শরীয়তের দৃষ্টিতে করোনায় আক্রান্ত মৃতব্যক্তির বিধান

•মুুুুুফতি সৈয়দ নাসির উদ্দীন আহমদ•

করোনাভাইরাস বর্তমান সময়ে এটি একটি মারাত্মক মহামারী রোগব্যাধি হিশেবে রূপধারণ করেছে । যার বিস্তার সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে । এই রোগে আক্রান্তে হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন । হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতেছেন । সুস্থ,অসুস্থ,মুসলমান,বিধর্মী সবাই আতঙ্কে জীবন পার করতেছেন । এই কঠিন পরিস্থিতিতে করোনা নামক মহামারী রোগে যে সমস্ত মুসলিম আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন তাদের ব্যাপারে ইসলাম ধর্ম কী বলে ?

তাদের মৃত্যুর মর্যাদা ইসলাম কতটুকু দিচ্ছে?আমরা সে বিষয়টি নিম্নে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা:) হাদিস থেকে জানতে পারি ।

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ الْمَطْعُونُ وَالْمَبْطُونُ وَالْغَرِيْقُ وَصَاحِبُ الْهَدَمِ وَالشَّهِيْدُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

হযরত আবূ হুরায়রাহ্(রাঃ)থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,শাহীদরা পাঁচ প্রকার-(১) মহামারীতে মৃত ব্যক্তি, (২) পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (৩) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি,(৪) দেয়াল চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করে মৃত ব্যক্তি। [সহীহ : বুখারী ২৮২৯, মুসলিম ১৯১৪,)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,ত্বা’উন (মহামারী)’র কারণে মৃত্যু মুসলিমদের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা। (সহীহ : বুখারী ২৮৩০, ৫৭৩২, মুসলিম ১৯১৬,)

উপরোক্ত বর্ণিত হাদিসদ্বয় থেকে আমরা এই আশা ব্যক্ত করতে পারি বর্তমান ভয়াবহ মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে মুসলমান মারা যাবে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে ইনশাআল্লাহ ।

আর আমরা যারা আক্রান্ত হই নাই বা জীবিত আছি তাদের ব্যাপারে হযরত আয়শা (রা:) বর্ণিত হাদিস

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَنِ

الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي أَنَّه عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللّهَ جَعَلَه رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّه لَا يُصِيْبُه إِلَّا مَا كَتَبَ اللّهُ لَه إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْد (رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ)

তিনি বলেন,আমি একবার রাসূলুল্লাহ (সা:)কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন,এটা এক রকম ‘আযাব। আল্লাহ যার উপর চান এ ‘আযাব পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমাত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে,তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব।

(সহীহ : বুখারী ৩৪৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬০,)

সুতারাং আমরা করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখি । এবং নিজেদের খারাপ কৃতকর্ম থেকে তাওবা করে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসি । বেশি করে নেক আমল করি । ইনশাআল্লাহ আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এই কঠিন ভয়াবহ অবস্থা থেকে সুরক্ষা করবেন।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো,করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ পুড়িয়ে ফেলা বা মুসলিম হলে সুন্নাহ্ পন্থায় দাফন কাফন না করার যে আলোচনা বা চেষ্টা হচ্ছে তা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ি কতটুকু যৌক্তিক ও বৈধ ?

আসলে আমাদের এ বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন,ইসলামধর্ম মৃত মানবদেহ পুড়িয়ে ফেলার অনুমতি দেয়নি । মৃতব্যক্তি মুসলিম হোক বা অন্য কোন ধর্মের হোক ।

কেননা জীবিত মানবদেহ যেমন সম্মানিত মৃত্যুর পর তার মৃতদেহও তেমন সম্মানিত ৷ এজনই লাশের সাথে এমন আচরণ করা যে আচরণে জীবিত থাকলে অসম্মান বা কষ্ট পেত তা করা বৈধ নয় ৷

وعن عائشة رضي الله عنها: أن رسول الله ﷺ قال: كسر عظم الميت ككسره حيًّ

(رواه أبو داود ٣٢٠٧)

হযরত আয়েশা(রা:)থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (সা:)

