়াত সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সাথে সাথে স্কুলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পরিবারের সবাইকে যেন টিকা দেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন সংস্থা বা স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু কমলেও সবাইকে সাবধানে থাকা উচিত। আমরা লকডাউন তুলে নিয়েছি। এরপরও স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করব। একসাথে যেন বেশি সমাবেশ না হয়। মাস্ক পরে থাকা, হাত ধোয়া, ভাপ নেওয়া, গরম পানির ভাপ এবং গারগেল করা, যখনই কারো সাথে মিশবেন তারপর পরই গারগেল করা এবং ভাপ নেওয়া, হাত ধোয়া এগুলো খুবই দরকার।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতেই দেখতে পাচ্ছি কখনো একেবারে কমে যাচ্ছে, আবার নতুন ভাবে নতুন শক্তিতে এই ভাইরাসটা আসছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। টিকার কোনো সমস্যা নেই। যেখান থেকে যতভাবে পারি টিকা আমরা নিয়ে আসছি।

সংসদ নেতা বলেন, স্কুলের ছেলে মেয়েদের বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা মেনে স্কুলের ছেলে-মেয়েদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। যার জন্য কিছু ফাইজার টিকা ইতোমধ্যে পৌঁছেছে, আরও পৌঁছাবে এবং মর্ডানার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর তাছাড়া অন্যান্য টিকাও তো আসছে। ইতোমধ্যে টাকাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ কোটি টিকার টিকা দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে এগুলো আসতে থাকবে। এগুলো রাখা, দেওয়া সেটার জন্য পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা আমাদের নিতে হচ্ছে। সেটা আমরা করে যাচ্ছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে টিকা দেওয়ার পরেও অনেকের আবার কিন্তু করোনা হয়, কিন্তু সেটা ওতোটা মারাত্মক হয় না। সেই জন্য সবাইকে অনুরোধ করব সাবধানে থাকতে।

তিনি বলেন, যারা জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের যদি করোনা ধরে পরবর্তীতে ধাক্কাটা খুব কঠিন হয়। যাদের জটিল রোগ তাদের আরও সাবধানে থাকতে হবে। করোনা ধরলে ভালো হলেও পরবর্তী অ্যাফেক্ট তার জন্য জীবনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। সেজন্য সকলকে নিজের ভালোটা নিজে বুঝে চলতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার আমরা করে যাচ্ছি। হ্যাঁ আমরা জানি অনেকে বক্তব্যে অনেক কিছুই বলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যদি দেখেন বা অন্য দেশের সাথে যদি তুলনা করেন তাহলে বোঝা যাবে। আর আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এরপরও আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছি অনেক উন্নত দেশও কিন্তু নিতে পারে নাই। এটা হলো বাস্তবতা আমাদের প্রচেষ্টা সব সময় আছে আমরা শুরু থেকেই সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ডেঙ্গু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডেঙ্গুতে অনেক অসুস্থ হচ্ছে। ডেঙ্গুতে সবাই যেন নিজের ঘরবাড়ি যেন একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে কোথাও যেন একটু পানি জমে না থাকে। শুধু ঘরবাড়ি না আশপাশের বাগান ছাঁদ আশপাশের জায়গাগুলি ও যাতে মশা জন্ম না নিতে পারে সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন। এখানে শুধু মশার ওষুধ দিলেই হবে না নিজেদেরও কিছু উদ্যোগ নিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে কোথাও যেন বেশি দিন পানি জমে না থাকে। সবাইকে একুট বিশেষভাবে নিজের স্বার্থে নিজেদের সজাগ থেকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনগুলি বা সরকারের পক্ষ থেকে যা যা উদ্যোগ নেওয়ার আমরা সেটা নিচ্ছি।