সিলেটে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

জুলাই ১৩ ২০১৯, ০৯:০৪

একুশে জার্নাল ডেস্ক: পাহাড়ি ঢল ও ক’দিনের টানা বর্ষণে সিলেট অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে বন্যার পানি। এ অঞ্চলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত প্রধান দু’নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সবক’টি নদ-নদীরই পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক গ্রামে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জে শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বড় নদীগুলোর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার রিডিং অনুযায়ী সিলেটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার ও কানাইঘাটে বিপদসীমার ১৩ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার, শেরপুরে প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ৮ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার ও জকিগঞ্জের আমলশীদে বিপদসীমার ১৫ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জৈন্তাপুরে সারী নদীর পানি বিপদসীমার ১১ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং কানাইঘাটের লোভাছড়ায় বিপদসীমার ১৪ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও উৎমা এবং গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারির সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব পাথর কোয়ারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে ওই নদীর তীরবর্তী এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অসহায় হয়ে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে অসংখ্য মানুষ।

উপজেলার ধলাই নদীর পাশাপাশি পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার সবকটি হাওর এখন পানিতে টুইটুম্বুর অবস্থা। তলিয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলের অনেক সড়ক। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়েও উঠছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় উপজেলার ৬০টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, বন্যাকবলিত কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। গঠন করা হচ্ছে মেডিকেল টিমও।

এদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলায়ও বন্যা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়েছে। ফলে অনেক সড়কে যানবাহন যাতায়ত করতে পারছে না। বন্যার কারণে উপজেলার জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলার ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, উপজেলার নদনদীর পানি এখনো বাড়ছে। তবে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে মোকাবেলা করে দ্রুত রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।