বলেন,মৃতের শরিরে হাড্ডি ভাঙ্গা জীবিত ব্যক্তির শরিরের হাড্ডি ভাঙ্গার মত অপরাধ ৷ (আবু দাউদ শরিফ, হাদিস: ৩২০৭ )

তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক মানব জাতিকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব হিশেবে সৃষ্টি করেছেন ।

মানুষ হিশেবে তাদের পার্থিব জীবনকে যেভাবে মহান আল্লাহ পাক অন্য সবকিছু থেকে আলাদা নীতিমালায় সাজিয়েছেন,তেমনি তাদের পরকালীন জীবেনকেও সমস্ত সৃষ্টিজীব থেকে ভিন্ন নীতিমালায় সাজাবেন।

যেমন:- পার্থিব জীবনে মানুষ সামাজিকজীব হিশেবে বাস করে। একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর তাকে যথাযথ সম্মান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটিতে দাফন করা হয়। অন্যসব প্রাণীদের ক্ষেত্রে এমন সুন্দর নীতিমালা রাখা হয়নি বা এমন করা হয়না ।

কারণ গরু ছাগল কীটপতঙ্গ ইত্যাদির মত মানুষের মরদেহ অযত্নে ফেলে রাখার অনুমতি মহান আল্লাহ পাক দেননি।বরং মানুষ হিশেবে তার মরদেহকে সম্মান ও যত্ন সহকারে মাটিতে গর্ত করে হেফাজত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

চায় সে একজন কাফির বেইমানও যদি হয় তবুও তার ক্ষেত্রে এই হুকুম প্রযোজ্য হবে। তবে একজন মানুষ মুসলমান হলে তার মৃত্যু পরবর্তী মুয়ামালা অন্যসব মানুষের চেয়ে ভিন্ন ও শ্রেষ্ঠ। কারণ ইসলাম ধর্ম মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিশেবে গণ্য করে।ইসলাম ব্যতীত মানুষ দৈহিক অবয়ব থেকে অন্যসব প্রাণীর তুলনায় শ্রেষ্ঠজীব হলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সে চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট।

কেননা ইসলামধর্ম গ্রহণ না করে কোনো মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা মহান আল্লাহর কাছ থেকে পায়না।

সে হিশেবে মুসলমান ও কাফিরদের মাঝে পার্থিব ও পরকালীন বিধিবিধানও ভিন্ন।

যেমন:-একজন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে যে নিয়মে তার মৃত দেহকে দাফন কাফন করা হয় সেভাবে অন্য কোন ধর্মের ক্ষেত্রে হয়না ।

তবে ইসলাম ধর্মে জীবিত মানবদেহ যেমন সম্মানিত মৃত্যুর পর তার মৃতদেহও তেমন সম্মানিত করেছে ৷

বিশেষ করে মুসলমানদের মৃতদেহের সম্মান মর্যাদা অন্যসব ধর্মের চেয়ে বেশি ও আলাদা ।

তাই বলে একজন বিধর্মীর মৃতদেহকে অসম্মানসূচক ও কষ্টদায়ক লাঞ্ছনাকর ব্যবস্থাপনায় দাফন-কাফন করা হোক ইসলাম ধর্ম কিন্তু সেটা চায়না। যদিও এক্ষেত্রে বিধর্মীরা তারা তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে ।

যেমন:- আগুনে পুড়িয়ে কিংবা মেডিসিন দিয়ে আইস মিশিনে রেখে দেওয়া অথবা আধুনিক পদ্ধতিতে গর্তে চাপা দিয়ে রাখা ইত্যাদি নিয়মে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী তাদের মৃতদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায় যা মুলত মানব জাতি হিশেবে সম্মানসূচক ব্যবস্থাপনা নয় ।

তাই তো একজন মুসলমান হিশেবে তার মৃতদেহের সাথে শেষ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর যে পন্থা ব্যবহার করতে ইসলাম ধর্ম নির্দেশ দিয়েছে তা অন্য কোন ধর্ম দিতে পারেনি পারবেও না। কারণ পৃথিবীতে একমাত্র শান্তি ও সুশৃঙ্খল সুন্দর ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ।

