সাত নভেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধা নিধনযজ্ঞ শুরু হয় : আবীর আহাদ

একুশে জার্নাল

একুশে জার্নাল

নভেম্বর ১০ ২০১৯, ০৯:১৬

উনিশশো পঁচাত্তর সালের সাত নভেম্বর : মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে । সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি লেখক গবেষক আবীর আহাদ ।

আলোচনা সভায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বেশ সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের যুবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

সভার সভাপতি লেখক গবেষক আবীর আহাদ তাঁর বক্তব্যে পনেরো আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তেসরা নভেম্বর জাতীয় চারনেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবিপ্লবী অপশক্তি সাত নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তাকে ধ্বংস করার এক উন্মত্ত কার্যক্রম শুরু করে । তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে সব হত্যাযজ্ঞের সামরিক নেতৃত্ব জেনারেল জিয়াউর রহমান হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের হত্যা করেন । জেনারেল জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তীকালে জেনারেল এরশাদ ও খালেদা-নিজামীরা দেশের প্রশাসন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন মুছে ফেলার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা ও চাকরিচ্যুত করেন ।

আবীর আহাদ বলেন, সাত নভেম্বরের অপচেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করার লক্ষ্যে খালেদা-নিজামী সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা এমনকি রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেয় । কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই একই পথ অনুসরণ করে অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সেই সব অমুক্তিযোদ্ধাদের রেখে দেয়ার পাশাপাশি নতুন করে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানো হচ্ছে ! তবে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আন্দোলন ও নানান প্রয়াসের ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু-কন্যার হস্তক্ষেপে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছেদের একটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে । আমরা আশা করি, অচিরেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও তাদের উন্নত আর্থসামাজিক জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু-কন্যা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য । অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সর্ববীর মুক্তিযোদ্ধা হাশেম আলী, বাহারউল্লাহ মজুমদার, খন্দকার জেড ইসলাম মণি, জুলকারনাইন ডালিম, বখতিয়ার রহমান, কাজী লিয়াকত আলী, আজহারুল ইসলাম, টুকু কাজী, রেখারাণী গুণ প্রমুখ । উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের মধ্যে শেখ জাহাঙ্গীর আলম, তাপস বৈদ্য, জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু প্রমুখ ।