সংবাদপত্রকর্মী ও তাদের গাড়ী চলাচল করতে পারবে; লকডাউনের পথে মৌলভীবাজার 

বদরুল আলম চৌধুরী,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে সরকারিভাবে লক ডাউনের কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় যাচ্ছেন লক ডাউনে। বাসাবাড়ি থেকে মানুষ তেমন বের হচ্ছেন না। সবাই আতংকিত সময় পার করছেন। সারা দিন বাসায় বসে টেলিভিশন, ফেসবুক কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে চোখ রাখছেন। বাসাবাড়ীতে বসে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন শহরের লোকজন। এমনটাই জানিয়েছেন শহরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্ধা। বাসায় সময় কাটাচ্ছেন। করোনাভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সচেতনতা হিসেবে এটি করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মব্যস্থ মৌলভীবাজারের চেহারা অনেকটাই পাল্টে গেছে। গত সোমবার মৌলভীবাজারে করোনা সন্দেহে এক নারীর মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়ে আতংক। যুত্তরাজ্য ফেরত ওই মহিলা গত ২০/২৫ পূর্বে দেশে এসেছিলেন। সোমবার ভোররাতে তিনি হটাৎ হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তাররা ওই মহিলাকে মৃত ঘোষনা করেন। তখন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে তড়িঘরি করে দাফনের কাজ সম্পন্ন করে। এরপরে হটাৎ করে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। উনার ব্যাবহ্ত পৌর-শহরের কাশিনাথ রোডস্থ বাসাসহ আশেপাশের ৫টি বাসা হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষনা করে জেলা পুলিশ ।

এরপর জেলা সিভিল সার্জন ড: তওহীদ আহমদসহ ডাক্তারের একটা টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মৃতঃ নারীর ব্যবহ্ত বিভিন্ন জিনিসের আলামত সংগ্রহ করেন। আলামত সংগ্রহ করে বের হওয়ার সময় সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা উনাকে প্রশ্ন করেন -যে নিহত মহিলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কী না ? এ সময় সিভিল সার্জন জানান এখনও নিশ্চিত করে কোন কিছু বলা যাবে না ।

আমরা খুব শিঘ্রই প্রেস বিফ্রিং করে আপনাদের’কে জানাব। এরপর দফায় দফায় সাংবাদিকরা সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করলে সিভিল সার্জন ওই দিনই রাত ১১.২০ মিনিটে জানান -যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। উনারা যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পূর্বের চিকিৎসার সকল প্রকার হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে মহিলা হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরপর ওই দিন রাতেই জেলার বড় বড় মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষনা দেন ব্যবসায়ীরা। এতে আতংক আরেকধাপ বাড়ে মানুষের মাঝে। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ১০দিনের ছুটি ঘোষণা করলেও গতকাল মঙ্গলবার থেকে মৌলভীবাজারে এর প্রভাব পড়েছে। শহর ও শহরতলীর ৯০ ভাগ মার্কেট ও দোকান-পাট বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

শহরের কুসুমবাগ,চৌমোহনা চত্বর, কোর্টরোড,শ্রীমঙ্গল সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে । করোনা আতঙ্ক কেড়ে নিয়েছে ব্যস্থতম শহরের ব্যস্থতম রোড় সেন্ট্রাল রোডের সেই নিত্যদিনের সেই চিরচেনা যানজটও। চৌমোহনা চত্বরে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িগুলোকে আর সঠিক পথে চলার নির্দেশনারও দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না দায়িত্বরত ট্রাফিকদের। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না শহর ও শহরতলীর কেউ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিস বন্ধ হওয়ার কারণে অহেতুক রাস্থায় বের হচ্ছে না কেউই। তবে, করোনা ভাইরাসের কারনে সংবাদপত্রকর্মী ও তাদের গাড়ী চলাচল করতে পারবে।