যেমন:- একজন মুসলমান মারা গেলে তার অভিভাবক ও আত্মীয় সজনদের উপর যে সমস্ত করণীয় তা হচ্ছে,

প্রথমত:- মায়্যেতকে গোসল দেওয়া জীবিত লোকদের উপর ফরজে কিফায়া । (১)

সুতারাং কোনো মৃত ব্যক্তিকে যদি পানিতে পাওয়া যায় তখনো তাকে গোসল দিতে হবে।আর যদি ফুলে ওঠে ফেটে যায় তবে তার উপর পানি প্রবাহিত করে দিলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত:- মায়্যেতকে গোসল দেয়ার পর তাকে কাফন পরানো হবে। কাফন হবে পুরুষ মৃত ব্যক্তির জন্য তিন কাপড়(ইজার,কামিজ ও চাদর)আর মহিলা মৃতব্যক্তির জন্য পাঁচ কাপড়(কোর্তা,ইজার,ওড়না,চাদর,সিনাবন্দ) যা দ্বারা তার সিনা বেধে রাখা হবে এগুলো হলো সুন্নত

পন্থা ।যদি মেয়েদের ক্ষেত্রে তিন ও পুরুষের ক্ষেত্রে দুই কাপড়ের উপর সীমাবদ্ধ রাখা হয় তাহলে তা জায়েজ হবে। এর চেয়ে কম হলে মাকরুহ হবে। তবে জরুরি অবস্থায় মাকরুহ হবেনা। (২)

তৃতীয়ত :-গোসল দেয়া এবং কাফন পরানোর পর মায়্যেতের উপর জানাযার নামাজ পড়া হবে। কেননা একজন মুসলমান মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজ পড়া মুসলমানদের উপর ফরজে কিফায়া । কিফায়া এজন্য যে,সমস্ত মানুষের উপর ওয়াজিব করা অসম্ভব বা তার মধ্যে কষ্টসাধ্য বিষয় । এজন্য কিছু সংখ্যক মানুষ জানাযার নামায পড়ে নিলে সকলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে । কেউ না পড়লে কিন্তু সবাই গুনাহগার হবে । (৭)

তবে জানাযা বৈধ হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে,মৃতব্যক্তি মুসলমান হওয়া । কেননা কাফিরদের উপর জানাযার নামায পড়া জায়েজ নয় । (৫)

আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

ولا تصل على أحد منهم مات ابدا ولا تقم على قبره انهم كفروا بالله ورسوله(سورة التوبة ٨٤)

দ্বিতীয় শর্ত হলো,মৃতব্যক্তি পবিত্র হওয়া । সুতারাং কেউ যদি গোসল দেয়ার পূর্বে জানাযার নামায পড়া হয় তবে গোসল দেওয়ার পর পুনরায় পড়তে হবে । তৃতীয় শর্ত হলো,জানাযা মুসল্লিদের সামনে হওয়া । সুতারাং গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েজ নেই । (৬)

এমনিভাবে জানাযা যদি মুসল্লিদের পিছনে হয় তবুও জানাযার নামায সহিহ হবেনা।এখন যদি কোন মায়্যেতকে জানাযার নামায আদায় করা ব্যতীত দাফন করা হয় তবে এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম হলো,তার কবরের উপরেই নামাজ পড়া হবে।কবরের উপর জানাযার নামাজ পড়া যাবে যদি প্রবল ধারণা এই হয় যে,তিন দিনের পরও লাশ বিকৃত হয়নি তথা ফুলে ফেটে নষ্ট হয়ে যায়নি তাহলে তার কবরের উপর তিন দিনের পরও নামাজ পড়া জায়েজ আছে । আর যদি প্রবল ধারণা হয় যে,তিন দিনের পূর্বেই লাশ বিকৃত বা নষ্ট হয়ে গেছে তবে এই অবস্থায় কবরের উপর জানাযার নামাজ পড়া বৈধ হবেনা। (৪)

সুতারাং উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী মুসলিমকে সেভাবেই দাফন কাফন করতে হবে যেভাবে একজন স্বাভাবিক মুসলিম মারা গেলে করা হয় ।

তবে হ্যা যদি সেই মৃতদেহ থেকে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে তাহলে দায়িত্বশীলরা প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে দাফন কাফন ও গোসল দেয়ার ব্যবস্থা নিবেন। যেমন:-করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যেভাবে নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন,সেরকম পদ্ধতিতে করোনায় মৃতব্যক্তির গোসল সহ দাফন কাফনের ব্যবস্থা নিতে পারেন।একান্ত যদি গোসল দেয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাহলে পানি ঢেলে দিয়ে সমুগ্র শরীর পাক করাবেন। এতেও যদি সক্ষম না হওয়া যায় তাহলে হাতে পবিত্র বস্তুর গেলাফ লাগিয়ে মৃতদেহকে তায়াম্মুম করাবেন।তবুও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কোন মুসলমান মৃতব্যক্তির লাশ গোসলহীন দাফন কাফন করা যাবেনা । লাশ তো পুড়িয়ে ফেলার অনুমতি প্রশ্নই আসেনা ।

তবে করোনায় মৃত লাশ অতিরিক্ত সংবেদনশীল বিধায় তার জানাযা ও দাফন প্রক্রিয়া যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করে নেওয়া উচিত । জানাযায় অতিরিক্ত লোক সমাগমের জন্য বিলম্বিত না করে স্বাস্থ্যবিভাগের নিয়ম অনুসরণ করে সবর করাই উত্তম হবে। (৮)

আর যদি কোনো কাফির মরে যায় এবং তার কোনো কাফির অভিভাবক না থাকে,বরং মুসলমান অভিভাবক থাকে অর্থাৎ কাফির ব্যক্তির কোনো নিকটতম আত্মীয় মুসলমান হয় তবে এই মুসলমান অভিভাবক দ্রু্ত তাকে নাপাক কাপড় ধোয়ার ন্যায় ধয়ে একটি গর্তে ফেলে আসবে । কেননা হাদিসে এসেছে

ولما مات ابو طالب قال عليه السلام لعلي رضي الله عنه اغسله وكفنه وواره ولا تحدث به حدثا حتي تلقائ:

(فتح القدير ١٣٨/٢ كتاب الصلاة)(مختصر الحكمة النبوية شرح الفقه الاكبر ٣٥٣صفحة)

আবু তালিবের ইন্তেকালের খবর যখন হযরত আলী (রা:) রাসুলুল্লাহ(সা:) কে দিলেন,

তখন তিনি বললেন,তাকে গোসল দাও,কাফন পরাও,এবং জমিনে লুকিয়ে রাখো । এরপর কোনো কথা না বলে আমার নিকট এসো । অর্থাৎ তার নামাজ পড়বেনা ।

রাসুলুল্লাহ(সা:) এর উদ্দেশ্য হলো, সুন্নত পন্থায় দাফন কাফন না করা ।

হিদায়া কিতাবে লিখা আছে গ্রন্থকার বলেন,কাফির মায়্যেতকে নাপাক কাপড়ের ন্যায় ধোয়া হবে । সাধারণ কোন কাপড়ে পেঁচানো হবে, এবং গর্ত খুদে তাতে ফেলে দেওয়া হবে ।

আর যদি কাফির মায়্যেতের কাফির অভিভাবক থাকে তবে মুসলমানদের জন্য উচিত যে,সে কাফির মায়্যেতকে তার কাফির অভিভাবকের নিকট সোপর্দ করা । তারা তার সাথে যা ইচ্ছা মুয়ামালা করবে।(৩)

তাই বর্তমান করোনাভাইরাস জনিত কারণে যদি কোন কাফির মারা যায় তাহলে বর্ণিত পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত । তবে শেষের পদ্ধতির ক্ষেত্রে পরামর্শ থাকবে যথা সম্ভব কাফিররা যেন তাদের কাফির মৃতদেহকে পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত না নেয় ।

(হিদায়া ১ম খন্ড কিতাবুল জানায়িজ বিস্তারিত দেখুন)

(আরো দেখুন ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ৫ম খন্ড,চিহ্ন :-(১) ২৫২ পৃ: (২) ২৫৯ পৃ: (৩)২৮৩ পৃ: (৪)২৮৮,৩১২ পৃ:(৫)২৯০ পৃ:(৬) ৩০৮ পৃ: (৭)৩১৪ পৃ: